প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫১
সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে তা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে নতুন গবেষণা গ্রহণ এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শান্তিগঞ্জের এফআইভিডিবি অডিটোরিয়ামে ‘বিনা উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিসমূহের সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে অন্তর্ভুক্তিকরণে করণীয়’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ২০২৫—২৬ অর্থবছরে বিনার ‘গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’ এর অর্থায়নে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
.jpg)
কর্মশালায় সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের উপযোগীয় উপযোগী বিনা উদ্ভাবিত কয়েকটি উন্নত জাতের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বিনা ধান—২৪, বিনা ধান—২৫, বিনা ধান—১৯, বিনা সরিষা—১১, বিনা চিনাবাদাম—৪ ও বিনা চিনাবাদাম—৮ উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিনা ময়মনসিংহের পরিচালক (গবেষণা) ড. মাহবুবা কানিজ হাসনা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল সুব্রত কুমার চক্রবর্তী, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার শামছুদ্দিন আহমদ, প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার এবং উপ—প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার। এ ছাড়া সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ দেবল সরকার এবং সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ এ.এ. মাছুম বিল্লাহ পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের কৃষির অন্যতম প্রধান বাধা পানি সংকট। পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতি, মানসম্মত বীজ ও অন্যান্য উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা এবং জমির মালিকানা ও বর্গাচাষের জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। সমস্যা সমাধানে রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমিয়ে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো, খাল খনন, কৃষক কার্ড ও ভর্তুকি সুবিধা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
কর্মশালায় জানানো হয়, বিনা এ পর্যন্ত ১৩৯টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার মধ্যে ৯৬টি মিউটেশন পদ্ধতির। পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জাত উন্নয়নে বিশ্বে বিনার অবস্থান বর্তমানে অষ্টম।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা, বীজ ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তারা আঞ্চলিক কৃষির নানা সমস্যা ও বিনার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কর্মশালা শেষ হয়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন