জগন্নাথপুরের পাঁচ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিন

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২২:৪৭

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০২২ সনের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ঝঁুকিপূর্ণ সেতু নতুন করে নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ প্রদান করার পরও সেতুগুলোর কোনো কাজ শুরু হয়নি। গত ৩০ জুন এই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। সরকার পরিবর্তনের পর বহু রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট ঠিকাদার কাজ শেষ না করে পলাতক হয়েছে। জগন্নাথপুরের এই পাঁচ সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মো: জামিল ইকবাল। প্রতিষ্ঠানটি কোথাও কাজ শুরু করেনি। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এলজিইডি ঠিকাদারের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অনুমিত হয় এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও সরকার পরিবর্তনের পর লাপাত্তা হয়েছে। কার্যাদেশ প্রদানের পর বহুদিন গত হলেও এলজিইডি  ঠিকাদার পরিবর্তন করে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেনি। সেতুগুলো নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ২৫ কোটি টাকা। এখন এলজিইডি বলছে, কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ৩০ জুন ২০২৬ এর ভিতর কাজ শেষ না করায় আগের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এখন নতুন টেন্ডার করে সেতুগুলো নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন এই সময়ক্ষেপণ ? যেহেতু ঠিকাদার আদৌ কোনো কাজই শুরু করেনি সেখানে বহু আগেই এরজিইডি’র এমন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া প্রত্যাশিত ছিলো। অর্থাৎ তাঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাবেক ঠিকাদারের আগমন প্রত্যাশায় ছিলেন । টেন্ডারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ঠিকাদারকে এমন অবারিত সুযোগ দেয়ার অবকাশ নেই। বহু আগে  পুরনো ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগক্রমে কাজ শুরু করার কথা ছিলো। অথচ সংশ্লিষ্ট সেতু ব্যবহারকারী এলাকাবাসী তাঁদের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমাতে এই সেতুগুলোর দ্রুত নির্মাণ দেখতে চেয়েছিলেন। জনগণের প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষার সাথে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এই যে সীমাহীন দূরত্ব, তাই আমাদের উন্নয়ন কাজের বড় অন্তরায়। 

 

 


কার্যাদেশভুক্ত সেতুগুলো হলো— কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর সেতু, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সেতু, পাটলি ইউনিয়নের লাউতলা ও রসুলগঞ্জ সেতু এবং মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি সেতু। জগন্নাথপুর উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য এই সেতুগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতুর অভাবে ওই এলাকার মানুষ সরাসরি সড়ক যোগাযোগ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে নিত্যদুর্ভোগ সহ্য করছেন। দুর্ভোগের শিকার জনৈক রমজান আলী যথার্থই বলেছেন— ‘ঠিকাদারের নৈরাজ্যের কারণে সেতু, সড়ক কোনোকিছুর সংস্কার হচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে নাগরিকদের জীবন দুর্বষহ হয়ে উঠেছে’। এই নাগরিকের উপলব্ধি যেদিন রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান না বুঝবে ততোদিন আমাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন—অগ্রগতিও সোনার হরিণ হয়েই অধরা থাকবে। এই সাধারণ নাগরিকটিও ঠিকাদারের নৈরাজ্য তৈরির ক্ষমতা ও আমলাতন্ত্রের জটিলতা তৈরির ক্যারিসমা সম্পর্কে অবগত। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নাগরিকদের বোকা ভাবার দিন আর নেই। সাত—পাঁচ তেরো বুঝানোর দিন গত হয়েছে বহু আগেই। এখন সবাই সবকিছু বুঝে। কেবল নিজের ভাবনাটুকু অসংকোচে প্রকাশের দুরন্ত সাহস দেখাতে পারে না। একদিন হয়তো পারবে। সেদিন ঠিকাদার আর আমলাতন্ত্রের এমন নির্লিপ্ততার অবসান ঘটবে। 

 

 


যে সেতুগুলো নির্মাণ অথবা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ আছে সেই সেতুগুলোর কাজ ঝুলিয়ে রাখার মধ্যে বাহাদুরির কিছু নেই। বরং যে উপকারভোগী জনসাধারণ এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার দাবিদার তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আমাদের প্রশ্ন হলো, এই পাঁচ সেতু নির্মাণ শুরু ও শেষ করা নিয়ে এই যে তালবাহানা চলছিলো, সেখানে অন্য ক্ষমতাসীন পক্ষগুলো কী করছিলেন? ওইসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা কি এতোদিন নিশ্চুপ ভূমিকায় ছিলেন? তাঁদের তো এলাকার উন্নয়ন প্রশ্নে সোচ্চার থাকার কথা ছিলো। কয়েকটি বছর চলে গেলো এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি এমন অদ্ভুত বাস্তবতা বোধ করি আমাদের দেশেই সম্ভব। যাহোক, গতস্য শোচনা নাস্তি। এরচাইতে বরং সামনের দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করা অধিকতর মঙ্গলজনক। অতীতের যাবতীয় ব্যর্থতা আমরা একেবারে মুছে ফেলতে চাই। দেখার বিষয় হলো, এই পাঁচ সেতু পুনরায় টেন্ডারপ্রক্রিয়া শেষ করে কতো দ্রুত এলজিইডি বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারে। পরিবর্তিত বাংলাদেশে তাঁদের এই প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। জগন্নাথপুরের চারটি ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষের কল্যাণ ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য এই সেতুগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য আমরা অনুরোধ জানাই। একইসাথে যে ঠিকাদারের কারণে এতোগুলো সময়ের অপচয় ঘটলো, মানুষের দুর্ভোগের মেয়াদ বাড়লো; সেই ঠিকাদারও যাতে উপযুক্ত আইনি সাজার আওতায় আসে তাও নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা ঠিকাদারদের নৈরাজ্য চলতেই থাকবে। নতুন পরিচয়ের পুরনো ঠিকাদার নয়, আমরা চাই মননে—মগজে প্রতিশ্রম্নতিশীল ঠিকাদারি প্রথা। যেখানে মুনাফার সাথে দায়বদ্ধতাও থাকবে অপরিহার্য হয়ে।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার