রাষ্ট্রপতিকে সিলেট বিভাগে স্বাগত

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৬

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ সিলেট শুভাগমন করছেন মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক দিনের সফরে তিনি সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা.) ও হযরত শাহপরান (রা.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনাসভায় যোগ দিবেন। কর্মসূচি শেষে আজই তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি মহাসচিব হিসেবে কয়েকবারই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এসেছেন। তখন তিনি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক আন্দোলন—সংগ্রামের কর্মসূচিকে বেগবান করতে দীপ্ত ভূমিকা রেখেছিলেন। রাজপথের লড়াকু ও অনমনীয় এই নেতার প্রতি সারা দেশের মানুষের শ্রদ্ধা, সম্মান ও বিশেষ প্রীতিবোধ বিদ্যমান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকালীন রাষ্ট্রপ্রধানের অতীব মর্যাদাশীল পদটির জন্য যাঁদের নাম আলোচনায় ছিলো, তন্মধ্যে সবচাইতে গ্রহণযোগ্য নামটিই ছিলো তাঁর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সারা দেশের মানুষ খুশি হয়েছেন। একজন মার্জিত, সুশিক্ষিত এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবকের পদে পেয়ে মানুষ ভরসার আরেকটি নতুন জায়গার সন্ধান পেয়েছে। জাতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাষ্ট্রপতির পদটি অতিমাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠে। আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির হাতে খুব বেশি ক্ষমতা নেই। তা সত্ত্বেও এই চেয়ারে বসা ব্যক্তিটিই রাষ্ট্রের মুখ হিসেবে বিবেচিত হন। মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চরিত্রপ্রভা এমনই উজ্জ্বল যে, নিজের আলোকিত বৈশিষ্ট্যের কারণেই তিনি ব্যক্তিত্বের প্রখরতা দিয়ে বহু বিষয় প্রভাবিত করতে সক্ষম। বর্তমানে আমাদের দেশের বড় চ্যালেঞ্জ হলো, জাতীয় ঐক্য তৈরি করা। নানাভাবে আমাদের সমাজ ও রাজনীতি বিভক্ত। বিভক্ত জাতিসত্ত্বা যাবতীয় উন্নয়নের অন্তরায়স্বরূপ। আমাদের বিভাজিত জাতিসত্ত্বাকে অখণ্ড চেতনায় নিয়ে আসতে তিনি অনুপম ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আমরা বিশ^াস করি তিনি আন্তরিকতা, দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য স্থাপনে সমর্থ হবেন। 

 


রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের প্রথম ভাগেই তাঁর সিলেট সফর সিলেট বিভাগের মানুষের জন্য সম্মানের। সিলেটকে আধ্যাত্মিক নগরী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই বিভাগের বহু মানুষ প্রবাসী। তাঁরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় জোগানদাতা। সিলেট বিভাগে দেশের সবচাইতে বৃহৎ হাওরাঞ্চলের অবস্থান। এই হাওরগুলো কৃষিজ সম্পদ সম্ভাবনায় ভরপুর। দেশের অধিকাংশ চা উৎপাদিত হয় সিলেট বিভাগে। হাওর ও চা—বাগানের নয়নাভিরাম নৈসর্গিক সৌন্দর্য পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। প্রাকৃতিকভাবে উজান থেকে নেমে আসা বালু ও পাথরের জন্য সিলেট বিভাগ দেশসেরা। এই জেলায় এখন তৈরি পোশাকসহ নানাবিধ শিল্পের প্রসার ঘটছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। নানকার বিদ্রোহ, ভাসানপানি আন্দোলন প্রভৃতি আন্দোলন—সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই বিভাগ। সিলেট বিভাগ ঐতিহাসিকভাবে কখনও বাংলার অংশ হিসেবে কখনও বাংলা থেকে নির্বাসিত হয়ে অবিভক্ত ভারত ও পরবর্তী সময়ের পাকিস্তান ও স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জেলার বহু কৃতী ব্যক্তি রাষ্ট্রের মন্ত্রীর পদে থেকে সারা দেশকে উন্নত করতে রেখেছেন অনবদ্য ভূমিকা। এমন এক ভৌগোলিক সৌন্দর্যময় ও সম্পদ—সম্ভাবনায় ভরপুর ঐতিহাসিক জনপদে রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে পুরো বিভাগ জুড়ে আজ আনন্দের প্লাবন বইছে। রাষ্ট্রপতিকে আমাদের প্রাণঢালা উষ্ণ অভিনন্দন। 

 


সমৃদ্ধ সিলেটের বঞ্চনাবোধও কমকিছু নয়। বিশেষ করে সিলেট—ঢাকা মহাসড়কের ধীর গতির উন্নয়ন কাজ এই অঞ্চলের মানুষের অশেষ মনোকষ্টের কারণ। সুনামগঞ্জের সম্ভাবনাময় হাওরগুলো নানাবিধ সংকটে বিপন্ন। সুষ্ঠু হাওর রক্ষণের অভাব প্রকট। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টাঙ্গুয়ার হাওর রূপের ঐশ^র্য্য হারিয়ে আজ কঙ্কালসার অবস্থায় পতিত। সিলেট থেকে ছাতক হয়ে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এই দাবি পূরণের কোনো দৃশ্যমান উন্নতি নেই। লোকসংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভাণ্ডার সুনামগঞ্জের হাওর—জনপদ। এই হাওরের রাধারমণ, হাছন, করিম প্রমুখ মহাজন বাংলা লোকসংস্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে সারা বিশে^ আলো ছড়াচ্ছেন। লোকসংস্কৃতি ও হাওর—সংস্কৃতি তথা হাওরের সম্পদ—সম্ভাবনা নিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষদ গঠন করা এখন সময়ের দাবি। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষাসূচিতে এর প্রকাশ দেখতে চায় হাওরবাসী। শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে হাওরাঞ্চল অনেক পিছিয়ে। এজন্য সরকারের বিশেষ কর্মসূচি প্রয়োজন। 

 


রাষ্ট্রপতির সিলেট আগমনের মধ্য দিয়ে আমাদের মনের এইসব আনন্দ—বেদনা, সুখ—দুঃখের কথকতা প্রকাশের একমাত্র কারণ তাঁর মার্জিত রূচির সাথে আমাদের ভাবাবেগের ঐকতান। রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর আনন্দময়, অর্থবহ ও তাৎপর্যমণ্ডিত হোক, এই আমাদের কামনা। আমাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন গ্রহণ করুন হে সুসংস্কৃতিবান অভিভাবক।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার