প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৪
গত ২৬ জুলাই রাতে আটগাঁও ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রুপ মিয়া ওরফে রুইক্কার বাড়ি থেকে একটি রহস্যময় ম্যাগনেট পিলার উদ্ধার করে শাল্লা থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পালিয়ে যান রুপ মিয়া। এ নিয়ে শাল্লা থানায় একটা মামলাও হয়। এরপর থেকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য রুপ মিয়াকে হন্য হয়ে খোঁজে শাল্লা থানা পুলিশ।
জানা গেছে, রুপ মিয়া পালিয়ে গিয়ে উপজেলার নারকিলা গ্রামে তার এক স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। গত পহেলা আগস্ট রাত সাড়ে আটটায় এএসআই গোলাম কিবরিয়া সহ পুলিশের একটি টিম নারকিলা গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তাজেল মিয়া ও ম্যাগনেট পিলার কান্ডে জড়িত রুপ মিয়াকে আটক করে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
রুপ মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মদ,গাঁজা সহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকাণ্ডে এএসআই গোলাম কিবরিয়াকে নিয়ে এলাকায় তুমূল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৪ জুলাই শাস্তিমূলক বদলী হিসেবে শাল্লা থানায় আসেন এএসআই গোলাম কিবরিয়া। কিন্তু এখানে এসেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এদিকে রুপ মিয়াকে আটক করেও ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি সূত্র এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
নারকিলা গ্রামের আবিদুল মিয়া সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সেদিন অভিযানে নারকিলা গ্রামে রুপ মিয়া নামক এক ব্যক্তিকেও আটক করে পুলিশ। পরে এলাকার মানুষ বলাবলি করতে শুনেছি চৌদ্দ হাজার টাকা দিয়ে রুপ মিয়া মুক্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, পিলার কান্ডে জড়িত থাকা সত্ত্বেও রুপ মিয়াকে পুলিশ আটক করেও ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি কথা বার্তা আছে।
রুপ মিয়ার প্রতিবেশী দৌলতপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, নারকিলা গ্রামে পুলিশ রুপ মিয়াকে আটক করার পর রুপ মিয়ার বাড়ি দৌলতপুরে হৈ—হুল্লা শুরু হয়। রুপ মিয়ার স্ত্রী ও মেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। পরে অনেকেই বললো তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। পুলিশকে টাকা দিয়ে হয়তো তাকে ছাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এএসআই গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি রুপ মিয়া নামক কাউকে চিনি না— এরপর তিনি ফোন কেটেদেন।
পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, ম্যাগনেট পিলার কাণ্ডে মামলা হয়েছে। তাকে যেহেতু আটক করা হয়েছিল, থানায় নিয়ে আসলে ভাল হতো। এ বিষয়ে আমি কথা বলবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন