প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫৭
‘স্পন্দনের ৩০ বছর উদযাপন—আমাদের পথচলাকে সম্মান জানিয়ে, আগামীর অনুপ্রেরণায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে স্পন্দন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিশু সংগঠনের ৩০ বছর পূর্তি। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা স্পন্দনের তিন দশকের সাংস্কৃতিক পথচলার প্রশংসা করেন এবং সংগঠনটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস বলেন, স্পন্দনের ৩০ বছরের যাত্রা সম্পূর্ণ হওয়ার অনুষ্ঠানে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি। ৩০ বছর কোনো ছোট যাত্রা নয়, এটি একটি দীর্ঘ পথচলা। এই দীর্ঘ যাত্রায় অনেকের ত্যাগ, অবদান ও কৃতিত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, স্পন্দনের মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সংস্কৃতিচর্চার যে ধারা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও আরও উচ্চতর শিখরে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ এবং সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি শ্রী রাজেশ ভাটিয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্পন্দনের ৩০ বছরের পথচলা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘স্পন্দনের সাতকাহন’ প্রদর্শন করা হয়। পরে অতিথিদের উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্পন্দনের শিল্পীদের বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রতিভাবান শিল্পীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
.jpg)
বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জের মতো একটি গ্রামীণ শহরে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন তিন দশক ধরে তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে মানুষের মধ্যে সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে—এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ এবং তাদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সংগীত, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তিসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় স্পন্দনের অবদান রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, সুনামগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই কোনো না কোনোভাবে স্পন্দনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্পন্দন যেন একটি ‘আতুড়ঘর’, যেখান থেকে শিল্প—সংস্কৃতির মানুষ তৈরি হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছেন। তিন দশকের এই সাফল্যগাথা প্রমাণ করে, সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্পন্দন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
সংস্কৃতি একটি সমাজের প্রাণপ্রবাহের মতো উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা না থাকলে সমাজ স্থবির হয়ে পড়ে। মানুষের আত্মিক ও সামাজিক উন্নয়নে সংস্কৃতির ভূমিকা অপরিসীম। তাই আগামী দিনেও সুনামগঞ্জে সংস্কৃতিচর্চার বাতিঘর হিসেবে স্পন্দন কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ, কবি মুনমুন চৌধুরী, শিউলি কবির, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি রোকেস লেইস, কবি সুখেন্দু সেন, সংগঠনের উপদেষ্টা খলিল রহমান, হাফিজা ফেরদৌস লিপন, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মণ, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু, অ্যাডভোকেট প্রণব কান্তি দাস নীলু, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা বিধান চন্দ্র বনিক, আবৃত্তিকার রবিউল ইসলাম পুলক, সংগঠনের সভাপতি রুনা শাহিন আরা লেইছ, সম্পাদক শ্রাবন্তি পুরকায়স্থ. লেখক নূপুর চৌধুরী, থিয়েটার সুনামগঞ্জের দলপ্রধান দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন অরুণিমা দাস, প্রিয়ন্তী দাস, পূর্বা দে, সৌরভ দাস, অনন্যা অগ্নি মল্লিক, মাকসুদুর রহমান দীপু, মুবিন আহমেদ ও আশিকুর রহমান আশিক। এছাড়া গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও বিশেষ কোরিওগ্রাফি পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা আর্ট এক্সিবিশন ও ফুড স্টল পরিদর্শন করেন। পরে গ্র্যান্ড ফিনালে, শিল্পীদের সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র প্রদান এবং অতিথি, শিল্পী ও আয়োজকদের অংশগ্রহণে গ্রুপ ফটোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
সামির পল্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাবুল আচার্য, সুহেল রানা, সুষেন চন্দ্র, আহসান জামিল আনাস, রিপন চন্দ, আলী আফসার সায়েম, আবুল হাসনাত সুমন, আতাউর রহমান আতা, রাজু আহমেদ, সেলিম আহমেদ, কানু চন্দ, প্রদীপ পাল, সুদীপ পাল, তুলনা আনাস, দুলন পুরকায়স্থ ও সুমাইয়া সাবনামি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন