এজাহারের বাইরে থাকা বালু লুটেরাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হবে

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫২

দোয়ারাবাজার উপজেলার মরাচেলা নদীর পাড় কেটে প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলনের অভিযোগে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের পরিমাণ ও ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। মামলার বাইরে থাকা কেউ তদন্তে জড়িত হিসেবে উঠে এলে তাদেরও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডিজিটাল ইনচার্জ সাইদুর রহমান আসাদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনে ক্ষতির প্রকৃত চিত্র কী?
মো. মোহাইমিনুল হক: আমরা প্রায় ২৫ আগস্ট থেকে বিষয়টি জানতে পারি। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ইজারার আওতাবহির্ভূত এলাকা থেকে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চলেছে বলে তথ্য পাই। প্রায় ১০ থেকে ১১ দিনের কার্যক্রমের ভিত্তিতে বালু উত্তোলনের পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য হিসাব করা হয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের তথ্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে?
মো. মোহাইমিনুল হক: সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বালুবাহী নৌকার ধারণক্ষমতা প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ঘনফুট। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি নৌকা বালু নিয়ে যেত। সেই হিসাবে বালু উত্তোলনের পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য প্রায় ২০ টাকা ধরে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: রাতের আঁধারে এতদিন ধরে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের নজরে আগে আসেনি কেন?
মো. মোহাইমিনুল হক: আমরা বিষয়টি জানার পর সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করি। মরাচেলা নদী সীমান্তবর্তী এলাকায় এবং জেলা শহর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল। তারা বিভিন্ন সময় অভিযান ও মামলা করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরও টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মামলায় ৩৭ জনের নাম এলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, আরও প্রভাবশালী অনেকে জড়িত। তাদের বিষয়ে কী বলবেন?
মো. মোহাইমিনুল হক: ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাথমিকভাবে ৩৭ জনের নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কেউ মূলহোতা বা জড়িত হিসেবে তদন্তে উঠে এলে তাদের অবশ্যই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: এ ধরনের মামলায় প্রভাবশালীরা বাদ পড়ার অভিযোগ থাকে। এ মামলায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি?
মো. মোহাইমিনুল হক: আমরা যাদের নাম পেয়েছি, তাদের মধ্যে কোনো প্রভাবশালীকে বাদ দেওয়া হয়নি। চার্জশিট তদন্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত হয়। সাক্ষ্য—প্রমাণের ভিত্তিতে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিষয়টি তদন্তে আসবে। প্রকৃত দোষী কেউ বাদ যাওয়ার সুযোগ নেই।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মামলার ৩৭ আসামির মধ্যে কেউ প্রভাবশালী হলে তাদেরও কি আইনের আওতায় আনা সম্ভব?
মো. মোহাইমিনুল হক: অবশ্যই সম্ভব। পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর একযোগে কাজ করছে। জেলা প্রশাসকও অবৈধভাবে বালু লুটকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা বলেছেন। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তারাও সক্রিয় রয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মরাচেলা নদী রক্ষায় কী করা প্রয়োজন?
মো. মোহাইমিনুল হক: বালু লুটকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হলে এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, কিছু স্থানীয় মানুষ নদীর পাড়সংক্রান্ত নিজেদের জায়গা বালু লুটকারীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় নিজেদের জায়গা এভাবে বিক্রি না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানাই।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার