প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫০
তাহিরপুর উপজেলার বাগলি স্থল শুল্ক স্টেশন একসমময় ছিলো সম্ভাবনাময় বাণিজ্য কেন্দ্র। ২০০৬ সালে শুল্ক স্টেশনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই স্টেশন দিয়ে শুরু থেকেই ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে চুনাপাথর আমদানি করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩৫০ জন আমদানিকারক। এই শিল্পকে ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে ওখানে।
আমদানিকৃত চুনাপাথর রঙ্গাছড়া নদীপথে এনে বড় নৌকায় লোড করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাঁচামাল হিসেবে বিক্রি করা হয়। এছাড়াও ভবন ও সড়ক নির্মাণেও কনক্রিট হিসাবেও এ চুনাপাথর ব্যবহার হয়ে থাকে।
সরকার প্রতি বছর এই শুল্ক স্টেশন থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। তবে বর্তমানে এই বন্দরে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নাব্যতা সংকটে এই সম্ভাবনাময় খাতটি হুমকির মুখে পড়েছে।
বাগলি শুল্ক স্টেশনের বিশিষ্ট কয়লা ও চুনাপাথর আমদানীকারক খালেক মোশারফ বলেন, বাগলি শুল্ক স্টেশনের সমস্যার কথা বলে শেষ করা যাবে না। মালামাল পরিবহনে নৌপথ ও সড়কপথ সবই বেহাল অবস্থায় পড়েছে। কাস্টমস এর মাধ্যমে আমরা সরকারকে শতকোটি টাকা বছরে রাজস্ব দিয়ে থাকি। অথচ এখানকার সড়ক আমরা ব্যবসায়ীদের টাকা দিয়েই মেরামত করে থাকি। সরকারের কাছে বিভিন্ন সময়ে মেরামতের জন্য দাবি করে আসলেও কতৃর্পক্ষ কোন সময়েই আমলে নেয় নি। নদীর নীচে অনেক অনেক রাবিস (পাথর) পড়ে আছে সেগুলো তুলতে পারলেও নদী পথ একটু সহজ হতো। কিন্তু তাতেও বাঁধ সাধে স্থানীয় ক্যাম্পের সদস্যরা। মালামাল পরিবহনে এখানে দুটি নদী রয়েছে। একটি হলো রঙ্গাছড়া নদী, আরেকটি হলো শুল্ক স্টেশনের পশ্চিমে বাগলী নদী। বাগলী নদীতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে সেখান দিয়ে সারাবছর মালামাল পরিবহন করা যাবে। এ নদীটি সীমান্তের দেড়শত গজের ভিতরে হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইনে ওই নদী দিয়ে বাগলি বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা নিষেধ বাঁধা করে থাকে।
বাগলি শুল্ক স্টেশনের শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন, রঙ্গাছড়া নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় আমাদের শ্রমিকদের কাজ অনেক কমে গেছে। পুরো বর্ষায় আমরা ৫০ থেকে ৬০ হাজার শ্রমিক কাজ করতে পারি। নদীর পানি কমার সাথে সাথে শ্রমিকদের কাজও কমে যায়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দাবী তিনি যেন এলাকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে রঙ্গাছড়া নদীটি খননের ব্যবস্থা করে দেন।
বাগলি চুনাপাথর স্থল শুল্ক স্টেশন আমদানিকারক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, এ শুল্ক স্টেশন থেকে সরকার ১০০ কোটির বেশি সরকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। চুনাপাথর আমদানি করতে গাড়ির পথ ও নদীপথসহ সমস্যার এখানে শেষ নেই। নদী খনন না থাকায় বছরের ১০ মাস চুনাপাথর পরিবহন বন্ধ রাখতে হয়। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে নদীটি খনন করা খুবই জরুরি। নদী পথে মালামাল পরিবহন করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা তাদের ভাড়া করা ডিপোতে চুনাপাথর মজুদ রেখে বর্ষাকালের ২ মাসে বিক্রি করতে হয়।
বাগলি চুনাপাথর স্থল শুল্ক স্টেশন আমদানিকারক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন জানান, ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রঙ্গাছড়া নদী দিয়ে বছরের প্রায় ১০ মাস মালামাল পরিবহন করা যেতো। কিন্তু বর্তমানে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের বিভিন্ন ছড়া থেকে নেমে আসা বালু নদীটির তলদেশ ভরাট হওয়ায় বছরে মাত্র দুই মাস চুনাপাথর পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, রঙ্গাছড়া নদীটি খননের ব্যবস্থা করে দিলে ব্যবসায়ীরা অনেক লাভবান হতেন এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়তো।
এ বিষয়ে দ্রুত নদী খননের উদ্যোগ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন