ছাতক স্লিপার প্ল্যান্ট রেলওয়ের সামর্থ বাড়াবে

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২২

গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাধীন ছাতক কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্টটির উৎপাদনে ফিরে আসার সুখবরটি নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক। রেলওয়ের স্লিপারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৮ সনে এ কারখানাটি স্থাপন করা হয়। ২০০০ সন পর্যন্ত কারখানাটি ভালোভাবে উৎপাদনে নিয়োজিত ছিলো। পরে ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সনে কয়েকবার প্লান্টটি বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ এক বছর বন্ধ থাকার পর এ পর্যায়ে পুনরায় কারখানাটি উৎপাদনে ফিরলো। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিন ২৪০টি কংক্রিট স্লিাপার  উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। বর্তমান পর্যায়ে আগামী এক বছরের জন্য ২৫ হাজার স্লিপার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ মোতাবেক, রেলওয়ের ভিতরের ও বাইরের সিন্ডিকেটের কারণে কারখানাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। সরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ আমাদের দেশে বহুলশ্রম্নত। স্বাধীনতার পর যেসব মিল—কারখানা জাতীয়করণ করা হয়েছিলো, সেগুলো চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনপ্রবৃত্তির কারণে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে দেশের বিখ্যাত সব পাট, চিনি ও বস্ত্র কারখানা এর উদাহরণ। জাতীয়করণকৃত অধিকাংশ মিল—ফ্যাক্টরি বর্তমানে বন্ধ আছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বন্ধ থাকা জাতীয়করণকৃত মিল—কারখানাকে পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেন। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ইতোমধ্যে কয়েক দফা নীতি—নির্ধারণী সভা অনৃষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের বন্ধ কারখানা চালুর প্রতিশ্রম্নতির ধারবাহিকতায় ছাতক রেলওয়ের কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্টের উৎপাদনে ফিরার ঘটনাটি তাই সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ থেকে সরকারের প্রতিশ্রম্নতি পূরণের দিকটিই ফুটে উঠে। দেশের প্রধান গণপরিবহন হয়ে উঠতে হলে রেলওয়েকে বহুদূর এগিয়ে যেতে হবে। সারা দেশে রেল নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। রেল—সক্ষমতা বাড়াতে স্লিপারের প্রয়োজনীয়তা আছে। এক কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনের জন্য গড়ে ১০০০ থেকে ১৬০০টি স্লিপাার প্রয়োজন হয়। গড়ে প্রতিবছর রেলওয়ের আড়াই থেকে তিন লাখ স্লিপারের চাহিদা রয়েছে। রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হলে এই চাহিদা বাড়বে। কিন্তু এতো পরিমাণ স্লিপার তৈরির সক্ষমতা বাংলাদেশ রেলওয়ের নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানা ছাতকের এই প্ল্যান্টটি। এই প্ল্যান্ট পূর্ণমাত্রায় চালু করা গেলে বছরে ৬০ হাজার স্লিপার উৎপাদন করা সম্ভব। দেখা যাচ্ছে উৎপাদন সক্ষমতার চাইতে চাহিদা অনেক বেশি। তাই রেলওয়েকে বেসরকারি কারখানা ও আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। দেশের পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ম্যাক্স প্রি—ট্রেস লিমিটেড নামের একটি বড় বেসরকারি কংক্রিট স্লিপার কারখানা রয়েছে, এর উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ২ লাখ পিস। বেসরকারি খাতে একটি কারখানা যেখানে অধিক স্লিপার তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে সেখানে আমাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান ছাতক স্লিপার প্ল্যান্টটি অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে বন্ধ থাকার বিষয়টি কেবল দুঃখজনক নয় এটি জাতীয় উন্নয়নেরও বড় অন্তরায়। 

 


জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানের এইসব দুর্বলতা দূর করার সময় এসেছে। ছাতকে ভালো মানের পাথরের উৎস আছে। ভারত থেকে পাথর আমদানি করে সহজেই ছাতকে আনা সম্ভব। কাঁচামাল প্রাপ্যতার এই সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু এটিকে চালু রাখতে না পারা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অভাব আমাদের ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে। আমরা জানি দীর্ঘদিন ধরে ছাতক—সিলেট রেললাইনও স্থবির অবস্থায় আছে। ছাতকের প্রধান স্টেশনসহ  অন্যান্য জায়গার রেলওয়ের সম্পদ লুণ্ঠনের খবর মাঝে—মধ্যেই সংবাদপত্রের পাতায় ছাপা হয়। এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যে খুব বেশি মাথা ব্যথা আছে তাও বুঝার উপায় নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন জবাবদিহিতাবিহীন কর্মকাণ্ড যেমন বন্ধ করতে হবে তেমনি সারা দেশে রেলওয়ের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। রেলওয়ের ইঞ্জিন, বগি ও অন্যান্য উপকরণ উৎপাদনে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। তবেই প্রধান গণপরিবহন হিসেবে রেলওয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবে। 

 


ছাতক কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্টটি যাতে ভবিষ্যতে আর বন্ধ না হতে পারে তার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেমন প্রয়োজন তেমনি এর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গ্রহণ করতে হবে বিশেষ পরিকল্পনা। আমরা আশা করি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেদের স্বয়ম্ভরতা বাড়ানোর বিষয়ে এখন অতীতের চাইতে অধিকতর মনোযোগী হবেন। রেলওয়েকে পরিবর্তিত উচ্চতর প্রযুক্তি গ্রহণের দিকে অগ্রসর হতে হবে। গতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর এই জায়গায় সফলতা দেখাতে পারলে রেলওয়ে একসময় জাতীয় গর্বের প্রতীকে পরিণত হতে পারবে। আমরা সেই শুভদিনের প্রত্যাশায়।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার