প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৬
তাহিরপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে কৃপেশ চন্দ্র রায় (৪০) নামে চাকরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে আটক কৃপেশ রায়ের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
আটক কৃপেশ চন্দ্র রায় রাজারগাঁও গ্রামের ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের চাকরিতে ছিলেন। সম্প্রতি কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, রবিবার সকাল ৯টার দিকে ‘Kripash Ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কৃপেশ রায়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)—কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট প্রচার করা হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে স্থানীয় মুসল্লি ও জনতা তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। তারা উত্তেজিত মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে পুলিশ কৃপেশ রায়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, ‘Kripash Ray’ নামের ফেসবুক আইডিটি তাঁর নয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার ও তার স্ত্রী—সন্তানের ছবি ব্যবহার করে আইডিটি খুলে তাকে ফাঁসানোর জন্য আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি ২৫ অক্টোবর তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে দাবি করেন। কৃপেশের পরিবারও জানিয়েছে, তার কাকাতো ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। হয়তো তারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে তাকে ফাঁসাতে পারে।
স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, পুলিশ প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ফেসবুক আইডিটির প্রকৃত মালিক ও পরিচালনাকারীকে শনাক্ত করা। কারা এ ধরনের পোস্ট দিয়েছে এবং এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা দ্রুত জনসম্মুখে পরিষ্কার করা। অন্যথায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, মুসলিম—হিন্দু আমরা ভাই ভাই। এখানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। যিনি অপরাধ করেছেন, তার বিচার প্রচলিত আইনেই হবে। তিনি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয় কিংবা বাড়িঘরে হামলা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের চাকরিতে ছিলেন। কয়েক মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর কর্মস্থলে যোগ দেন নি। তিনি আরও বলেন, কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটি তার নয়, এ বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ আইডিটির প্রকৃত পরিচয় ও এর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন