প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৮
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতা বাতিল, কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা, নির্বাচনী অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও শাস্তির বিষয়ে জানতে চাই। কোন কোন অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঘোষিত আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। অতীতের নির্বাচন নিয়ে যে অস্বচ্ছতার অভিযোগ ও বদনাম রয়েছে, তা দূর করতেই এ বিধিমালাকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছি। নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া কিংবা নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বিধিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিধিমালা সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করা যায়।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: কোন পরিস্থিতিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: নির্বাচনে বড় ধরনের বলপ্রয়োগ বা বাধা সৃষ্টির ঘটনা ঘটলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। বিচারিক তদন্তসহ স্বচ্ছ তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থা নিতে পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো ও কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা রয়েছে?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ভোটাররা যেন কোনো বাধা বা বলপ্রয়োগ ছাড়াই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই আস্থা তৈরি করতে হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ভোট কারচুপি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত হলে পুনর্নির্বাচনের বিধান কী?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন পুনরায় ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করতে পারে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভীতিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে এবং প্রশাসন তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীরাও সঠিকভাবে আইন প্রয়োগে উৎসাহিত হবেন। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আপনার পরামর্শ কী?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: নির্বাচন কমিশন ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে জনগণের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে তাঁরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান। এই আস্থা মানুষের মধ্যে পৌঁছাতে পারলে ভালো নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: প্রার্থীদের অবশ্যই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অতীতের নির্বাচনগুলোতে আর্থিক লেনদেনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ হলে ভালো ও মেধাবী মানুষ নির্বাচনে এগিয়ে আসার সুযোগ পাবেন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নির্বাচনে দলীয় প্রভাব বিস্তার ও রাজনৈতিক কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে কী বলতে চান?
মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল: আমাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সহকর্মীদের মনে রাখতে হবে, সবার আগে বাংলাদেশ। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামের জায়গায় নিয়ে যেতে হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মীকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন