প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৪
সংগৃহীত ছবি
থাইরয়েড ক্যানসার অনেক সময় নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ হয়ত দেখা দেবে না। কিন্তু কিছু সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।
থাইরয়েড গলার সামনের দিকে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পাঁচটি লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘাড়ে গাঁট বা ফোলা
ঘাড়ে নতুন কোনো গাঁট দেখা দেওয়া বা আগে থাকা গাঁট দ্রুত বড় হতে থাকা থাইরয়েড ক্যানসারের অন্যতম সতর্কসংকেত হতে পারে। তবে ঘাড়ের সব গাঁটই ক্যানসার নয়। তাই গাঁট দেখা দিলে পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন গলার স্বর ভেঙে থাকা
কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে গলার স্বর কর্কশ বা ভেঙে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। থাইরয়েডের আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা
থাইরয়েডের টিউমার বড় হয়ে আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে খাবার গিলতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।
ঘাড়ে ব্যথা বা ফোলা
থাইরয়েডের আশপাশে অস্বাভাবিক ফোলা বা ব্যথাও সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে ঘাড়ে গাঁট বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া
ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থি বা লিম্ফ নোড অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেলে সেটিও পরীক্ষা করা দরকার। কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসার আশপাশের লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েডে কোনো অস্বাভাবিকতা সন্দেহ হলে চিকিৎসক সাধারণত উচ্চ রেজোলিউশনের থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নির্দেশিত ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন (FNA) পরীক্ষাও করা হয়। এতে থাইরয়েডের গাঁট থেকে নমুনা নিয়ে ক্যানসার কোষ আছে কি না তা পরীক্ষা করা যায়।
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে থাইরয়েড ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: যুগান্তর.কম
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন