প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৫৫
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ফের উজ্জ্বল ভারতীয় স্বাধীন চলচ্চিত্রের নাম অনুপর্ণা রায়। তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘সংস অব ফরগোটেন ট্রিস’—এর জন্য ৮২তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অরিজোন্তি বিভাগে’ সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। ঠিক এক বছর পর, তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট’ নিয়ে পুনরায় বিশ্বখ্যাত এই উৎসবে ফিরছেন তিনি। এবারও ৮৩তম ভেনিস উৎসবে ছবিটি ‘অরিজোন্তি প্রতিযোগিতা’ বিভাগে একমাত্র ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
তবে সিলেটবাসীর জন্য বিশেষ চমক ও গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই চলচ্চিত্রটি। মুম্বাইয়ের চঞ্চল ও অস্থির রাতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবির সংলাপে হিন্দি ও মারাঠির পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে সিলেটি বাংলা। সিলেটি ভাষার ব্যবহার তাঁর চলচ্চিত্রে একটি শৈল্পিক ও কাহিনীর প্রয়োজনে রাখা হয়েছে, যা প্রবাসে থাকা সিলেটিভাষী অভিবাসীদের জীবনের অংশ তুলে ধরে।
চলচ্চিত্রটি শহর জীবনের একাকীত্ব, মাইগ্রেশন, আত্মপরিচয় এবং এমন এক মহানগরে নিজের স্থান খোঁজার গল্প তুলে ধরে। ‘লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট’ ছবিটিতে চারজন শ্রমজীবী অভিবাসীর জীবন সংগ্রাম, প্রেম ও টিকে থাকার লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে মুম্বাই শহরে বসবাসকারী বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক ও অভিবাসী মানুষদের নিয়ে তৈরি। কাজের সূত্রে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুম্বাইয়ে আসা প্রান্তিক মানুষদের বাস্তব জীবনকে ফুটিয়ে তুলতে পরিচালক সংলাপে কৃত্রিমতার আশ্রয় নেননি। ভিন্ন অঞ্চলের অভিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতির স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ছবিতে সিলেটি ভাষা স্থান পেয়েছে। বিশ্বমঞ্চে সিলেটের ভাষাকে এভাবে তুলে ধরা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য শৈল্পিক সংযোজন।
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার সন্তান ৩২ বছর বয়সী এই তরুণ পরিচালক জানান, এই গল্পটি তাঁর নিজের জীবনের দেখা এক সত্য অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। ছোটবেলায় তাঁর নিজ শহরে আমিনা নামের এক বাঁধা শ্রমিক নারীকে চিনতেন তিনি, যার জীবনবোধ ও ব্যক্তিগত কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই স্মৃতিকে সম্বল করে এক কাল্পনিক মুম্বাইয়ে আমিনার মতো হাজারো অভিবাসীর নিজের শর্তে বাঁচার লড়াই আঁকা হয়েছে এই ছবিতে।
পরিচালক অনুপর্ণা রায় বলেন, একজন অভিবাসী হিসেবে শ্রমজীবী মানুষদের চঞ্চল মুম্বাই শহরের মাঝে ধীর গতিতে মিলিয়ে যেতে দেখেছি। এটি এমন কিছু মানুষের গল্প যারা এক কঠোর জগতে ভালোবাসার সাহস দেখায়। আমি আশা করি এটি আরও সৎ, নির্ভীক এবং গভীরভাবে মানবিক গল্পগুলোকে তাদের দর্শকের কাছে পৌঁছাতে উৎসাহিত করবে।
‘আম্মি মিডিয়া’র সহযোগিতায় ‘খান অ্যান্ড কুমার মিডিয়া’র ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন বিকাশ কুমার, শারিফ খান, বিভাংশু রায় ও রোমিল মোদি। অভিনয়ে রয়েছেন নীলিমা শর্মা, প্রীতম পিলানিয়া, ভূষণ শিম্পি, জতিন সারিন, কাজল কেশব এবং বিনোদ সূর্যবংশী।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরপর দু’বার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবি প্রিমিয়ার হওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অনুপর্ণা রায় অন্যতম। তবে বিশ্বমঞ্চে মুম্বাইয়ের গল্পে সিলেটি ভাষার এই সুর ও আবেদন দর্শকদের কেমন দোলা দেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন