প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২১
তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের। হাসপাতালটিতে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ চলে গেলে সেটি নিয়মিত চালানো হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেই বন্ধ হয়ে যায় ওয়ার্ডের বৈদ্যুতিক ফ্যান। তীব্র গরমে অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
চলতি বছরের ২৭ জুন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন জেনারেটর দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে জেনারেটরটি ব্যবহারের কথা থাকলেও তা নিয়মিত চালানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো হাসপাতাল চত্বর অন্ধকারে নিমজ্জিত। জেনারেটর বন্ধ থাকলেও নার্স স্টেশনে আইপিএসের মাধ্যমে ফ্যান চলতে দেখা যায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা যায় শিশু ওয়ার্ডে। প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা পরিবেশে ওয়ার্ডের ভেতরে অবস্থান করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। শয্যায় ও মেঝেতে থাকা রোগীদের অনেকেই গরমে ছটফট করছিলেন। শিশু, বৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বজনেরা হাতপাখা ও কাগজ দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছিলেন। কেউ কেউ একটু স্বস্তির আশায় ওয়ার্ড ছেড়ে হাসপাতালের করিডর, বারান্দা কিংবা বাইরের খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।
মন্নানপুর গ্রামের ইন্নছ মিয়া ৬ দিন ধরে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তিনি জানান, সন্তানকে শয্যায় নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় মাথার উপরের ফ্যান। পরে হাসপাতালের অন্ধকার ও তীব্র গরমের মধ্যে সন্তানকে কোলে নিয়ে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকেন তিনি।
ইন্নছ মিয়া বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যদি এমন নাজুক অবস্থা হয়, তাহলে আমরা সাধারণ গরিব মানুষ কোথায় যাব?
সুলতানপুর গ্রামের রাজিয়া বেগম অসুস্থ নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর না চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলেও জেনারেটর পাই না। গরমে আমার নাতি আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজন রোগী ও স্বজন একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালু করা হলে অন্তত ফ্যান চলত এবং রোগীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমত।
এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে সাধারণত জেনারেটর চালানো হয়। সোমবার রাতে কেন জেনারেটর চালানো হয়নি—এ বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে হয়তো একটু মিসটিক হয়েছে।
জেনারেটরের জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে তেল খরচ তো সরকারই দেবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তেল খরচে তো আর কেউ পকেট থেকে দেবে না।
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ মজুমদার বলেন, ইমার্জেন্সি সময়ে জেনারেটর চালানো হয়। গতকাল কেন চালানো হয়নি, বিষয়টি দেখব।
জেনারেটরের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তিনি বলেন, সরকার থেকে কোনো বরাদ্দ নেই। তবে মাস শেষে অফিস থেকে তেল খরচটা বহন করা হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের রোগীদের দুর্ভোগের চিত্র ভিডিও কলে সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দীন মুর্শেদকে দেখান এই প্রতিবেদক। সোমবার রাতে তিনি বিষয়টি দেখার পর বলেন, এএইচও’র (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানানো হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন