তাহিরপুরের পর্যটন সড়কে উন্নয়নকাজ চলছে, বড় পরিবর্তনে লাগবে দুই বছর

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০৮

দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খাসিয়ামারা নদীর সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে। সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও পাঁচ বছরেও পুরোপুরি তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, তাহিরপুরের নীলাদ্রি লেক, শহীদ সিরাজ লেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের সড়ক উন্নয়নেও রয়েছে ধীরগতি ও ভোগান্তির অভিযোগ। এসব সেতু ও সড়কের কাজের অগ্রগতি, বিলম্বের কারণ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদীর সেতু নির্মাণে প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। এর কারণ কী?

মো. আনোয়ার হোসেন: দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটির মূল কাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন দুই পাশে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাট ও সুরক্ষামূলক কাজ বাকি রয়েছে। এক পাশে মাটি ভরাট শেষ হয়েছে, অন্য পাশে কিছু কাজ বাকি আছে। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সাবঠিকাদারের মাধ্যমে এক সপ্তাহের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ করবেন।
সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক টেকসই করতে অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক কাজ প্রয়োজন। এ জন্য সংশোধিত প্রাক্কলন ও ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদনের জন্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সেতুতে মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ পারাপার হচ্ছেন। তাঁদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
মো. আনোয়ার হোসেন: এ মুহূর্তে মই ব্যবহার করে সেতুতে ওঠা উচিত নয়। এতে ঝুঁকি রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। ঠিকাদার জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এক পাশের মাটি ভরাটের কাজ করবেন। সেটি শেষ হলে সাধারণ মানুষ সেতুতে ওঠানামা করতে পারবেন বলে আশা করছি। তবে আপাতত ঝুঁকি নিয়ে মই বেয়ে ওঠা থেকে বিরত থাকা উচিত।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ঠিকাদারের গাফিলতি ও দপ্তরের তদারকির অভাবের অভিযোগ রয়েছে। কাজ শেষ হতে এত সময় লাগছে কেন?
মো. আনোয়ার হোসেন: সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কারণে বছরে সাধারণত তিন থেকে চার মাসের বেশি নির্মাণকাজ করা যায় না। একটি সেতুর কাজ শেষ করার জন্য সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ মাস সময় দেওয়া হলেও এখানকার প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় অতিরিক্ত সময় লাগে। খাসিয়ামারা সেতুর ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: উপজেলা প্রকৌশলী আগামী চার—পাঁচ মাসের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার কথা বলেছেন। এবার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে কি?
মো. আনোয়ার হোসেন: আমরা আশা করছি, এত সময় লাগবে না। সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদন হলে এবং বাকি মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলে সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করতে এক থেকে দুই মাস লাগতে পারে।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: তাহিরপুরের নীলাদ্রি লেকসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রের সড়কগুলো নিয়ে পর্যটকদের দুর্ভোগের অভিযোগ রয়েছে। এসব সড়ক উন্নয়নে এলজিইডির পরিকল্পনা কী?

মো. আনোয়ার হোসেন: তাহিরপুরসহ হাওরাঞ্চলের সড়ক উন্নয়নে ‘হাওর অঞ্চলের উড়াল সেতু ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় কাজ চলছে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের শেষ দিকে শুরু হয়। জরিপ, প্রাক্কলন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কারেন্টের বাজার থেকে লাউড়েরগড়, শিমুল বাগান ও মহেশখোলা হয়ে মধ্যনগর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে বাদাঘাট হয়ে সংযোগ সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
প্রকল্পে মোট ২২টি প্যাকেজ রয়েছে। এর মধ্যে ২০টির চুক্তি হয়েছে। একটি প্যাকেজ অনুমোদন পেলেও এখনো চুক্তি হয় নি। আরেকটি বড় প্যাকেজ দরপত্রসংক্রান্ত জটিলতা ও আদালতে মামলা থাকায় আটকে আছে। চুক্তিবদ্ধ প্যাকেজগুলোর মধ্যে চারটির কাজ শেষ হয়েছে এবং অন্যগুলোর কাজ চলমান।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পর্যটন মৌসুমে হাজারো মানুষ এসব এলাকায় যাতায়াত করেন। চলমান নির্মাণকাজের কারণে তাঁদের ভোগান্তি হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কী?

মো. আনোয়ার হোসেন: সড়কে নির্মাণকাজ চলার সময় কিছু সাময়িক দুর্ভোগ হয়। যেখানে মাটি কাটা বা সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে, সেখানে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হতে পারে। তবে আমরা ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দিচ্ছি। প্রকল্পের অর্থায়নে সমস্যা নেই। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করাই আমাদের লক্ষ্য।
আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। তখন পর্যটকেরা আরও সহজে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারবেন।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সেতু নির্মাণে বিলম্ব ও পর্যটন এলাকার সড়কের দুরবস্থা নিরসনে আগামী ছয় মাসে কী ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারবেন?

মো. আনোয়ার হোসেন: আগামী ছয় মাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। তাহিরপুরের জাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর কাজেও সমস্যা হয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কাজ না এগোনোয় চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে। পরে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে সেতুর পাঁচটি গার্ডার পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে নতুন করে প্রাক্কলন তৈরি করে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সেতুটির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
তবে সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে আরও সময় লাগবে। এ ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন বলে মনে করছি।

দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সেতু ও সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং যোগাযোগ সহজ করা। কাজের গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে আপনাদের ভূমিকা কী হবে?
মো. আনোয়ার হোসেন: আমরা ঠিকাদারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। এসব কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, পাশাপাশি পর্যটন খাতও উপকৃত হবে। সেতু ও সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোই আমাদের লক্ষ্য।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার