ম্যানেজার-মালিক মুখোমুখি

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১২

দিরাইয়ে একটি দোকানের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে দোকান মালিকের স্ত্রী রাখি রায়ের নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক পোস্ট ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এসব পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা—সমালোচনাও চলছে। এ ঘটনায় দোকান মালিক দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

 


অভিযোগকারী ব্যবসায়ী গোপাল রায়ের দাবি, পৌরসভার দিরাই এলাকার বাসিন্দা রাম রায়ের ছেলে দোলন রায় (৪৪) তাদের মালিকানাধীন ‘দুই বোন স্যানেটারি’ ও ‘অন্না স্টোর’ এ প্রায় তিন বছর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। ওই সময় দোকানের হিসাব—নিকাশে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে সন্দেহের ভিত্তিতে দোকানে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তার দাবি, ক্যামেরার ফুটেজে দোলন রায় রিমোট দিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে ক্যাশ থেকে টাকা নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

 


সম্প্রতি রাখি রায়ের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে নিয়ে মোট প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন দোলন রায়। পোস্টগুলোতে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয়ভাবে সালিসে বসে দোলন রায় অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ছয় মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 


সালিসে উপস্থিত ব্যবসায়ী নির্মল রায় বলেন, সেদিন দোলন রায় ১০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে টাকা দিতে না পারায় আবার সালিসে বসে আর্থিক অসচ্ছলতার কথা বলে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। যতটুকু জানি, তিনি একবার ৫ হাজার এবং আরেকবার ১৫ হাজার—মোট ২০ হাজার টাকা একজনের কাছে জমা দিয়েছেন।

 


৪০ লাখ টাকা চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মল রায় বলেন, দোলন যেহেতু টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছিল, সে টাকা নিয়েছে— এটা বোঝা যায়। তবে ঠিক কত টাকা নিয়েছে, সেটা তারাই বলতে পারবেন।

 


অভিযোগকারী গোপাল রায় বলেন, দোলন বিক্রি করা অনেক পণ্যের হিসাব লিখে রাখত না। পরে হিসাব—নিকাশ করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা পাওনা বা আত্মসাতের পরিমাণ পাওয়া যায়। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে আমাকে ১০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছিল। মার্কুলী বাজারের ব্যাংকের চেকটি নিয়ে গেলে জানতে পারি, ওই হিসাবে কোনো টাকা নেই। তিনি আরও বলেন, আমি সম্প্রতি দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

 


এদিকে ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্ট ও ভিডিওতে অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন দৃশ্য দেখানো হয়েছে। একটি ভিডিওতে দোলন রায়কে দোকানের ক্যাশে বসে রিমোট দিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করার পর টাকা নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে তাকে মাটিতে বসে বা গড়াগড়ি দিয়ে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। একই সঙ্গে তার আগের টিনশেড বাড়ি এবং বর্তমানে নির্মিত ভবনের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে।


এসব পোস্টে আরও দাবি করা হয়, দোকান থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে দোলন রায় গ্যারেজ করেছেন, চারটি রিকশা কিনেছেন এবং সুদের ব্যবসা করছেন।

 


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দোলন রায় বলেন, ঘটনাটি তিন বছর আগের। আমি তার দোকানে আড়াই বছর চাকরি করেছি। আমি স্বীকার করছি, একদিন ৫ হাজার টাকা এবং আরেক দিন ২ হাজার টাকা নিয়েছি। কিন্তু এত পুরোনো ঘটনা এখন ফেসবুকে পোস্ট করে কেন প্রকাশ করা হচ্ছে?
নিজের বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে দোলন রায় বলেন, বাড়িটি আমার শ্বশুরবাড়ির টাকায় করা হয়েছে। বাড়িটি আমার ও আমার স্ত্রীর নামে।

 


গ্যারেজ ও রিকশার বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলোর মালিক আমার ভাগনি। আমি শুধু দায়িত্বে আছি। ফেসবুকে অভিযোগ ও ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিকভাবে চাপে পড়েছেন দাবি করে দোলন রায় বলেন, আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না, বাসা থেকেও বের হতে পারছি না। আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। তাকেও মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, মাঝেমধ্যে রাখি রায় পাড়ার মহিলাদের আমার বাসার সামনে নিয়ে এসে কথা শোনান। আমি একটু সুস্থ হলে মামলা দেব।

 


এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার