প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫২
সরকারের যে কোন সহায়তার অর্থ উপকারভোগী সংগ্রহ করেন বা উত্তোলন করেন। কিন্তু শাল্লায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দরিদ্রের সরকারি চিকিৎসা সহায়তার প্রায় অর্ধেক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় বিকাশের মাধ্যমে টাকা ফেরত দিয়েছেন সেই ইউপি সদস্য।
অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যর নাম নুরুল হক, তিনি শাল্লা উপজেলার উজানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি আটগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, বর্তমানে তার কোন পদ নেই।
গত ১৯ জুলাই রবিবার শাল্লা উপজেলা সদরে এই ঘটনা ঘটে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত উপকারভোগীর নাম সুবল সূত্রধর, তার বাড়ি উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামে। ঘটনার ৪ দিন পর গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে সেই টাকা উপকারভোগীর ছেলের মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছেন। সরকারি সহায়তার ৫০ হাজার টাকার মধ্যে নুরুল হক ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
অবশ্য অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা নুরুল হক বলেন, আমি কোন টাকা নেইনি। সামনে নির্বাচন, তাই আমার প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। একটি চক্র তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, আমি সেই টাকা উদ্ধার করে দিয়েছি। তবে ওই চক্রের নাম ও কার কাছ টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উপকারভোগীর সুবল সুত্রধরের স্ত্রীর একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
জানা যায়, গোবিন্দনগর গ্রামের সুবল সূত্রধর দেড় বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তার ছেলে সুপ্র সূত্রধর মাঠমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালান। তাদের এক আত্মীয় সুবল সূত্রধরের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে অনলাইনে আবেদন করান। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সুবল সূত্রধরের চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুমোদন হয়। এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক কিছুদিন আগে সুবল সূত্রধরের স্ত্রী প্রণতি সূত্রধরকে একটি সহায়তার দেওয়ার জন্য বলেন। তবে ওই সরকারি সহায়তা ৫০ হাজার টাকা অনুমোদন হলেও অফিসের নানা খরচসহ তাদের ৩০ হাজার টাকা দিবেন বলে জানান। এরপর গত ১৯ জুলাই রবিবার সকালে উপকারভোগি সুবল সূত্রধর, তার স্ত্রী প্রণতি সূত্রধর, ছেলে সুপ্র সূত্রধরকে নিয়ে উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকে যান নুরুল হক। সেখানে দু’টি টিপসই নিয়ে টাকা উত্তোলন করেন নুরুল হক। কিন্তু ব্যাংকের ভেতরে তাদের হাতে টাকা না দিয়ে নৌকায় গিয়ে ৩০ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন এবং নৌকা ভাড়া বাবদ আরও ১৫০০ টাকা নেন।
উপকারভোগি সুবল সূত্রধরের স্ত্রী প্রণতি সূত্রধর ও ছেলে সুপ্র সূত্রধর বলেন, সরকারি সাহায্য আসছে এমন খবর দিয়ে আমাদেরকে উপজেলায় নেওয়া হয় এবং সোনালী ব্যাংকে নিয়ে সুবল সূত্রধরের দুইটি টিপসই নেওয়া হয়। এরপর ট্রলারে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দেন নুরুল হক মেম্বার। এছাড়াও ট্রলার ভাড়া বাবদ ১৫০০ টাকা দেই আমরা। পরে আমারা জানতে পারি, ৫০ হাজার টাকা তোলে আমাদের ৩০ হাজার দিয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ৪ দিন পর বিকাশে ২০ টাকা ফেরত দিয়েছে।’
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নুুরুল হক আগে ইউনিয়ন কমিটির পদে ছিল, এখন তার কোন পদ নেই। বর্তমানে সে স্থানীয় ইউপি সদস্য। একজন গরিব মানুষের সরকারি চিকিৎসা সহায়তার ২০ হাজার টাকা সে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগের ভিডিও ফেসবুকে দেখেছি। নুরুল হক দলের পদে না থাকলেও বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলা হয়েছে। ’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী বললেন, সরকার দরিদ্রদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য টাকা প্রদান করে। অনলাইন আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই—বাছাই শেষে উপকারভোগীর ব্যাংক হিসেবে টাকা জমা হয়। সহায়তা অনুমোদন হওয়ার পর সমাজসেবা অফিসের কোন কাজ থাকে না। উপকারভোগীর ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভিডিও আমাদের নজরে পড়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ’
উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে পড়েছে, উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সাথেও কথা বলেছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন