নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে আইন প্রণেতাদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৪

আশাব্যঞ্জক কথা হলো, সুনামগঞ্জের নৌপথে বালু, পাথর, চুনাপাথর ও কয়লা পরিবহনে একাধিক স্থানে অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত চাঁদাবাজি বন্ধে জেলার সকল সংসদ সদস্য অভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা সকলেই এই অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গৌছ, এমপি’র উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সমন্বয় সভায় জেলার সংসদ সদস্যগণ অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, নদীর পাড় কাটা বন্ধ এবং নদীতে পলিথিন ফেলে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করার বিষয়ে চলমান বাস্তবতা তোলে ধরার পাশাপাশি এ থেকে উত্তরণ বিষয়ে উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন। জলপথে চলাচলকারী নৌযান  (নোঙর করা নয়) থেকে বিআইডব্লিউটিএ কীভাবে টুল—ট্যাক্স আদায় করে সে বিষয়েও সভায় প্রশ্ন তোলা হয়। একটি নৌযানকে উৎস থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বহুবার চাঁদা দিতে হয় উল্লেখ করে এই চাঁদার অর্থ শেষ পর্যন্ত পণ্যমূল্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি হয়, এমন সারগ্রাহী কথাও উঠে এসেছে সভায়। বস্তুত যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অন্যায় অর্থ গ্রহণের জের টানতে হয় ভোক্তাদের। ব্যবসায়ীরা কখনও লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করেন না।

 

 

বালু ও পাথরের বর্তমান বাজার দর হিসাব করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। তাই এই ধরনের চাঁদাবাজিকে গণ—হয়রানি এবং জনগণের দুর্ভোগ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করে এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের শক্ত ভূমিকা প্রত্যাশিত। বলা অমূলক নয় যে, বছরের পর বছর ধরে এইসব অবৈধ চাঁদাবাজি চলে আসছে। রাজনৈতিক দল বদলায়, চাঁদাবাজের পরিচয়ের পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না কখনও। এ নিয়ে নিয়মিত কথা চালাচালি হয়, সভা—সেমিনারে বক্তব্য খয়রাত হয়; কিন্তু বাস্তবে চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। চাঁদাবাজির পিছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা দানের অভিযোগ বহুলশ্রম্নত। জনগণ বিশ^াস করেন যে, রাজনীতিক—প্রশাসনিক প্রশ্রয় না থাকলে কখনও বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলতে পারে না। এই বিষয়টি উপলব্ধি করেই সুনামগঞ্জ—১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বর্ণিত সমন্বয় সভায় বলেছেন, ‘আমার এলাকায় যখন এটি হয়, তখন মানুষ মনে করে এতে আমি আছি। কারণ এমপি না করলে তো এটা হতে পারে না।’ ওই সংসদীয় আসনের বিভিন্ন স্পটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে তিনি ১০ বার পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করার উল্লেখ করেছেন। এলাকার সংসদ সদস্য যখন চাঁদাবাজি বন্ধ করে গণ—হয়রানি নির্মূলে সরাসরি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন, তখন কেন এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলতে পারে তা বড় এক ধাঁধা বটে। 

 

 


চাঁদাবাজিকে বৈধতা দানের একটি উপলক্ষ তৈরি করা হয় বিআইডব্লিউটিএ’র নিকট থেকে ইজারা গ্রহণের কাগজ দেখিয়ে। অথচ সকলেই জানেন বিআইডব্লিউটিএ’র ঘোষিত কোনো ঘাটে নৌযান নোঙর করলে তারা নির্দিষ্ট হারে টুল আদায় করতে পারেন। কিন্তু জেলার নৌপথগুলোর একাধিক জায়গায় নোঙর না করা চলন্ত নৌযান আটকিয়ে এই ইজারার কথা বলে টুল আদায় করা হয়, তাও অনেক বেশি পরিমাণে। বাধা দিলে নৌযান শ্রমিকদের উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। হুইপ মো. জি কে গৌছ সরকারি প্রতিষ্ঠানের টুল—ট্যাক্সের হার অযৌক্তিক মনে হলে তা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএসহ অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নামে নৌপথের ঘাট ইজারা দেয়ার স্পষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার। এখন এই ধরনের স্পষ্ট নীতিমালা আছে বলে মনে হয় না। যে যে—রকম পারে সেরকম চালাচ্ছে। 

 

 


বর্ণিত সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, এইসব অবৈধ চাঁদাবাজির পিছনে কোনো রাজনৈতিক মদদ নেই। সুতরাং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের জন্য বেআইনি কাজ বন্ধ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এখনও যদি এমন বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলে তাহলে বুঝতে হবে এতে প্রশাসনিক প্রতিকারমূলক কাজের ঘাটতি আছে। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনপ্রণেতাদের এমন সোচ্চার মনোভাব অতীত সরকারগুলোর সময় দেখা যায়নি। বর্তমান সরকারের সংসদ সদস্যরা নিজেদের গণমুখী অবস্থান জাতির সামনে পরিষ্কার করেছেন। তাঁদের অভিপ্রায় অনুসারে জনতার দুর্ভোগ হ্রাস করার দায়িত্ব প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে। আমরা আশা করি সামনের দিনগুলোতে জেলার নৌপথগুলো থেকে অবৈধ চাঁদাবাজির আর কোনো খবর সংবাদপত্রের শিরোনাম হবে না। রাজনীতিবিদগণ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিলেন, এখন প্রশাসনকে তা বাস্তবায়ন করে নিজেদের গণমুখী অবস্থান দেখাতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার