প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪৩
তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬—২০২৭ (সিজন—২)’ প্রতিযোগিতার বাছাই কার্যক্রমের প্রথম দিনেই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনা। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে উপস্থিত হলেও কোথাও আয়োজনের প্রস্তুতি ছিল না, আবার কোথাও প্রতিযোগিতা পরিচালনার নির্দেশনা পান নি বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির সদস্য সচিবরা। সেজন্য সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ৮টিতেই বাছাই হয়নি। গৌরারং ইউনিয়নে মাঠে গিয়েও বাছাইয়ে অংশ নিতে পারেনি শিক্ষার্থীরা।
‘দক্ষ ক্রীড়াবিদ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ার অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু—কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা। তবে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রথম দিনের কার্যক্রমে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গৌরারং ফুটবল মাঠে অ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, দাবা, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, মার্শাল আর্ট ও সাঁতার এই ১০টি ইভেন্টে খেলোয়াড় বাছাইয়ের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা মাঠে উপস্থিত হলেও সেখানে কোনো আয়োজক বা সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিকে পাওয়া যায় নি। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে যায়।
গৌরারং ইউনিয়নের সদস্য সচিব ও হাজী আব্দুস সাত্তার এন্ড মরিয়ম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমি নিজেই এই কমিটির সদস্য সচিব, অথচ কীভাবে কী করতে হবে, তা জানি না। কেউ আমাদের কিছু জানায় নি। কোনো সভা বা প্রস্তুতিমূলক বৈঠকও হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির সদস্যদের নাম ও ফোন নম্বর নতুন ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকলেও তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় নি। বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব, পদ্ধতি কিংবা প্রস্তুতি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না তারা। জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় নি।
হাফিজুর রহমান আরও বলেন, শুধু গৌরারং নয়, কাঠইরসহ অন্যান্য ইউনিয়নেও একই ধরনের পরিস্থিতির খবর পেয়েছেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাঠে উপস্থিত হলেও প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পুরান লক্ষণশ্রী গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আতাউর রহমান তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ইউনিয়ন পর্যায়ের বাছাই কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য নির্দিষ্ট ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে প্রতিযোগিতার তারিখ ও সময় জানিয়ে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে গৌরারং খেলার মাঠে উপস্থিত হই। আমার বিদ্যালয়সহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী সেখানে এসেছিল। কিন্তু মাঠে এসে কোনো আয়োজক বা ক্রীড়া কমিটির কাউকে পাইনি। বিষয়টি জানতে সংশ্লিষ্ট সদস্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। অন্য ভেন্যু, যেমন জানিগাঁওয়েও কোনো ধরনের প্রস্তুতি বা কমিটির উপস্থিতি ছিল না বলে তিনি জানতে পারেন।
আতাউর রহমান তালুকদার বলেন, জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতায় মাঠপর্যায়ে কোনো প্রতিনিধি বা কমিটির উপস্থিতি না থাকায় শিক্ষক ও অভিভাবকেরা বিভ্রান্ত ও বিব্রত হয়েছেন। কোনো প্রস্তুতি ছাড়া কেন শিক্ষার্থীদের মাঠে আনা হলো, তা নিয়ে অভিভাবকেরা প্রশ্ন তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সদস্য সচিবদের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে বাছাই শুরু হয়েছে। অন্য ইউনিয়নগুলোতে কোথাও নির্দেশনার অভাব, কোথাও প্রস্তুতির ঘাটতি, আবার কোথাও নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণের কারণে বাছাই কার্যক্রম পিছিয়ে যায়।
গৌরারংয়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ভেন্যুতে উপস্থিত হলেও আয়োজক বা কমিটির কাউকে না পেয়ে ফিরে যায়। কাঠইরে বাছাই কার্যক্রম শুরু হয় নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আফতাবনগরে আগামী ২৯ ও ৩১ অক্টোবর এবং পহেলা নভেম্বর ব্রাহ্মণগাঁও খেলার মাঠে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জাহাঙ্গীরনগরে মঙ্গলবার বিভিন্ন ইভেন্টের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বুধবার থেকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে মূল প্রতিযোগিতা শুরুর কথা রয়েছে। মোহনপুরে মঙ্গলবার মঈন উল হক কলেজ মাঠে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো শিক্ষার্থী আসেনি, এছাড়াও মঙ্গলবার ব্যানারের অর্ডার দেয়া হয়েছে। বুধবার থেকে বাছাই শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রঙ্গারচরে আগামী রবিবার থেকে বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। লক্ষণশ্রীতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতার তারিখ বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারণ করে জানানো হবে। সুরমায় সদস্য সচিব প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও চিঠিপত্র পাননি। মোল্লাপাড়ায় শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে সব ইভেন্টের খেলা শেষ না হওয়ায় বুধবার বিভিন্ন ইভেন্টের ফাইনাল হওয়ার কথা রয়েছে।
সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব সামসুল আলম রাসেল বলেন, আমাকে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এ বিষয়ে কোনো চিঠি বা নির্দেশনা দেওয়া হয় নি। অনেক শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ভেন্যুতে এসেছেন। কিন্তু এসে দেখলাম, কোনো চিঠি নেই, কোনো নির্দেশনাও নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিস, ক্রীড়া কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক উত্তর পাই নি।
তিনি আরও বলেন, সদস্য সচিব হিসেবে কী দায়িত্ব পালন করবেন কিংবা কীভাবে খেলোয়াড় বাছাই করবেন, সে বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয় নি। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় (মঙ্গলবার বিকাল ৩টায়) এ সম্পর্কিত বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন।
আফতাবনগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান তহুর বলেন, মঙ্গলবার কমিটির বৈঠকে প্রতিযোগিতার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২৯ ও ৩১ অক্টোবর এবং পহেলা নভেম্বর ব্রাহ্মণগাঁও খেলার মাঠে খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের নোটিশ ও খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হবে।
তিনি জানান, নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা অন্য শিক্ষার্থীরাও খেলায় অংশ নিতে পারবে।
মোহনপুর ইউনিয়নের জয়নগরবাজার হাজী গনিবক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিলু মিয়া চৌধুরী বলেন, তারা মঙ্গলবার সকালে মঈন উল হক কলেজ মাঠে উপস্থিত থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী আসে নি। পরে ইউনিয়নের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বুধবার বেলা ১১টা থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাছাই কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়। এছাড়াও মঙ্গলবার ব্যানারের অর্ডার দেয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সহায়তায় বিভিন্ন ইভেন্টের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ থেকে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ক্রীড়া কর্মকর্তার আসার কথা থাকলেও তাঁরা উপস্থিত হতে পারেননি। বুধবার থেকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে মূল প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলে জানান তিনি।
রঙ্গারচর ইউনিয়নের চৌদ্দগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রতিযোগিতার সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে বৈঠকে আগামী রবিবার থেকে বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিযোগিতা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সজল কান্তি দাস জানান, শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঙ্গলবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। চার—পাঁচটি বিদ্যালয় এতে অংশ নিয়েছে। প্রথম দিনে সব ইভেন্টের খেলা শেষ না হওয়ায় বুধবার বিভিন্ন ইভেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় ১৮ হাজার ৪৫০ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছে। জেলার সব ইউনিয়ন এবং সদর পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট পৌরসভা ও ওয়ার্ডের ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু—কিশোরদের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জেলা ক্রীড়া অফিস জানায়, একটি ইউনিয়নের দল গঠনের জন্য ১৭৬ জন খেলোয়াড় প্রয়োজন। তবে সব ইউনিয়নে সমানসংখ্যক খেলোয়াড় নিবন্ধন না করায় সব জায়গায় সব ইভেন্টে দল গঠন সম্ভব নাও হতে পারে।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া জানান, প্রথম দিন জেলার ৩০ থেকে ৪০টি ইউনিয়নে বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুরেও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সব ইউনিয়নে একই দিনে বাছাই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সদস্য সচিবদের নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকা দুই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় সমন্বয়ে কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। তিনি বলেন, সদরে একটু সমন্বয়ের সমস্যা হয়েছে। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সোহাগ মিয়া জানান, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে একদিনে কার্যক্রম শুরুর বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন রূপরেখা অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বাছাই ও দল গঠনের সময় রয়েছে। ফলে যেসব ইউনিয়নে মঙ্গলবার কার্যক্রম শুরু হয়নি, সেখানেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
তিনি আরও জানান, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠন করা হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক খেলোয়াড় থাকলে ১০টি ইভেন্টেই বাছাই করা হবে। তবে সব ইউনিয়নে সমানসংখ্যক খেলোয়াড় না থাকায় দল গঠনে ভিন্নতা থাকতে পারে।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা বলেন, আগামী ৫ নভেম্বর দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রসঙ্গত, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬—২০২৭ (সিজন—২)’। এর মূল লক্ষ্য ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু—কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, খেলোয়াড় বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা ও অঞ্চল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করে উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। বিজয়ী খেলোয়াড়দের জন্য সনদপত্র, মেডেল ও ট্রফির পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রতিযোগিতার সময়সূচি
২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা ও অঞ্চল পর্যায়ে দল গঠন কার্যক্রম চলবে। ৫ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা থানা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
পরবর্তী ধাপে ১ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে যে কোনো দুই দিন প্রশিক্ষণ ও দল গঠন করা হবে। জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ১০ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে যে কোনো তিন দিন জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও দল গঠন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২৬ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও দল গঠনের জন্য ১৫ থেকে ২০ মার্চ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্চের চতুর্থ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা রয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে বাছাই করা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মে থেকে জুন মাসে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন