প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৮
সংগৃহীত ছবি
পায়ের আঙুলের আকৃতি, দৈর্ঘ্য ও অবস্থানের ভিন্নতার সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিত্বের নানা বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। গ্রিক, রোমান ও মিসরীয় ধরনের পায়ের গড়ন থেকে শুরু করে ছোট আঙুলের নড়াচড়া এবং আঙুলগুলোর মধ্যকার দূরত্বের ভিত্তিতেও ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করা হয়। তবে এসব ব্যাখ্যা মূলত লোকপ্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভরশীল; ব্যক্তিত্ব নির্ধারণের বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত কোনো পদ্ধতি হিসেবে এগুলো প্রমাণিত নয়।
গ্রিক পায়ের আকৃতি: যাদের পায়ের বৃদ্ধাঙুলের পাশের দ্বিতীয় আঙুলটি বৃদ্ধাঙুলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে লম্বা, তাদের গ্রিক ধরনের পায়ের আকৃতির অধিকারী বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ ধরনের পায়ের গড়নের মানুষ সাধারণত আবেগপ্রবণ ও নেতৃত্বদানে সক্ষম হয়ে থাকেন। শিল্প ও সৃজনশীল কাজের প্রতিও তাদের ঝোঁক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এ ধরনের মানুষকে কিছুটা প্রভাবশালী ও দৃঢ়চেতা স্বভাবের বলেও মনে করা হয়। পাশাপাশি অন্যদের ওপর নিজের প্রভাব বিস্তার এবং তাদের প্রভাবিত করার সক্ষমতা বেশি থাকে—এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে।
রোমান পায়ের আকৃতি: রোমান ধরনের পায়ের গড়নকে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এ আকৃতিতে পায়ের সামনের দিকের কয়েকটি আঙুল প্রায় কাছাকাছি দৈর্ঘ্য ও আকৃতির হয়ে থাকে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এ ধরনের পায়ের অধিকারীরা মিশুক ও অতিথিপরায়ণ স্বভাবের হন। তারা অন্যের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অন্যদের সিদ্ধান্ত বা নেতৃত্ব মেনে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে ধারণা করা হয়।
মিসরীয় পায়ের আকৃতি: পায়ের বৃদ্ধাঙুল থেকে শুরু করে ছোট আঙুলের দিকে যদি একের পর এক আঙুলের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে, তাকে মিসরীয় ধরনের পায়ের গড়ন বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ ধরনের পায়ের অধিকারীরা ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের সঙ্গে সহজে ভাগ করতে চান না। তাদের মেজাজে দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ধারণা রয়েছে। তারা নিরিবিলি পরিবেশে বা একা সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি এ ধরনের মানুষ শান্ত, সংযত ও স্থির প্রকৃতির হন এবং নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম—এমন ধারণাও প্রচলিত।
পিজেন্ট পায়ের আকৃতি: যাদের পায়ের আঙুলগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় সমান, তাদের পায়ের গড়নকে পিজেন্ট ধরনের বলা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এ ধরনের মানুষ সাধারণত শান্ত স্বভাবের ও বিচক্ষণ হয়ে থাকেন। তারা দেওয়া কথা রাখেন এবং বাস্তবধর্মী চিন্তাভাবনার কারণে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত ও ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মনে করা হয়।
ছোট আঙুল নড়াতে না পারা: কেউ যদি পায়ের পেশি ব্যবহার করে ছোট আঙুলটি নড়াতে না পারেন এবং হাত দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে সেটি নড়াতে হয়, তাহলে প্রচলিত ধারণায় তাকে শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের মানুষ সাধারণত রক্ষণশীল ও সংযত জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন বলে মনে করা হয়। তারা পরিশ্রমী এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের কাজে লেগে থাকতে পারেন বলেও ধারণা রয়েছে।
ছোট আঙুল নড়াতে পারা: যারা পায়ের পেশির সাহায্যে ছোট আঙুল নড়াতে পারেন, তাদের সাধারণত দুঃসাহসী ও পরিবর্তনপ্রিয় হিসেবে বর্ণনা করা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, তারা নতুন কিছু করতে আগ্রহী এবং অন্যরা যেসব কাজকে অস্বাভাবিক বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন, সেগুলো করতেও আগ্রহ দেখান। একই ধরনের জীবনযাত্রায় দীর্ঘদিন স্থির থাকাও তাদের পছন্দ নয় বলে মনে করা হয়।
ছোট আঙুল খুব ছোট: যাদের পায়ের ছোট আঙুল তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট, তাদের বিদ্রোহী স্বভাবের বলে মনে করা হয়। তারা সাধারণ মতামত অনুসরণ না করে নিজেদের চিন্তা ও আদর্শকে গুরুত্ব দেন এবং নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী চলতে পছন্দ করেন বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
তৃতীয় আঙুল বাইরের দিকে বাঁকানো: পায়ের তৃতীয় আঙুলটি যদি সামান্য বাইরের দিকে হেলে থাকে, তাহলে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ওই ব্যক্তি গোছানো ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সচেতন হয়ে থাকেন। কঠিন বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের সামলে নিতে পারেন বলেও মনে করা হয়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঙুলের মধ্যে ফাঁক: পায়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় আঙুলের মাঝে দৃশ্যমান ফাঁক থাকলে প্রচলিত বিশ্বাসে ওই ব্যক্তির বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা ভালো বলে ধরা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামলানো, বিশ্লেষণ করা এবং ব্যবসায়িক বিষয়ে দক্ষতার সঙ্গেও এ ধরনের পায়ের গড়নের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রচলিত ধারণা।
মনে রাখা জরুরি: পায়ের গড়ন বা আঙুলের আকৃতি দেখে কারও ব্যক্তিত্ব, আচরণ কিংবা মানসিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের এসব ধারণা প্রচলিত হলেও এগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এসব বিষয়কে ব্যক্তিত্ব যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে না দেখে প্রচলিত বিশ্বাস বা কৌতূহলনির্ভর তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন