প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৩
লিডিং ইউনিভার্সিটির সেক্সোয়াল হ্যারাসমেন্ট এন্ড ডিজিটাল ভায়োলেন্স কমিটির উদ্যোগে 'যৌন হয়রানি ও ডিজিটাল সহিংসতা বিষয়ক সচেতনতা'-শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাগীব আলী ভবনের গ্যালারী-১ এ অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। এতে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়ার্ক বিভাগের প্রফেসর ড. তাহমিনা ইসলাম।
যৌন হয়রানি ও ডিজিটাল সহিংসতা উদ্বেগজনক সামাজিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে সেমিনার উদ্বোধনী পর্বে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, কোন বিষয়ে ভোগান্তির চেয়ে সচেতনতা শ্রেয়। তিনি বলেন, নারীদের সম্মান করতে হবে নিজের মা/বোন বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো। এমনকি প্রতিবেশি, সহপাঠী, শিক্ষক এবং অন্যান্যদের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। তিনি আরো বলেন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি যা শারীরিক, মৌখিক, বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হতে পারে। সেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে এ ধরনের সেমিনার খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সেমিনারের মূখ্য আলোচকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে অনেক কিছু জানতে এবং শিখতে পারবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করে সেমিনার আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মূখ্য আলোচক প্রফেসর ড. তাহমিনা ইসলাম বলেন, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেলে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, বিষয়টিকে এড়িয়ে না গিয়ে হ্যারাসমেন্টের প্রতিবাদ করা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হতে হবে। লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এ সংক্রান্ত যে কমিটি রয়েছে তাদেরকে বলা এবং শিক্ষার্থীর সাথে যা ঘটছে সে সম্পর্কে এমন কারো সাথে কথা বলা যার সাথে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন । যৌন হয়রানি শিক্ষার্থীদের শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন হয়রানি বেড়ে চলছে। তাই নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, নারীরা অনলাইনে অপমানজনক মন্তব্য, অবাঞ্ছিত বার্তা, ভুয়া পরিচয় তৈরি বা ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার মতো হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। তাই ডিজিটাল হয়রানি রোধে নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানান তিনি। পাশাপাশি সন্তানরা অনলাইনে কী করছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, এসব বিষয়ে সচেতন নজর রাখা দরকার বলে মনে করেন তিনি। তবে শুধু নজরদারি নয়, ছেলে / মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ছোটবেলা থেকেই মূল্যবোধ, সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দেয়া বেশি কার্যকর। তিনি বলেন, নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গড়তে ব্যক্তিগত সচেতনতা, পারিবারিক সমর্থন, সামাজিক মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো, সবকিছুর সমন্বয়ই প্রয়োজন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু প্রযুক্তি বা ডিজিটাল মাধ্যমে কতটুকু ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা যাবে সেটি জানতে হবে। আবেগের বশে এমন কিছু করা যাবে না, যা ভবিষ্যতে ক্ষতি ডেকে আনে। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় কতটুকু ব্যক্তিগত কথা বলব সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। মেয়েরা যখন দেখবে কোন বন্ধু তার সঙ্গে খারাপ কথা বলার চেষ্টা করছে, তখনই সেটিকে স্টপ করাতে হবে। প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় আত্মসম্মানবোধ গড়ে তোলা এবং অন্যায় দেখলে সাহস নিয়ে দাঁড়াতে শেখা। তিনি বলেন, ডিজিটাল হ্যারাসমেন্ট যারা করে তাদের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে মানসিকভাবে ভুক্তভোগীকে কষ্ট দেয়া। তাই কেউ কখনো হ্যারাসমেন্ট হলে ভেঙে পড়লে চলবে না। নিজের ক্ষতি না করে বিষয়টি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা ও মোকাবেলা করতে হবে। পরিশেষে তিনি এ সেমিনারের আয়োজন করার জন্য লিডিং ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার জানতে হবে। এর নিরাপত্তার বিষয়গুলো জানতে হবে। এ নিয়ে কথাও বলতে হবে।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম।
লিডিং ইউনিভার্সিটির সেক্সোয়াল হ্যারাসমেন্ট এন্ড ডিজিটাল ভায়োলেন্স কমিটির আহবায়ক ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিসেস শাম্মি আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান এবং পরিচালক অর্থ ও হিসাবে মোহাম্মদ কবির আহমেদ।
ইংরেজি বিভাগের ৬৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তারের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন