শহরে চোরের এতো উৎপাত কেন ?

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ২৩:০৮

ইদানিং সুনামগঞ্জ শহরে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চুরির উৎপাত বেড়ে যাওয়ার খবরে শহরবাসী আতংক বোধ করছেন। শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরিতে দুই দফা চুরির পর আলফাত উদ্দিন স্কয়ার সংলগ্ন একটি ইলেকট্রনিক্স দোকান ও একটি ফার্মেসিতে চুরি হয়। এই দোকান দুইটি সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন করে কেবল চালু করা হয়েছিলো। এরপর শহরের জুয়েলারি পট্টি হিসেবে পরিচিত কালীবাড়ি এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে চুরির চেষ্টা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত (এআই) সিসি ক্যামেরা থাকার কারণে দোকানের ভিতর চোর ঢুকার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকের মোবাইলে সতর্ক সংকেত বাজতে থাকে। মালিক তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানালে পুলিশ দোকান থেকে বমাল চোরকে ধরতে সক্ষম হয়। পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া দানের ঘটনাটি প্রশংসনীয়।  এরপর বুধবার রাতে সদর থানার উল্টোদিকের মার্কেটের দুইটি দোকানেও চুরি সংঘটিত হয়। এইসব ধারাবাহিক চুরির ঘটনা জনমনে সংশয় ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) শহরে চুরি বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হঠাৎ করে কেন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চুরি বেড়ে গেলো, এর পেছনে কী রহস্য; তা উদ্ঘাটনসহ জড়িত চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বলাবাহুল্য শহরে এরকম ধারাবাহিক চুরির ঘটনা অতীতে শোনা যায় নি। চুরির এইসব খবর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ার কারণে বিষয়গুলো জানাজানি হয়েছে। পাড়া—মহল্লায় সংঘটিত চুরির ঘটনা অনেকে থানায় বা সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন না। ফলে শহরের অন্যত্র অর্থাৎ আবাসিক এলাকাগুলোতে কী পরিমাণ চুরি সংঘটিত হচ্ছে তা পত্র—পত্রিকার সংবাদ হিসেবে জনসমক্ষে আসছে না। সর্বদা চুরির ভয়ে তটস্ত হয়ে একটি শহরে বসবাস করা নাগরিকদের জন্য অস্বস্তিকর। 

 


নিরাপদে বসবাস ও ব্যবসায় পরিচালনা করা নাগরিকের মৌলিক চাহিদা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর ব্যত্যয় মানেই রাষ্ট্রের পক্ষে শহর নিরাপদ রাখতে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন তাঁরা নিরাপত্তা বিধান করতে পারছেন না। নিরাপত্তাহীনতা থেকে নাগরিকদের ভিতর আস্থাহীনতা তৈরি হয়। শহরে চুরির ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় এগুলোর পিছনে কোনো সংগঠিত চক্র জড়িত আছে। এগুলো ছিঁচকে চুরি নয়। রীতিমতো তালা ও গ্রিল ভেঙে চুরি করা হচ্ছে। চুরির স্পটগুলো দেখুন ? একেবারে শহরের যে—সব এলাকা সবচাইতে নিরাপদ বলে ভাবা হয় সেখানেই চুরিগুলো (সংবাদ আকারে জনসমক্ষে প্রচারিত হওয়া) হচ্ছে। এখন অনেক মার্কেটে বেতনভোগী নৈশপ্রহরী থাকেন। শহরে থাকে পুলিশের টহল। রয়েছে সিসি ক্যামেরার নজরদারি। এতোসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে যে চক্র চুরি করছে তাদের হিম্মত আছে বলতে হয়। সাধারণ নাগরিককে যদি চুরি আটকানোর দায়িত্ব নিতে হয় তাহলে তাঁদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হবে। যা বাস্তবসম্মত তো নয়ই, কোনো যুক্তিও বলা যাবে না এর পক্ষে। তাহলে চুরিসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার ?  

 

 


শহরের নাগরিক সমাজ শান্তিতে রাতে ঘুমাতে যেতে চান। ব্যবসায় শেষে দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাসায় নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে চান। এমন পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। তালা লাগানো, শক্ত গ্রিলের ব্যবস্থা করা কিংবা সিসি ক্যামেরা স্থাপন অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য সহায়ক বটে। কিন্তু এগুলোই চূড়ান্ত নয়। দেখা গেছে দক্ষ চোরচক্র অনায়াসেই তালা ভাঙতে পারে, গ্রিল কাটতে ওস্তাদ এবং সিসি ক্যামেরা অচল করার জন্য ডিভিডি থেকে লাইন বিচ্ছিন্ন করার মতো প্রাযুক্তিক কৌশলও জানা। সুতরাং চুরি নিয়ন্ত্রণে এগুলোর সাথে আসল কাজ করতে হবে পুলিশ বাহিনীকে। গোয়েন্দা ও টহল কার্যক্রম বাড়িয়ে শহরবাসীর মনে নিরাপত্তাবোধ জাগ্রত করতে হবে। সদর থানা পুলিশ মাদক, জুয়াসহ নানা ধরনের অপরাধী সনাক্ত ও আটকে বেশ সুনামের পরিচয় দিচ্ছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনগণকে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ উদ্বুদ্ধমূলক কন্টেন্ট দিচ্ছেন। মানুষের মধ্যে এতে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। এজন্য অতীতে আমরা তাঁর ও সদর থানা পুলিশের প্রশংসা করেছি। কিন্তু এসবের সাথে যদি শহরে ক্রমাগত চুরির ঘটনা বাড়তে থাকে তাহলে তাঁদের সকল সফলতাই মলিন হযে যাবে। আমরা সদর থানা পুলিশের সফলতা দেখতে চাই সর্বত্র। তাঁদেরকে শহরের মানুষকে চুরির আতংক থেকে মুক্ত করতে হবে। শান্ত এই শহরটি যাতে চোরদের অপচ্ছায়ায় কলঙ্কিত ও আতংকের জনপদে পরিণত না হয় সেদিকে লক্ষ্য দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার