দুর্ভোগ ঘোচাতে নিজ খরচে সেতু নির্মাণ করলেন ছাত্রদল নেতা মিনু

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৭

একটি খাল, দুই পাড়ে মানুষের নিত্যদিনের ব্যস্ততা। কেউ যাচ্ছেন বাজারে, কেউ ছুটছেন কর্মস্থলে, কেউবা বই—খাতা হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অথচ মাঝখানের এই খালটি পেরোতে করতে হতো দীর্ঘসময় অপেক্ষা, গুনতে হতো টাকা। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ আর বাড়তি খরচ থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন মধ্যনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। নিজের অর্থে খালের ওপর বাঁশ—কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। যাতে মানুষ বিনা মূল্যে পারাপার হতে পারেন।


মধ্যনগর ও নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জোরখলা এলাকার একটি খালে নির্মিত হয়েছে এই সেতু। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে নির্মাণকাজ শেষ হলে সেটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। গত বছরও একই স্থানে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করে দিয়েছিলেন মিনু।

 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ওই স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে গোদারা পরিচালনা করা হতো। নৌকায় খাল পারাপারের জন্য প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হতো। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন একাধিকবার এই পথ ব্যবহার করা মোটরসাইকেল চালকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হতো। সাধারণ যাত্রীদেরও পড়তে হতো ভোগান্তিতে।

 


একবারের পারাপারের খরচ কারও কাছে সামান্য মনে হলেও প্রতিদিন কয়েকবার যাতায়াত করা মানুষের জন্য তা হয়ে উঠত নিয়মিত বোঝা। বিশেষ করে যাঁদের জীবিকা নির্ভর করে প্রতিদিনের যাতায়াতের ওপর, তাদের কাছে এই খরচ ছিল বাড়তি চাপ। এমন বাস্তবতায় বাঁশ—কাঠের সেতু নির্মাণ করে বিনা মূল্যে পারাপারের সুযোগ তৈরি করেছেন মিনু।


স্থানীয়দের ভাষ্য, মধ্যনগর ও কলমাকান্দার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পথচারীসহ অসংখ্য মানুষ এ পথ দিয়ে চলাচল করেন। শতাধিক মোটরসাইকেলও এই সড়ক ব্যবহার করে কলমাকান্দা—মধ্যনগর যাতায়াত করে। ফলে সেতুটি নির্মিত হওয়ায় নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি চলাচলও সহজ হয়েছে।

 


মোটরসাইকেল চালক হারুন মিয়া বলেন, আমরা এই রাস্তা দিয়ে দিনে পাঁচ—ছয়বার যাওয়া—আসা করি। গত বছর থেকে আমাদের কোনো টাকা লাগছে না। এর আগে প্রতিদিন এই গোদারায় দুই—তিনশ টাকা দিতে হতো। এখন বিনা মূল্যে পার হতে পারছি। এতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।

 

মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ মান্নান বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। গত বছরও মানুষ এখানে বিনা মূল্যে পারাপারের সুযোগ পেয়েছেন। এবারও মিনু নিজের অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করে দেওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারীরা উপকৃত হবেন।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমার বাবা মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সেই আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমিও মানুষের উপকারে আসার চেষ্টা করছি। দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করতে এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানিয়েছি। মাননীয় সংসদ সদস্যও শিগগিরই এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। সামান্য একটি উদ্যোগের মাধ্যমেও যদি মানুষের উপকার করা যায়, সেটিই আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ তায়ালা যত দিন সামর্থ্য দেবেন, তত দিন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার