প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৫ ২২:৪৫
বাংলা আমার দেশ। তার ভেতরে আর একটি দেশ আছে, তার নাম ভাটিবাংলা। এই ভাটিবাংলায় আছে অনেক হাওর, বাঁওড়, বিল ও ডুবা। আর আছে অসংখ্য নদী, নালা, খাল। প্রকৃতির এই সব অপূর্ব উপহারের একটি বিখ্যাত শনির হাওর। এই শনির হাওরের পাড়ে একটি গ্রামে আমার জন্ম। গত কদিন আগে আমি আদিষ্ট হয়েছিলাম, এই হাওরদেশের শিক্ষাসমস্যার ঠিকুজি ও তার উত্তরণের উপায় উপস্থাপন করার জন্য। প্রথমেই মনে হলো, দমন—পীড়নের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আন্দোলনের মতো করে চলতেই থাকবে, আবিষ্কৃত উপায় উপেক্ষিত হবে, কিন্তু সমস্যা সমস্যা হয়েই থেকে গিয়ে আর বেশি করে ডালপালা ছড়াবে, যদি না চাপিয়ে দেওয়া অর্থনীতিটা হাওরের মেহনতি গরিব শ্রমিক—কৃষকদের অনুকূলে বদলে ফেলা যায়।ব্যতিক্রম বাদে অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনের ব্যর্থতা এই ভাবনাটাকে সমর্থন করে। ভারতবর্ষে ১৯২০ সালে সমাজবদলের প্রত্যয় ঘোষণা করে বামপন্থী চিন্তার সূত্রপাত, অর্থাৎ শ্রেণিবৈষম্য নিরসনের চিন্তার শুরু এবং তার সঙ্গেই শুরু গবির মেহনতি মানুষকে শোষণ—নিপীড়ন করার আর্থসামাজিক গঠনরূপ পরিবর্তনের আন্দোলনের। কিন্তু সে আন্দোলন এখনও পর্যন্ত কোনও সাফল্যের মুখ দেখতে পায় নি, বরং সেই ফাঁকে নয়া ঔনিবেশিকতার জগদ্দল পাথর উপমহাদেশের বুকে চেপে বসেছে এবং এখন যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।
বিশাল হাওরের বিপুল সমস্যা। এর সঙ্গে হাওরের ইতিহাস, প্রাণপ্রকৃতি ও তার অর্থনীতিসহ রাজনীতির অন্তরালে এখানে জায়মান কাঠামোগত সহিংসতার বাস্তবতাটিও ওতপ্রোত। সবকীছু মিলে গড়ে তোলেছে একটি জটিল সমাজসংস্থিতি অর্থাৎ আর্থসামাজিক গঠনরূপ। তার ভেতরে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব হাওরের জলের সাগরে মিশে বিলীন হয়ে পড়েছে, বিগত কোনও কালেই এই খাতটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রকদের উপেক্ষা ভিন্ন মনোযোগের জায়গা হতে পারে নি—— সঙ্গত কারণেই। কেউ কেউ স্বীয় রাজনীতিক দূরদৃষ্টিতে শিক্ষাসংস্কৃতির ক্ষয়িষ্ণুতা প্রত্যক্ষ করে আর্থসামাজিক গঠনরূপটি বদলের তাগিদ অনুভব করেন এবং যথারীতি আন্দোলন করেন, দাবি তোলেন, গণমাধ্যমে লেখালেখি করেন। কিন্তু যাঁদের অন্তরে এই তাগিদ জাগে তাঁরা ভুলে যান, রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য সমাজপতিদের টিকিয়ে রেখে শিক্ষাখাতে কেন, অন্য কোনও খাতেই শ্রেণিনির্বিশেষে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা কখনওই সম্ভব নয়। এখানে মেধাভিত্তিক চাকরি পাওয়ার আন্দোলনের কাঁধে ভর করেসমাজসংস্থিতি বদলের তাগিদ যারা অনুভব করেন তারা সকলেই আসলে রবি ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার জমিদারের মতো সম্পত্তিলোভী রাজার উত্তরসূরি, সম্পত্তির মালিক হওয়ার ‘মোহগর্ত’—এর মণ্ডুক,তিনি ‘কপালের লিখন না যায় খণ্ডন’ তত্ত্বে বিশ^াসী একজন ভিখারি হলেও। বরুণদা কিংবা নজিরভাইকে তাঁরা ‘কমিন’ অপবাদে উপেক্ষা করতে দারুণ তৎপর, কিংবা এই দেশে একজন বিপ্লবী আবদুল হককে অন্তরীণ জীবনের অন্তরালে জীবন কাটাতে হয়, তাঁর অপরাধ তিনি মানুষের জন্য শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বাপ্নিক ও বিপ্লবী কর্মী—— যে সমাজে সকল মানুষ বাঁচবে সত্য, স্বাধীনতা, সুখসমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও সুন্দরের মাঝে মেধা বিকাশের সমান অধিকার নিয়ে। তাই ধনাঢ্যসংঘের শাসনের পতাকাতলে প্রতিষ্ঠিত সমাজসাংস্থিতিক বাস্তবতায় প্রকারান্তরে সব চেষ্টা ‘অরণ্যে রোদন’—এর করুণ তরলতায় বিলীন হয়ে যায়। নিঃস্ব অথবা গরিব মেহনতি, দরিদ্র কৃষক, শহুরে কম আয়ের মানুষদের জন্যে এইসব ধনপতি শাসকসংঘ কীছুই করে না, তাদের কাছে সমন্বিত কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা দিল্লি দূরস্ত ব্যতীত অন্য কীছু নয়।অর্থাৎ তারা সম্পদ চুরির মতো শিক্ষাকেও ক্রমাগত চুরি করে চলেছে। এখানে হাওররক্ষা বাঁধ হাওররক্ষা করে না, পরিণতিতে হাওরকে জলের মরুভূমিতে পরিণত করে, তেমনি শিক্ষব্যবস্থাকেই শিক্ষাবঞ্চনার হাতিয়ার বানায়। এই হাতিয়ারটা পাল্টাত হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে কোথাও হয় তো বা স্কুলঘর ছাত্র নেই, শিক্ষকও নেই অবস্থায় অঘোষিতভাবে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে এবং শিক্ষক শিক্ষকতা না করেই বেতন পায়।
হাওরের অনেক সমস্যার ভেতরে শিক্ষাসমস্যা একটি নির্দিষ্ট বিষয়। এই আলাপের মুখ্য বিষয় এটাই এবং বিষয়টা একাটা পূর্ণ গবেষণা দাবি করে। আপাতত সে অবকাশ আমার নেই। তবু, আমি তো হাওরের সন্তান, এ কাজের জন্যে আমি কোনও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কেউ নাই বা হলাম। তাই আমি সমগ্র বিষয়টি আমার নিজের মতো করে উপস্থাপন করছি। হাওরের শিক্ষাসমস্যাকে আমি যেভাবে বুঝি সেভাবেই এবং বলে রাখছি, আমার এই একান্ত ব্যক্তিগত আলাপটি পাঠকদের কাছে পেশ করছি নির্মমভাবে, কোনওরূপ ছা্ড় না দিয়ে সমালোচনার আড়ংধোলাই দেবার জন্যে। সমালোচনা করতে গিয়ে কেউ আমকে দয়া করবেন না। কেবল বিষয়ানুগ যুক্তি মান্য করবেন, অযৌক্তিক হয়ে উঠবেন না। মনে রাখবেন, সমগ্র আর্থসামাজিকগঠনরূপকে উপেক্ষা করে শিক্ষাব্যবস্থা ও তার সমস্যার স্বরূপ উন্মোচন আদপেই সম্ভব নয়, দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি তার সঙ্গে ওতপ্রোত।
আগেই বলেছি, বিশাল হাওরের বিপুল সমস্যা। কেউ কেউ মনে করেন, এসব সমস্যা মানবসৃষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, ব্রিটিশ আমল থেকে আজ পর্যন্ত ঔপনিবেশিক শোষণ জায়মান রাখার স্বার্থে, অর্থাৎ ভারত থেকে ব্রিটিশদেশে সম্পদ পাচার করার স্বার্থে এবং সামসময়িককালে বিভিন্ন প্রকারে বিদেশে সম্পদ পাচারের জায়মানতা তার (ঔপনিবেশিক শোষণের) ধারাবাহিকতাকে প্রতিপন্ন করছে। ইতিহাস ঔপনিবেশিকতার পতাকাতলে সম্পন্ন এবংবিধ সম্পদ পাচারকে অস্বীকার করে না। এই ঔপনিবেশিক প্রকরণপদ্ধতির নিহিতার্থ হল, রাজনীতিক সমাজ জনসমাজকে নিয়ে রাজনীতি করেছে, করছে এবং করবে। তাই হাওরের সমস্যা নিয়ে আর্থনীতিক, রাজনীতিক কিংবা শিক্ষাসাংস্কৃতিক যতো আন্দোলন হয়েছে সেগুলো পথ হারিয়েছে আন্দোলনকে তরলীকৃত করার সাময়িক সমাধানের ব্যবস্থা নিয়ে অথবা ে¯্রফ উপেক্ষা করে। ঔপনিবেশিকতাবিরোধী আন্দোলনের ফল ১৯৪৭—এর স্বাধীনতা, কিন্তু সে—স্বাধীনতা এই জেন্য দেওয়া হয়েছে যে, যাতে নয়া ঔপনিবেশিকতার ফাঁদে আটকে তথাকথিত স্বাধীন দেশেকে আরও তীব্র আকারে শোষণ করা যায়। ফলে স্বাধীন করে দিয়ে শাসন করার দুরুভিসন্ধিনির্ভর অভিপ্রায় বাস্তবায়নের পরিসরে শোষণকিংবা আত্মসাৎ নিবারণের কাজ কীছুই হয় নি। ভাসনপানির আন্দোলন ভেসে গেছে ভাসান পানিতেই, মেহনতিদের পক্ষে সমাজ বদল ঘটে নি। নদীখননের দাবি অনেক দিনের পুরনো, কিন্তু ঝুলে আছে। হাওরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন বা বদলকেও যথারীতি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
একেবারেই সাধারণভাবে দেখে, শুনে এবং জেনে যে কেউ বলতেই পারেন, হাওরে শিক্ষাপরিস্থিতি সংকটাপন্ন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বছর কয়েক পূর্বেকার (সমকাল, ১২ জুন ২০২১) একটি প্রতিবেদন থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য—উপাত্ত তোলে ধরছি। প্রতিবেদনের শিরোনামটি ‘শিক্ষার সংকট প্রকট হাওরে’। তাতে বলা হয়েছে, “এখানে শিক্ষার্থীদের দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা, সচেতনতার অভাব, দুর্গমতা, বাল্যবিয়েসহ নানা প্রতিকূলতা ছাড়াও লড়াই করতে হয় প্রকৃতির সঙ্গে। এসব যুদ্ধ শেষে খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী মাড়াতে পারে উচ্চশিক্ষার চৌকাঠ। এসব কারণে দেশে শিক্ষার হার ৭১ শতাংশ হলেও হাওর অঞ্চলে এই হারটি ২০ থেকে ৪০ শতাংশের বেশি নয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন শিক্ষার হার সুনামগঞ্জের শাল্লায়, মাত্র ২০ দশমিক ১০ শতাংশ। ৪০ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার হার নিয়ে সর্বোচ্চ স্থানে আছে একই জেলার ধর্মপাশা। হাওর থাকা অন্য উপজেলাগুলোতেও শিক্ষার হার ২০ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি নয়।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ২০১৭ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘বিদ্যালয় সম্পর্কিত তথ্য’ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ৪৬৫টি। জেলার ১৬৬টি গ্রাম এখনও বিদ্যালয়হীন। প্রায় ৬০০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৩৯৩টি। ঝড়—তুফানে ভেঙে পড়ায় এবং বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয় উন্মুক্ত স্থানে। ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত। ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন অতিঝঁুকিপূর্ণ। বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য উপজেলা পর্যায়ের ৬১ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও ৩৭ জনের পদ শূন্য।”
প্রতিবেদনের তথ্যগুলি একটি পশ্চাৎপদ শিক্ষাপরিস্থিতির চিত্র হাজির করছে। এখন এই ২০২৫ সালে এসে উপরে উক্ত তথ্যাগুলি হয় তো কীছুটা কম বেশি হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য আপাতত হাতের কাছে নেই। সংগ্রহ করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু তবু বাহ্যিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায় যে, সার্বিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়েছে তেমনটা কিন্তু নয়, বলতে বাধা নেই, অবনতি না হোক অবস্থা আগের মতোই সূচনীয় কিংবা সংকটাপন্নই আছে।
ব্রিটিশ আমলেও শিক্ষাসংকট ছিল এখনও আছে এবং আরও তীব্র হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে এই সাধারণ শিক্ষাসংকট হাওরের ঘাড়ে এসে বর্তেছে তো বটেই তদুপরি বোঝার উপর সাঁকের আঁটির মতো হাওরের প্রাকৃতিক বিশেষত্বের উপর ভর করে অন্য একটি বহুমাত্রিক বিশেষ সংকট তার পাওনা হয়েছে, আগে থেকেই। যেমন হাওরে ‘আফাল’ আছে দেশের অন্যত্র নেই। এই আফাল স্কুলযাত্রী ছাত্রছাত্রীর নৌকা ডুবিয়ে দিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। বলা বাহুল্য, এখানকার দুর্যোগপূর্ণ ও সদা দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থাটা শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। শিশুরা সহজে স্কুলে যেতে পারে না।
মোটা দাগে হাওরের শিক্ষাসংকট দ্বিবিধ, সাধারণ ও বিশেষ সংকট। বিশেষ সংকটটি হাওরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসঞ্জাত। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই দুই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হাওর এলাকায় কী ধরণের শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন প্রয়োজন ? স্কুল কেমন হবে ?যাতায়াত ব্যবস্থা কেমন হবে ? পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যবিষয় কী হবে, সমগ্র দেশ বা রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ভিন্ন হবে কী ? শিক্ষার্থীর আর্থনীতিক অবস্থাসাপেক্ষে তার শিক্ষাগ্রহণে তারতম্য ঘটে, অনিবার্য এই বৈষম্য কীভাবে দূর করা হবে ? অর্থাৎ হাওরের পরিসরে প্রচলিত শিক্ষাসেবা বণ্টনের মধ্যকার যাবতীয় বৈষম্য কীভাবে দূর করা হবে ? স্বাভাবিক বিবেচনায় আইনের দিক থেকে ও মানের দিক থেকে শিক্ষাকে হতে হবে সারা দেশের কিংবা সমগ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এক ও অভিন্ন, প্রতিটি শিশুকে দিতে হবে শিক্ষার সমান অধিকার। অথচ দেশে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ১১ প্রকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে শিক্ষামান অভিন্ন নয়, শিশুরা সেখানে সমান অধিকার ভোগ করছে না এবং যথারীতি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে বা বাড়ছে এবং পরিণতিতে শিক্ষামান তলানি স্পর্শ করেছে।
এইসব সমস্যার উত্তরণ ঘটিয়ে তারপর, প্রতিবন্ধী শিশুর যেমন বিশেষ নিয়মের শিক্ষাব্যবস্থার দরকার হয় তেমনি হাওরাঞ্চলের জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যে বিশেষ ব্যবস্থাটি রাষ্ট্রনির্ধারিত শিক্ষাব্যবস্থার জায়মানতাকে অনুমোদন করে না, অর্থাৎ তার উৎখাত ভিন্ন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না। ভুলে গেলে চলবে না, বর্তমান বা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাটিও সংকটাপন্ন এবং তার জন্য বিশেষ বিশেষ কমিশন করে, রদবদল ঘটিয়ে ক্রমাগত নিরীক্ষা করা হচ্ছে, কোনওটাই কাজ করছে না। কুদরত—এ—খোদা প্রদত্ত শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদেন—(১৯৭২—এ প্রণীত)—সহ বাংলাদেশ আমলেই ১০টি শিক্ষা কমিশন কাজ করেছে। কিন্তু সেগুলোর সুপারিশের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থাকে বিন্যস্ত করা হয় নি। বাস্তবতা বলছে, মুক্তবাজার ব্যবস্থাকে জিইয়ে রেখে কোনও বিজ্ঞানসম্মত, কারিগরি শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত করা যায় না, আর্থসামাজিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক মুনাফা লোভী ধনীরা ততোটা প্রগতিশীল নয়। লগ্নিপুঁজি নির্ভর নয়া ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র অস্ত্র কেনার জন্যে টাকা খরচ করতে পারে বটে কিন্তু শিক্ষার মান উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও নিখরচায় শিক্ষা দেওয়ার জন্যে টাকা খরচ করে না, বরং শিক্ষাকে উচ্চমূল্যের পণ্য করে তোলে এবং গরিবের জন্য অলভ্য ও ধনীর জন্য লভ্য করে তোলে শ্রেণিবৈষম্যকে তীব্রতা দেয়। হাওরের শিক্ষাবঞ্চনার ইতিহাস এই নয়া ঔপনিবেশিক আর্থব্যবস্থার হাতেই রচিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঔপনিবেশিকতার স্বার্থেই। কারণ, সত্যজিতের হিরক রাজার মতো পুঁজির প্রভুরা অবগত আছে, ‘যতো জানে, ততো কম মানে’, তাই শিক্ষাসংকোচনের নীতিই তাদের বেশি পছন্দ, তার উপর শিক্ষাকে মেকলেপনার জারক রসে চুবিয়ে ঔপনিবেশিকতার উৎকৃষ্ট উমেদার বানানোর শিক্ষাপদ্ধতি চালু রেখেছে। এতে সহজে জনসম্মতি উৎপাদন করা যায়। এই ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে হলে আগে সমাজের উপর পুঁজির অধিপত্যকে উৎখাত করতে হবে। এর অন্য একটি তাৎপর্য আছে। কেউ কেউ বলেন, ধনী গরিব ছাড়া এখন সমাজকে এই দুই ভাগেও ভাগ করা যায়—— একটি রাজনীতিক সমাজ ও অন্যটি জনসমাজ, অর্থাৎ একটি সরকারি তো অন্যটি বেসরকারি। হাওরের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বদলাতে চাইলে রাষ্ট্রক্ষমতায় বেসরকারি সমাজের দখল পেতে হবে; তার মানে গরিব শ্রমিক. কৃষক, শহুরে কম অয়ের মানুষ ও অন্যান্য দেশপ্রেমিক শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতা করায়ত্ব করতে হবে। অন্যথায় যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন, কার্যত শিক্ষাকে বরাবরের মতো কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হবে, যেমন রাখা হয়েছে এতো দিন। অন্যথায় বিষয়টা অনেকটা দাঁড়াবে সেই ছাত্রের মতো, প্রথম শ্রেণি থেকে ইংরেজি পড়ে স্নাতক হওয়ার পরও বাস্তবে সে ইংরেজি বলতেও পারে না, লিখতেও পারে না—— শিক্ষাজীবনের পুরোটাই ভেস্তে গেল তার। পুঁজিপতিদের স্বার্থরক্ষক সরকার ঘোষিত কোনও কর্মসূচিই শেষ পর্যন্ত মেহনতি মানুষের স্বার্থে কোনও লক্ষ্য অর্জন করবে না, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য, কেবল লক্ষ্য রাখা হবে মূনাফ অর্জনে সফল হওয়া গেল কি না।
কিন্তু পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, হাওরের উন্নয়ন প্রত্যাশীরা সরকারের মুখাপেক্ষিতাকে বর্জন করতে পারছেন না। সরকারের ছায়তলে তাঁরা আইন মেনে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে চলেছেন এবং মাঝে মাঝে কীছুটা ছাড় পাচ্ছেন। তাঁরা সরকারের কাছে চাইছেন হাওর উন্নয়ন বোর্ড, চাইতে পারেন হাওর শিক্ষা বোর্ড, তেমনি করে দাবি করতে পারেন ভাটিবাংলার প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খায় এমন অর্থাৎ যুগপৎ উপযোগী ও উপকারী বিশেষ এক শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু সরকার মিয়ানমারে মানবিক করিডোর দেওয়ার জন্য যতোটা চেষ্টা করবে ততোটার শতভাগের একভাগও করবে না, হাওর উন্নয়নে সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থা কায়েমের জন্যে। কারণ শিক্ষাব্যবস্থাটাকে পুঁজিপতিরা সকল মেহনতি শ্রমিক—কৃষকদের উপর শোষণনির্যাতন কায়েম রাখার সাংস্কৃতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে। আসলে তাদের দরকার, একটি বিদ্রোহী নয় এমন দাসসুলভ বেসরকারি জনসমাজ (ইরেজিতে নাকি এদেরকে ‘সিভিল সোসাইটি’ বলা হয়), যারা অবশ্যই মতাদর্শে স্পার্টাকাসের উত্তরসূরি হবে না এবং তার বিপরীতে দরকার জনসমাজকে শাসনশোষণ করার কাজে ব্যবহৃত রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রশাসনিক দপ্তর চালাতে পারে এমন একদল শিক্ষিত আমলা, যাদেরকে কেউ কেউ ‘মেকলেচেলা’ বলে অভিহিত করে থাকেন। জনগণের পকেট কেটে এই আমলাদের বেতন দেওয়া হবে এবং যারা জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে জনগণের উপর প্রভুত্ব করবে। শিক্ষাকে দামি পণ্য—করে—তোলা শিক্ষাব্যবস্থা শাসনশোষণের সামাজিক বাস্তবতাকে নির্মাণ করে থাকে, ভারতবর্ষে মেকলের প্রবর্তিত শিক্ষানীতি এমনই একটি নীতি, যা বাংলাদেশে আজও কার্যকর আছে, কার্যকর রেখেছে পুঁজিপতিরা, সেটাকে তারা বাতিল করতে চায় না। অর্থাৎ বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেই মেকলেতন্ত্রের উত্তর—অনুসৃতি বা অনুকরণ বিশেষ। এখানে এই হাওরাঞ্চলে এখনও পর্যন্ত যতো উন্নয়ন হয়েছে প্রকৃতপ্রস্তাবে সেগুলো উন্নয়নের বিপরীত প্রকরণ মাত্র, জলের সাগরকে জলের মরুভূমি বানানোর প্রক্রিয়া বিশেষ। যে সাগরের জলে জীব বলে কীছু থাকবে না, না প্রাণি না উদ্ভিদ, কিছুই না, কেবল থাকবে জল—— তেমন হলে তো প্রাণপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্যরহিত জলের সাগরটি নামান্তরে ‘জলের মরুভূমি’ হয়ে যেতেই পারে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাধারণ করণীয় হল জনশিক্ষার বিস্তার এবং রাজনীতিতে মেহনতিদের অংশগ্রহণ, তাছাড়া জ্ঞান ও সমগ্র মানব জাতির সাংস্কৃতিক পরিসরে তাদের প্রবেশের যোগ্যতা ও সুযোগ সৃষ্টি করা। তা না হলে তারা, “সবকিছু নৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বচন, ঘোষণা ও প্রতিশ্রম্নতির পেছনে কোনো না কোনো শেণির স্বার্থ আবিষ্কার করতে না শেখা পর্যন্ত লোকে রাজনীতির ক্ষেত্রে চিরকাল প্রতারণা ও আত্মপ্রতারণার নির্বোধ বলি হয়ে ছিল এবং চিরকাল থাকবে।” এই মন্ত্রটির সমঝদার হতে পারবে না।আর এতেঅর্থাৎ উক্ত ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাধারণ করণীয়’র ভেতরে আরও থাকে বৈষম্যবিরোধী ও শ্রেণিহীনতার সমতলে সকল মানুষের জন্যে সমানাধিকারসম্পন্ন ভাবাদর্শের বিস্তার। কাজটা সহজ নয় মোটেও, কিন্তু করা গেলে জনমানসতার পরিবর্তন হবে, অন্তত নিছক টাকা উপার্জনের জন্যে কেউ মাদকব্যবসা শুরু করবে না, কিংবা ঘুষ গ্রহণে অনুপ্রাণিত হবে না, দখলচ্যুতির অপকর্মে নিয়োজিত হবে না। ব্যক্তিমালিকানাসঞ্জাত কুফল চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, জুয়া, জালিয়াতি, দখলচ্যুতি, প্রতরণা, পণ্যেভেজালমিশ্রণ, কুসিদজীবিতা, রঁতিয়েপনা (পরশ্রমজীবিতা) ইত্যাদির মতো আত্মসাৎনির্ভর সকল সামাজিক অসঙ্গতি নির্মূল হবে। অর্থাৎ জনশিক্ষার বিস্তারের ফলে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব সংঘটিত হবে এবং জনমানসিকতার বৈষম্যবিরোধী বৈপ্লবিক উত্তরণ ঘটবে। হাওরাঞ্চলের মানুষের শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তাসহ এই আলাপের মুখ্য বিষয় শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হাওরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উপরি—উক্ত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশী হতে হবে শ্রেণিনির্বিশেষে সকলেই। এজন্য একটি জোর আন্দোলননের সূত্রপাত করার আহ্বান রাখা যায়। কিন্তু তা কার্যকর করা কি আসলেই সম্ভব ? যদি সম্ভবও হয়, তাতে হাওরাঞ্চচলের দুর্দশা কি পুরোপুরি কাটবে ? মনে হয় কাটবে না। তার জন্যে চাই একটি সামাজিক বিপ্লব, যার ফলে সমাজের গোটা সামাজিক—আর্থনীতিক গঠনরূপের একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে, বদলে যাবে সমাজটা, পুরনো সমাজটার জায়গায় দেখা দেবে নতুন এক সমাজ।
বিশ^ব্যাপী বর্তমান পুঁজিতান্ত্রিক সমাজ চলে ব্যক্তিমালিকনাসঞ্জাত এইসব অসঙ্গতিগুলোর কাঁধে ভর করে। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়, হাওরাঞ্চল সে—পরিসরেই অবস্থান করছে। তার পরিবর্তন চাই। যারা হাওরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে পাল্টাতে চান, আসলে তাঁদের প্রস্তাবটা কী? তারা শিক্ষাখাতে কী পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন? এবংবিধ প্রশ্ন উঠতেই পারে। মনে হয়, তারা যে দাবিই কিংবা যে প্রস্তাবই উপস্থাপন করেন না কেন, বর্তমান আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকাঠামোর পরিসরে সে—দাবি বা প্রস্তাব অনুমোদনযোগ্য নয়। পরিণতিতে ‘নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন’—এর অকার্যকরতাই প্রতিপন্ন হবে। অগত্যা চাপের মুখে স্বীকৃতি দিলেও তা হবে কেবল কাগজে কলমে, কিন্তু বাস্তবে সেটা মেহনতি শ্রমিক ও কৃষকদের রাজনীতিক ও আর্থনীতিক কোনও স্বার্থ হাসিল করতে পারবে না, অথবা স্বার্থ হাসিলের সম্ভাবনা খুব কম। এই দেশে সংবিধানে সমতা, বৈষম্যহীনতা, সমানাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার ইত্যকার বিভিন্ন নীতির সার ‘সমাজতন্ত্র’ লিখে রাখা হয়েছিল বটে, কিন্তু সে স্বীকৃতি বাস্তবে কার্যকর হয় নি দীর্ঘ ৫৪ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও। এর একটি মাত্র কারণই আছে। আর কারণটি হলো দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির লাগাম মেহনতি শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থবিরোধী শক্তির করায়ত্বে আছে, যে শক্তিকে কেউ কেউ ব্যঙ্গার্থে ‘চোরতন্ত্র’ বলে অভিহিত করে থাকেন। এখানে অর্থনীতির চালক পুঁজি এবং পঁুজি প্রতিনিয়ত সমাজসদস্যদের মধ্যে সম্পদের সমান—অধিকারের বিরোধী ও প্রবল আত্মসাৎপ্রবণ। কারণ পুঁজি একটি ক্রমাগত আত্মসম্প্রসারণশীল মূল্য, নিজেকে কেবল বাড়িয়েই চলে, না বাড়লে তার মৃত্যু অনিবার্য এবং চৌর্যবৃত্তিই তার আদর্শ কেবলম। তাই মেহনতি শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থে পরিচালিত আন্দোলনের যে সব দাবি বা প্রস্তাব বিদ্যমান আর্থসামাজিক বিন্যাস বা সমাজসংস্থিতির অনুকূল নয় তার সামাজিক বাস্তবায়ন হয় না, ব্যর্থতায় পর্যসিত হয় এবং প্রকারান্তরে দাবি ও প্রস্তাব আকারে জনপ্রিয় বুলির মর্যাদা লাভ করে।‘লাঙ্গল যার জমি তার’ কিংবা ‘জাল যার জল তার’ এই দুই জনপ্রিয় বুলি যদিও আপাতদৃষ্টিতে জমি ও জলের মালিকানা কৃষক ও জেলের হাতে তোলে দেওয়ার স্বপ্ন বুনছে, কিন্তু প্রকারান্তরে লাঙ্গল ও জালের মালিক কৃষক ও জেলে হতে পারছে না, এই দুই উৎপাদনের উপকরণের মালিক হচ্ছেপুঁজির মালিক ধনকুবের, যে কৃষক কিংবা জেলে নয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে জমি ও জলের মালিকানা পুঁজিপতির হাতেই থাকছে।
হাওরাঞ্চলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের আন্দোলন করা যেতেই পারে। সুহৃদ কুমার সৌরভ মনে করেন, হাওরাঞ্চলে স্কুলকে শিক্ষার্থীর ঘরে নিয়ে যেতে হবে, শিক্ষার্থী স্কুলে যাবে না। প্রসঙ্গটির বিস্তারিত বয়ান এখানে আপাতত পেশ করতে পারছি না, কেবল উল্লেখ করলাম। বলা বাহুল্য, এই দাবি নিয়ে আন্দোলন হতেই পারে। কিন্তু বর্তমান সমাজসাংস্থিতিক পরিসরে তা কেবল আন্দোলনে উচ্চকিত উচ্চারণকে একটি জনপ্রিয় বুলিতে পর্যবসিত করার আশঙ্কাকেই উসকে দেয়। কারণ নয়া ঔপনিবেশিকতা কর্তৃক উন্নতিকামী দেশের উন্নয়নকে ঠেকিয়ে রাখার রাজনীতিক ও আর্থনীতিক কার্যক্রমকে প্রতিহত করা একটি কঠিন কাজ। তারপরও পর আছে, এর মোক্ষম পরিণতির কথাও কারও কারও লেখায় উচ্চকিত হয়েছে। একজন বিশ^বিখ্যাত দার্শনিক লেখক ঝা—পল সার্ত্র আর এক বিখ্যাত লেখক ফ্রাঞ্জ ফানো—এর বই ‘জগতের লাঞ্ছিত’—এর ভূমিকায় প্রসঙ্গক্রমে মন্তব্য করেছেন, “যে—সকল দেশে উপনিবেশবাদ জোর করে উন্নতি আটকে রেখেছে, সে—সকল দেশে কৃষকরা জেগে উঠলে ত্বরিত একটি বিপ্লবী শ্রেণিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়; কারণ তারা নগ্ন অত্যাচারের স্বরূপ জানে এবং শহরের শ্রমিকদের চেয়ে বেশি দুঃখ—কষ্ট ভোগ করে, আর ক্ষুধায় মৃত্যুবরণ করার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য সকল বিদ্যমান কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংসের দাবি জানায়।” (ঝা—পল সার্ত্র, ভূমিকা \ জগতের লাঞ্ছিত, ফ্রাঞ্জ ফানো, অনুবাদ : আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মাওলা ব্রাদাার্স, দ্বি.মু. আগস্ট ২০১৭, পৃষ্ঠা : ী)। শিক্ষাব্যবস্থাকে জনমুখি করে তোলতে হাওরাঞ্চলের মেহনতি কৃষক—মজুর—জেলে প্রভৃতি নিপীড়িত শ্রেণিপেশাসহ সকল স্তরের মানুষকে আসলেই বিদ্যমান আর্থসামাজিকগঠনরূপের ধ্বংসস্তূপের উপর ‘জনশিক্ষা’র ভিত নির্মাণ করে অগ্রসর হতে হবে।
সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন