প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২১
ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধে মঙ্গলবার বিকালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মূল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআরের তথ্য উদ্ধৃত করে যুগ্ম সচিব জানান, ২০২২ সালে অবৈধ সমুদ্রপথে ইতালিতে প্রবেশ করেছিলেন ১৫ হাজার ২২৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক, যা ২০২৫ সাল নাগাদ প্রায় ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই শীর্ষে— প্রায় ৩১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রবণতা দেখা গেছে সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলায়।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে শুধু ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৬৫ জন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাই বেশি। ২০২০ সালের ২৭ মে লিবিয়ার মিজদা এলাকায় গণহত্যায় নিহত ৩০ জনের মধ্যে ২৬ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।
সভায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও তুলে ধরা হয়। ফেব্রুয়ারি ২০২৫—এ লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট ২৩ টি পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করে, যাদের মধ্যে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ১০ জন ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে গ্রিস উপকূলে প্রাণ হারানো ১০ জনই ছিলেন সুনামগঞ্জের। আর মাত্র তিন দিন আগে—২২ আগস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর নয়জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে, এবং উদ্ধার হওয়া ২৯ জনের মধ্যে ১৮ জনই সুনামগঞ্জের।
যুগ্ম সচিব বলেন, অবৈধ পথে বিদেশগামীরা তিনটি বড় বিপদে পড়েন। প্রথমত, ভূমধ্যসাগরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটে জীবনহানির ঝুঁকি। দ্বিতীয়ত, দালালদের প্রলোভনে পড়ে বসতভিটা, জমিজমা ও পারিবারিক সঞ্চয় হারিয়ে আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হওয়া। তৃতীয়ত, লিবিয়ায় ‘গেম ঘরে’ বন্দী হয়ে পাসপোর্ট আটক ও মুক্তিপণের শিকার হওয়া।
তিনি আরও জানান, অবৈধ অভিবাসীদের কারণে আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়, যার ফলে বৈধ পথে কর্মী পাঠানোর সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সরকার ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬—২০৩০’ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে অনিয়মে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। দালালদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বৈধ পথে বিদেশগামীদের জন্য সরকার প্রবাসী কার্ড চালু করতে যাচ্ছে। এই কার্ডধারীরা রেমিট্যান্সে ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা, বিমানবন্দরে ফাস্ট ট্র্যাক সেবা, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ছাড়, ভূমি সেবায় অগ্রাধিকার এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। তবে কেবল বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে বিদেশ যাওয়া কর্মীরাই এই সুবিধার যোগ্য হবেন।
সভায় বক্তারা জানান, প্রবাসী কল সেন্টার নম্বর ১৬১৩৫—এ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যোগাযোগ করে অভিবাসন সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য জানা যাবে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কেও যোগাযোগ করা যাবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন