প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪১
ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক—নির্বাচনী পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ৩০ শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার থেকে বিদ্যালয়টিতে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হলেও ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এতে তাদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এ বিদ্যালয়ের ১১১ জন শিক্ষার্থী প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের সবাই প্রাক—নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে বাকি শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও ওই ৩০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে থেকে যায়।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাক—নির্বাচনী পরীক্ষায় খারাপ ফল করলেই একজন শিক্ষার্থীর সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অনেক শিক্ষার্থী প্রথম পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে ভালো করার চেষ্টা করে। নির্বাচনী পরীক্ষা সেই প্রস্তুতি যাচাইয়ের অন্যতম সুযোগ। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষার্থী অভিভাবক জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয় নি। কেউ কি নিশ্চিত করে বলতে পারেন কোন শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করবে আর কে ফেল করবে? একজন শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এখন নির্বাচনী পরীক্ষাতেই যদি অংশ নিতে না পারে তাহলে এসএসসি পরীক্ষা দেবে কীভাবে? এমন হলে নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ার দরকার কী?’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা বালা তালুকদার বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকেরা মিলে একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত বছরও প্রাক—নির্বাচনী পরীক্ষায় এমন শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ সরকার বলেন, ‘যারা একেবারেই দুর্বল শিক্ষার্থী তাদেরকে নির্বাচনী পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কমিটি, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বুধবার নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে এ বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যালয় কমিটি এমন সিদ্ধান্ত নিলে কমিটি বাতিলও হতে পারে। অনেক সময় প্রাক—নির্বাচনী পরীক্ষায় খারাপ ফল করে শিক্ষার্থীরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পড়াশোনা করে নির্বাচনী পরীক্ষায় ভালো করে। প্রাক—নির্বাচনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা ঠিক হয় নি। এ জন্য প্রধান শিক্ষক ভুল স্বীকার করেছেন। যাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন