প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৮
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনাকান্দি গ্রামের অকাল প্রয়াত যুবক মরণোত্তর দেহদান করে গেছেন। মৃত্যুর এক মাস আগে লিটন দাস নামের ৩৫ বছর বয়সী যুবক নিজ ইচ্ছে মা ও ছোটভাইকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য বিনাশর্তে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহ দানের দাপ্তরিক কাজ শেষ করেন। রবিবার কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে হবিগঞ্জ মেডিকেলে কলেজ কতৃর্পক্ষ তাঁর মরণোত্তর দানকরা দেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, হরিনাকান্দি গ্রামের দ্বিজেন্দ্র দাশের ছেলে লিটন দাশ সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে Bachelor of Agriculture Education বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে অল্প কিছু দিন চাকুরী করেন। পরে সে চাকুরি ত্যাগ করে গ্রামে এসে কৃষি উদ্যেক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন রকমের সবজি ও মাছ চাষের পাশাপাশি তিনি বাদাম চাষে একজন সফল কৃষি উদ্যেক্তা হিসেবে পরিচিতি পান। হঠাৎ করে তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। তাঁর দুটি কিডনি বিকল হয়ে যায়। মৃত্যুর বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি গত ১৩ আগষ্ট হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে হবিগঞ্জের বিজ্ঞ নোটারি কার্যালয়ে মরণোত্তর দেহদানের ঘোষণাপত্র সম্পাদন করেন। এতে তার ভাই দিপু দাশ তালুকদার, মা রেখা রাণী দাশ স্বাক্ষর করেন।
চিকিৎসার জন্য তিনি নবীগঞ্জ শহরতলীর শিবপাশা গ্রামে বড়ভাইয়ের বাসায় বসবাস করছিলেন লিটন দাশ তালুকদার। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ছাত্র জীবনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি, এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাব রক্ষক সূর্য লাল রায়, ক্যাশিয়ার নারায়ণ পাল, লিটন দাশের বড় ভাই দিপু দাশ, বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট সবুজ দাশের দিনব্যাপী আন্তরিক প্রচেষ্টায় মৃতদেহ হস্তান্তরে জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটন দাশের বড় ভাই দিপু দাশ ও তার আত্মীয়স্বজনরা মৃতদেহটি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে এ সময় এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য, প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায়, ক্যাশিয়ার নারায়ণ পাল উপস্থিত ছিলেন। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ এটাই প্রথম কোনো মৃত মানবদেহ শিক্ষা ও গবেষণা কাজে গ্রহণ করেছে। এদিকে সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কাজে সক্রিয় থাকা লিটন দাশের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানবতার কল্যাণে মরণোত্তর দেহদান করে প্রশংসায় ভাসছেন।
হরিনাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ সমাজকর্মী রাখাল দাশ জানান, লিটন দাশ শিক্ষিত নম্রভদ্র হিসেবে গ্রামবাসীর কাছে পরিচিত ছিল। তাঁর অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাভিভূত। মৃত্যুর পর মরণোত্তর দেহদান করে অমলিন হয়ে থাকবেন তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন