প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৯
সংগৃহীত ছবি
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা কিছু পরিচিত খাবারই অজান্তে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ক্যানজাত স্যুপ, চিপস, কোমল পানীয় ও ফাস্টফুড নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। তবে সময়মতো নিয়ন্ত্রণে না আনলে এটি হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাসহ নানা গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমলে পানি ধরে রাখার প্রবণতা বাড়ে, ফলে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মানুষ যে সোডিয়াম গ্রহণ করে, তার বড় অংশই আসে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানজাত স্যুপ, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, হিমায়িত খাবার, চিপস, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং প্রস্তুত সস।
এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনি-যুক্ত কোমল পানীয় ও মিষ্টিজাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। একইভাবে ভাজাপোড়া খাবার, কেক, পেস্ট্রি ও ফাস্টফুডে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘদিনে রক্তনালির ক্ষতি করে এবং রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বেকন, সসেজ, হ্যাম, সালামি ও হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এসব খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত লবণ ও সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে তাজা চর্বিহীন মাংস, মাছ, শিম, মসুর ডাল এবং চামড়াবিহীন মুরগির মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাদ্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পাশাপাশি কলা, পালং শাক, টমেটো, আলু ও শিমের মতো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত লবণ কম খাওয়া, কোমল পানীয়ের বদলে পানি পান করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা জরুরি। এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন