বাগলি শুল্কস্টেশনের জন্য রঙ্গাছড়া নদী খনন জরুরি

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৫১

তাহিরপুরের সীমান্ত নদী রঙ্গাছড়ার তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের ১০ মাস ওই নদী দিয়ে চুনাপাথর পরিবহন করা সম্ভব হয় না, কেবল বছরে দুই মাস ওই নদীর নাব্যতা থাকে; এই দুই মাস পণ্য পরিবহন করা যায়। রঙ্গাছড়া নদীটি তাহিরপুর উপজেলার অন্যতম শুল্কস্টেশন বাগলি এলাকায় অবস্থিত। বাগলি শুল্কস্টেশন দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন শ’ আমদানিকারক চুনাপাথর আমদানি করে দেশের বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা ও অন্যান্য উৎসে বিক্রি করেন। প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয় এই শুল্কস্টেশনে। সরকার রাজস্ব লাভ করে বছরে প্রায় এক শ’ কোটি টাকা। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এই বাগলি শুল্কস্টেশনের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা তথা নদীর নাব্যতা হারানোর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাগলি চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেনকে উদ্ধৃত করে সংবাদে বলা হয়, ২০০৬ সন থেকে ২০১২ সন পর্যন্ত রঙ্গাছড়া নদীর নাব্যতা থাকতো বছরে ১০ মাস, ফলে বছরব্যাপীই এই নদী দিয়ে পন্য পরিবহন করা যেতো। ২০১২ সনের পর থেকে পাহাড় থেকে নেমে আসা বালু সঞ্চিত হয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া শুরু হয়। প্রতি বছরই নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া বাড়তে থাকে। যার ফলে নদীর নাব্যতা বজায় থাকা এখন বছরে দুই মাসে এসে ঠেকেছে। আমদানিকারকরা নদী খনন করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাহিরপুরের তিনটি স্থল শুল্কস্টেশন সুনামগঞ্জের অর্থনীতির প্রাণ। এ—সব স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি হয়। আমদানি করা পণ্যের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা সুগম না থাকলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। যে কোনো ব্যবসার জন্যই ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা দরকার পড়ে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, এই শুল্কস্টেশনের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বাগলী নামের অন্য নদীটি সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সেটি ব্যবহার করতে দেয়া হয় না। একমাত্র রঙ্গাছড়া নদী দিয়েই পণ্য পরিবহন করতে হয়। এই আমদানি ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে হলে রঙ্গাছড়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। যদি পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো না হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমদানিকারকরা এই শুল্কস্টেশন দিয়ে আমদানি বন্ধ করে দিতে পারেন। ফলে অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর একটি শুল্কস্টেশনের মাধ্যমে জীবিকা পরিচালনাকারী বহু লোকের কর্মসংস্থান নষ্ট হবে। সরকারকে তাই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বুঝতে হবে। 

 


পাহাড় থেকে নেমে আসা বালুও আমাদের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পদ। রঙ্গাছড়া নদীর তলদেশ যদি বালু দ্বারা ভরাট হয়ে থাকে তাহলে এই বালু সরকারিভাবে উত্তোলন ও বিক্রির ব্যবস্থা করলে যেমন সরকারি রাজস্ব আহরণ বাড়বে তেমনি এতে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অন্যদিকে নদীর নাব্যতাও ফিরে আসবে। সমস্যা হলো, বাংলাদেশে যে ইজারা ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক বালু পাথর আহরণ করা হয় তা নির্ভেজাল লুণ্ঠনধর্মী। ইজারাদার যথেচ্ছভাবে নদীর পাড় কেটে এবং যান্ত্রিক খননযন্ত্র ব্যবহার করে বালু আহরণের মধ্য দিয়ে এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের বিপুল ক্ষতি সাধন করেন। পরিবেশসম্মত উপায়ে রঙ্গাছড়া নদীর তলদেশ থেকে সনাতনি পদ্ধতিতে স্থানীয় বারকি শ্রমিকদের বালু আহরণের সুযোগ দেয়া হলে দুইটি উপকার হয়। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে উপযুক্ত এলাকাগুলোতে ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা বিধান না করলে ক্ষতি দেশের অর্থনীতির। কর্মসংস্থান হারিয়ে বহু লোকের উপার্জনের পথ বন্ধ হবে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সবচাইতে যথাযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সক্রিয় চিন্তা দরকার। 

 


তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ, আপনারা বাগলি শুল্কবন্দর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে রঙ্গাছড়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি উত্তম পরিকল্পনা সরকারের নিকট উপস্থাপন করুন। যদি রয়েলটির বিনিময়ে বারকি শ্রমিকদের পরিবেশসম্মত উপায়ে বালু আহরণের সুযোগ দিয়ে রাজস্ব আহরণ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় তাহলে এ কাজে সরকারের নতুন করে কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না, উপরন্তু সরকারি কোষাগারে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব জমা হবে। যে শুল্কস্টেশন সরকারকে বছরে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব দেয় এবং অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করে; তাকে সক্রিয়, উপযুক্ত ও প্রতিবন্ধকতা মুক্ত করা সরকার ও প্রশাসনের আশু কর্তব্য। আশা করি সরকার দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার