প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৪
সংগৃহীত ছবি
চকলেটের কথা মাথায় আসলেই আমরা ভাবি এটি ক্ষতিকর। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ডার্ক চকলেট আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। আপনার হার্ট ভালো রাখা থেকে শুরু করে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ভ্যারি ওয়েল হেলথের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক চকলেটের উপকারিতা খাওয়ার সময়ের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, দিনের কোন সময়ে আপনি এটি খাচ্ছেন সেই অনুযায়ী আপনার স্বাস্থ্যে এর প্রভাব পড়বে।
ডার্ক চকলেট খাওয়ার উপযুক্ত সময়
গবেষণায় দেখা গেছে, বিকালের নাস্তায় ডার্ক চকলেট খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। এটি আপনার মন ও মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করবে। কারণ, এতে রয়েছে ক্যাফেইন এবং কিছু প্রাকৃতিক উদ্দীপক, যা শরীরকে সচল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করতে পারে।
অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট অন্ত্রের মাইক্রোবায়াম বা অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং উপকারি ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোকোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিফেনলস স্ট্রেস দূর করতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ডার্ক চকলেট খাওয়ার উপযুক্ত সময় কখন?
বিশেষজ্ঞরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সকালে ডার্ক চকলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনের শুরুর দিকে চকলেট খেয়েছেন, তাদের ওজন বাড়েনি। গবেষকরা আরও লক্ষ্য করেছেন তাদের মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষুধা কমেছে। পরীক্ষা করে দেখা যায় খালি পেটে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোমরের পরিধি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
ডার্ক চকলেটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদান যেমন— কপার ও ম্যাগনেসিয়াম রক্ত সঞ্চালন, বিপাকপ্রক্রিয়া এবং শরীরে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডার্ক চকলেট খাওয়োর সঙ্গে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, যারা নিয়মিত ডার্ক চকলেট খেয়েছেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ কম ছিল। ডার্ক চকলেট রক্তনালি শিথিল করতে, রক্তচাপ কমাতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতেও সহায়ক। তাহলে বুঝতেই পারছেন ডার্ক চকলেট কতটা উপকারি!
তবে, ডার্ক চকলেটের উপকারিতা পেতে এটি অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে এতে থাকা ক্যালরি ও চর্বি উল্টো ওজন আরও বাড়াতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন