বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবা বাড়ানোর দিকে নজর দিন

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩২

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের এক সংবাদে সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনালের যে করুণ চিত্র উঠে এসেছে তা এক কথায় হতাশাজনক। একটি জেলা সদরের প্রধান বাস টার্মিনাল এমন দৈন দশায় থাকতে পারে তা চিন্তার অতীত। এই বাস টার্মিনালটি কয়েক দশক আগে নির্মিত হলেও একসময় এই টার্মিনালের সম্মুখভাগ কেবল সুনামগঞ্জ—সিলেট সড়কের যানবাহন চলাচলের জায়গায় পরিণত হয়। পিছনের টিনশেড টার্মিনাল অব্যবহৃত পড়ে থাকে। টার্মিনাল এলাকার মাটি দেবে পড়ে। যথারীতি ঢাকাসহ সিলেটের বাইরের অন্যান্য জেলায় যাতায়াতকারী বাস জেলা শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে যাতায়াত করতে থাকে। এতে মূল শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। যানজটের পরিমাণ বাড়ে। বহু বছর ধরেই মূল শহর থেকে আন্তঃজেলা পরিবহন নতুন বাস টার্মিনালে স্থানান্তরের দাবি অব্যাহত থাকলেও বহুদিন তা কার্যকর করা যাচ্ছিল না। অবশেষে গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বর মাসে আন্তঃজেলা পরিবহনের বাস পার্কিং ও যাতায়াতের জন্য মল্লিকপুরের নতুন টার্মিনালের দক্ষিণ দিক ভরাট করে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এখন দিন ও রাতের অধিকাংশ বাস নতুন টার্মিনাল থেকেই যাতায়াত করে। বাস টার্মিনাল নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হলেও সেখানে তৈরি হয়নি যাত্রীসেবার ন্যূনতম সুবিধাদি। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, নামে এটি টার্মিনাল হলেও ওখানে প্রকৃত অর্থে কোনো টার্মিনাল শেড নেই। ভরাটকৃত খোলা জায়গায় গাড়িগুলো পার্ক করা থাকে, ওখানেই যাত্রীরা উঠানামা করেন। পুরো টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো শৌচাগার। রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর অভাবে আধো আলো আধো অন্ধকারে থাকে টার্মিনাল এলাকা। অনেক যাত্রী অভিযোগ করে থাকেন, রাতের বেলা তাঁদের নির্দিষ্ট বাসটি খোঁজে পেতে অনেক কষ্ট হয়। টার্মিনালে কাউন্টার না থাকায় অন্ধকার পরিবেশের কারণে এই দুর্ভোগ। বয়স্ক ব্যক্তিদের এজন্য প্রচুর যন্ত্রণা পোহাতে হয়। টার্মিনালে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় যাত্রীরা মালামাল নিয়ে গাড়িতে উঠতে ও গাড়ি পর্যন্ত যেতে ভয়ে ভয়ে থাকেন। বৃষ্টির মৌসুমে এই যন্ত্রণা ভয়ানক রূপ ধারণ করে। বাসচালকদের অনেকই জানিয়েছেন রাতে এই প্রায়—অন্ধকার টার্মিনালে বাস রাখার কারণে মাঝেমধ্যেই বাসের বিভিন্ন যান্ত্রপাতি ও জিনিসিপত্র চুরি যায়। এছাড়া টার্মিনাল এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে টহল ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। 

 


টার্মিনালটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব জেলা পরিষদের। সম্প্রতি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্মিনালের ভিতর চলাচলের সড়ক তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। কোনো একটি স্থাপনা হঠাৎ করে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না সত্য। কিন্তু কাজের কিছু অগ্রাধিকার আছে, আগের কাজ আগে করা শুরু করা দেখলে সকলেই বিশ^াস করেন সময়ের ব্যবধানে এটি আধুনিক টার্মিনালে পরিণত হবে। টার্মিনালের ভিতরের আরসিসি সড়ক তৈরির বিষয়টি ইতিবাচক। এর সাথে জরুরিভিত্তিতে পুরো টার্মিনালে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি। যেহেতু এখন অধিকাংশ যাত্রী রাতেই ভ্রমণ করেন সেহেতু টার্মিনালগুলো রাতের বেলা ব্যস্ত থাকে। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে যাত্রী ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা সকলেই অসুবিধায় আছেন। পূর্ণাঙ্গ টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে এখন থেকেই সক্রিয়ভাবে চিন্তা ভাবনা শুরু করতে হবে। আমরা জানি না জেলা পরিষদ টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরি করে কোনো প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন কি—না। কিন্তু যদি এটিকে যথার্থ টার্মিনাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয় তাহলে কোনো বিলম্ব না করে টার্মিনালের ডিজাইন ও বাস্তবায়ন—পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সময়সীমা নির্ধারণ জরুরি। 

 


টার্মিনালের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সাধন না করা হলে এই টার্মিনালের প্রতি ধীরে ধীরে যাত্রী ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমতে থাকবে। তখন টার্মিনালটি আবারও পরিত্যক্ত হয়ে যেতে পারে। জেলা শহরের বাস টার্মিনালকে এখন দেশের সর্বত্র নান্দনিক মডেলে তৈরি করা হয়। বহিরাগতরা জেলা সদরে নেমেই জেলা ও জেলা শহরের প্রতি বিরক্ত না হয়ে যাতে ইতিবাচক ধারণা পেতে পারেন সেজন্যই আধুনিক টার্মিনালের প্রয়োজন। যাত্রী নিরাপত্তা ও সুবিধা, স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণ পরিবেশ, কাউন্টারভিত্তিক যথাযথ সেবা দানসহ আধুনিক টার্মিনালের সকল শর্ত পূরণ করেই এটি নির্মাণ করতে হবে। মধ্যবর্তী সময়ে অগ্রাধিকারযোগ্য কাজগুলো, যেমন— পুরো টার্মিনালে বৈদ্যুতিক আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, টহলদারি বাড়ানো, কিছু শৌচাগার তৈরি, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ ইত্যাদি দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা জেলা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। টার্মিনালের উন্নয়ন যাতে কারও অবৈধ আয়ের উৎসে পরিণত না হয় সেজন্য দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা থাকাও দরকার। সকল রুটের পরিবহন ব্যবসায়ী সমিতিগুলো যদি এই বিষয়ে সক্রিয় থাকেন তাহলে আমাদের বিশ^াস উন্নয়ন কাজ তরান্বিত হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার