প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৯
ছাতকের সোনালী চেলা নদী
ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নাছিমপুর বাজারে সোনালী চেলা ক্ষুদ্র বালু ব্যবসায়ী সমিতি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, চেলা নদীসংলগ্ন সোনাপুর, কলাবাগান, কাজিরগাঁও, আলমপুর, শারপিনপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বসতভিটা, সরকারি বনাঞ্চল ও ফসলি জমি।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিলে তাদের আন্দোলনে নামতে হতো না। অবৈধ ড্রেজারের কারণে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ইজারাবহির্ভূত এলাকায় বালু উত্তোলন চললেও তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
প্রতিবাদ সভা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিমের সভাপতিত্বে এবং হাফিজ মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন হাফিজ ফয়াজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য নুরু মিয়া, আবুল বাশার, জালাল উদ্দিন, নাছিমপুর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি, বিএনপি নেতা মো. খলিলুর রহমান, আপ্তাব উদ্দিন, মো. নওশাদ জামিল, মো. রুবেল আহমেদ ও মো. ইসরাইল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সুহেল বলেন, কাজিরগাঁও, সোনাপুরসহ আশপাশের গ্রামের জনবসতি, ফসল রক্ষা বাঁধ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় মানুষের এই দাবি যৌক্তিক। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন