জামালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৮

জামালগঞ্জে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও খাদ্যে ভেজালবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে বিএনপির এক নেতার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

 


সোমবার দুপুরে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক। সভা শুরুর দিকে মঞ্চে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তারা বসে থাকায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বসার জায়গা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় কয়েকজন চেয়ারম্যান সভাস্থল থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে বিষয়টি ইউএনওর নজরে আসে। পরে তাঁর মধ্যস্থতায় মঞ্চ থেকে অধিকাংশ ব্যক্তিকে নামিয়ে সামনের সারিতে বসার ব্যবস্থা করা হয়। মঞ্চে রাখা হয় জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইজুর রহমান (ফয়েজ) এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. শফিকুর রহমানকে।

 


পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর দাদা, বাবা ও ছোট ভাই একাধিকবার উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজেও উচ্চশিক্ষিত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক ডেভিল চেয়ারম্যানকে যখন মঞ্চে বসে থাকতে দেখি, তখন দুঃখ হয়।’
এ বক্তব্যের পর সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া ও ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাঁরা সভায় এসেছেন। তাঁদের বংশমর্যাদাও কোনো অংশে কম নয় বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। এ নিয়ে সভায় হট্টগোল শুরু হয়।

 


এ সময় সভায় উপস্থিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহ মো. শাহজাহান চেয়ারম্যানদের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বলেন, তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখানে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি মাসুম মাহমুদ তালুকদারের দাদা ও বাবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যেও সভায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 


পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা উভয় পক্ষকে শান্ত করলে সভার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সভা শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি পূজামণ্ডপকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জনকারী সাচনা বাজারের জগন্নাথ জিউর মন্দিরকে ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কদমতলীর মণ্ডপকে ৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ফেনারবাক ইউনিয়নের বিনাজুড়া দুর্গাপূজা মণ্ডপকে ৩ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।
সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পীযূষ কান্তি মজুমদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ছাব্বির সারোয়ার, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. খালেদ আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব, ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজিজুর রহমান ও আজাদ হোসেন বাবলু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমরেন্দ্র আচার্য সম্ভু, সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার রায় এবং উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক পীযূষ কান্তি তালুকদারসহ উপজেলার ৫৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার