প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৭
বিভাগীয় কমিশনার
সু.খবর ছবি
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ দেখায়। সমাজে এমন মানুষই প্রকৃত নায়ক, যাঁদের অনুসরণ করে অন্যরা উদ্বুদ্ধ হয়। নিজের তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করে যাওয়া মানুষের প্রতি সম্মান জানানো যেমন সমাজের দায়িত্ব, তেমনি তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করাও সবার কর্তব্য।
বৃহস্পতিবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট আয়োজিত বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিনকে পরিবেশ সংরক্ষণের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা স্মারক প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নাসির উদ্দিন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব বা ব্যক্তিগত লাভের আশায় নয়, বরং নিজের আন্তরিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে যাচ্ছেন। একজন মানুষ যদি নিয়মিত সময় দিয়ে নিজের এলাকার পরিচ্ছন্নতায় ভূমিকা রাখতে পারেন, তবে অন্যরাও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে পুরো সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, বরং ড্রেন ও পানিপ্রবাহের পথ সচল রেখে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, একটি গ্রাম পরিচ্ছন্ন ও আদর্শ হতে পারলে অন্য গ্রাম কিংবা একটি উপজেলাও তা অনুসরণ করতে পারে। নাসির উদ্দিনকে অনুসরণ করে প্রথমে মোল্লাপুর, এরপর বিয়ানীবাজার, সিলেট জেলা এবং পর্যায়ক্রমে পুরো বিভাগকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি যেখানে—সেখানে বর্জ্য না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, নাসির উদ্দিন সম্মান বা পুরস্কারের জন্য নয়, বরং নিজের আনন্দ ও দায়িত্ববোধ থেকে এ কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এ নিঃস্বার্থ উদ্যোগের স্বীকৃতি অন্যদেরও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি নাসির উদ্দিনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং এ মহৎ কাজ অব্যাহত রাখার তৌফিক কামনা করেন।
সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক বনানী দাস, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু বকর ছিদ্দিকী, সিনিয়র টেকনিশিয়ান আল মামুন, সাংবাদিক গুলজার আহমদ হেলাল এবং মোল্লাপুর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মো. নাসির উদ্দিন ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ দীর্ঘ ৩০ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় চারপাশ পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি নিয়মিত গ্রামের সড়ক, নালা—নর্দমা, ড্রেন ও ছড়া পরিষ্কার করার পাশাপাশি গবাদিপশুর মলসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন