প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৩
নিয়মমাফিক হলের সিট বণ্টন
হলে নিয়মতান্ত্রিক সিট বণ্টন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন বাস্তবায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণহসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। বুধবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় এক সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের উত্থাপিত ৫ দফা দাবিগুলো হল— হলের ফাঁকা সিটগুলোতে দলীয় সুপারিশের পরিবর্তে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও নেতৃত্বের বিকাশ নিশ্চিত করতে দ্রুত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজনের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণকাজের মান, ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুতগতির ও নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই—ফাই ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পরিবহন সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ—অভ্যুত্থানের পর প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের হলে থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ফাঁকা সিটে নিয়মতান্ত্রিক সিট বণ্টন না করে দলীয় রেফারেন্সে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে। ফাঁকা সিটগুলোতে অবিলম্বে হল প্রশাসনের দ্বারা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আমরা ইতিপূর্বেও শাহপরাণ হলে ছাত্রদলকে নেতাদের সিট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ দেখেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ছাত্রদল কর্তৃক নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট নিয়ে নিজেদের দায় ছাত্রশিবিরের উপর চাপানোর ঘৃন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ছাত্রশিবির কখনও প্রশাসনের কারও নিকট সিটের জন্য তদবির করেনি। আমরা ছাত্রদলকে এই ধরনের মিথ্যাচারের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, শাকসু নির্বাচনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি এবং ছাত্রদলের বাধার প্রদানের কারণে আজ সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পরও শিক্ষার্থীরা ক্রমগত দাবি জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। শাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসি স্যারসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সাক্ষাতের দাবি জানিয়ে আসলে ভিসি স্যার তাদেরকে সময় দিতে অপরাগতা প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে তিনি ছাত্রদলকে ঠিকই সাক্ষাতের সময় দিচ্ছেন এবং তাদের দলীয় প্রোগ্রামে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে উপস্থিত থাকছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পেইজকে ছাত্রদলের কর্মসূচির প্রচার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো ধরণের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে শাকসুর দাবিতে আন্দোলরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করে অনতিবিলম্বে শাকসু বাস্তবায়নের স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্বচ্ছতার দাবি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা চাই সব প্রকল্প যথাযথ তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সম্পন্ন হোক। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অবিলম্বে চলমান সকল উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাই করা হোক এবং কোনো প্রকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হোক।
ওয়াই—ফাই সেবা ও ইন্টারনেট সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাস এবং হলে ওয়াই—ফাই সেবার মান ও নিরবচ্ছিন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত দাবি জানিয়ে আসলেও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। অতিদ্রুত ইন্টারনেট সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
ক্যাম্পাস ও হলে খাবারের সমস্যাা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে ও হলে খাবারের মান বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন দাবি জানিয়েও কোন কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা খাবারে অনেক সময় পোকামাকড় ও অন্যান্য ময়লা দেখতে পাচ্ছে। ক্যাম্পাসে দুপুরের খাবারের মত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আমরা পর্যাপ্ত খাবারের জায়গার ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।
এছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাও বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। প্রায়ই চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। পরিবহনেও অনেক শিক্ষার্থী হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন ও অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক রেজা—ই—রাব্বি সাফওয়ান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন