প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৩
তাহিরপুরে এলাকায় সমালোচনার ঝড়
তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত কয়লা ও চুনাপাথর মজুত রাখার জন্য ভাড়া নেওয়া জমি কৌশলে স্ট্যাম্পমূলে নিজের নামে লিখে নিয়ে দখল করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর জমি ফিরে ফেতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম মো. সামসুল হক মেম্বার। তিনি শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য এবং কলাগাঁও গ্রামের মৃত মামুদ হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ জুন তাহিরপুর সীমান্তবর্তী বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির সংলগ্ন বাগলী মাঝেরকান্দা এলাকার কলাগাঁও মৌজায় ঝিনাইদহের মোশারফ হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে ৫৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে নাজমুল হক। তবে এ জমিটি বিক্রি করার সময় সামসুল হক মেম্বারের কাছে সাত বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন মোজাম্মেল হক। জমি ক্রয় করার পর ভাড়ার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামসুল হককে সেখানে থাকার সুযোগ দেন নতুন মালিক নাজমুল হক। কিন্তু ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলেও জমির দখল বুঝিয়ে দিচ্ছেন না ভাড়া নেওয়া সামসুল হক মেম্বার। উল্টো তিনি এখন জমিটির মালিকানা নিজের বলে দাবি করছেন। এ নিয়ে বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতিতে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয় নি। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়ছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ জায়গার মালিক মোজাম্মেল হক প্রথমে জমিটি সামসুল হকের কাছে সাত বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন এটা সত্য। পরে ভাড়া থাকা অবস্থায় আর্থিক প্রয়োজনে একই জমি নাজমুল হকের কাছে আবার বিক্রিও করে দেন। তারা বলেন, সামসুল হক মেম্বারের এমন কর্মকান্ডে এবং আওয়ামী সখ্যতার কারনে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে জেলা বিএনপি তার মনোনয়ন বাতিল করেছিল। এ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান চান তাঁরা।
জমি বিক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, আমি জমিটি নাজমুল হকের কাছেই বিক্রি করেছি। এর আগে পাথর রাখার জন্য সামসুল হকের কাছে সাত বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছিলাম। এখন মেয়াদ শেষ হলেও সামসুল হক দখল ছাড়ছেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা সামসুল হক মেম্বার বলেন, আমি প্রথমে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে জায়গাটি সাত বছরের জন্য ভাড়া নিয়েছিলাম। পরে মোজাম্মেল হক আমার আগে নাসির উদ্দিন নামে একজনের কাছেও জায়গাটি ভাড়া দিয়েছিলেন। আমি সেখানে পাথর রাখতে গেলে নাসির উদ্দিন বাধা দেন। পরে মোজাম্মেলের পরামর্শে নাসিরকে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করি। এরপর ধাপে ধাপে মোজাম্মেল হককে ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর তিনি স্ট্যাম্পমূলে জায়গাটি আমার নামে লিখে দেন। এখন নাজমুল হককে আরেকটি কাগজ করে দিয়ে আমার সঙ্গে অযথা ঝামেলা সৃষ্টি করাচ্ছেন।
সামসুল হক আরও বলেন, আমি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এ কারণে আমার প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বাগলী চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ সমিতির ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েকবার সালিসে বসেছি। বৈঠকে সামসু মেম্বারের কাগজ এবং নাজমুলের কাগজও আমরা দেখেছি। কাগজের দিক থেকে সামসু মেম্বার একটু এগিয়ে আছে। তবে নাজমুল হকও এখানে ক্ষতিগ্রস্ত। একই জায়গা দুইজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে মনে হচ্ছে। আমরা সব বিবেচনা করে নাজমুল হককে ১১ লাখ টাকা দেওয়ার একটা রায় এনেছিলাম কিন্তু নাজমুল তা মানছেন না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন