প্র তি ক্রি য়া

চাঁদের শহরে বাজ!

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৪০

গ্রামীণ শহর সুনামগঞ্জ। ব্রিটিশ আমলে পরিচিত ছিল ‘টাউন’ নামে। একসময় চাঁদই ছিল মুখ্য। চাঁদের শহর, কবিতার শহর, জল—জোছনার শহর—এমন পরিচয়ে ব্রিটিশের ভিলেজ টাউনটিকে ভিন্নতা দেওয়ার চেষ্টা ছিল। টাউন যখন সিনা টান করে পৌরসভা হলো, তখন চাঁদনি রাতে হারিকেন নিভিয়ে কেরোসিন সাশ্রয়ের উদ্যোগও ছিল। সুরম্য সুরমার চাঁদনিঘাট তখন চাঁদের খেলা। সেই উদ্যোগের বিবর্তন দেখা গেছে শূন্য দশকে, ‘মিলেনিয়াম মুন’—কালে। স্ট্রিটলাইট নিভিয়ে পূর্ণিমারাতে জোছনা উপভোগ! নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সুনামগঞ্জের সেই সুপ্রাচীন চাঁদকে ঠিকই চিনেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আকাশ ভাইঙ্গা জোছনা পড়ে’।

 


সেই সনাতন চাঁদ ও জোছনা এখনো আছে। তবে চাঁদের টান যেন তিরোহিত হতে চলেছে। চাঁদার ছলে চন্দ্রগ্রাস। নয়া পরিচয়—চাঁদার শহর! পরিচিতির পালে হাওয়া লাগবেই। ঠেকানোর সাধ্য কিংবা সাধ—কোনোটাই নেই! তবে চাঁদের শহর পরিচয়ে যাঁদের গাত্রদাহ হতো, তাঁদের যজ্ঞেই এখন নতুন পরিচয়ের প্রকাশ। সেকালে শ—পাঁচেক টাকার চাঁদায় যে বাজ পড়ত, এখন তা লাখ পেরিয়ে কোটির ঘরে খুঁটি গেড়েছে।

 


চাঁদাবাজরা সবাই কোটিপতি হোক—এমন চাওয়ার মধ্যেই ফাঁস হওয়া ফোনকলগুলোর একটিতে কান পাতি। কথাবার্তার ধরন ও ভাষা মনে আচানক আকুলতা তৈরি করে। পেশিশক্তির মাশুল আদায়কারীর ‘কইছে...’, ‘দিছে...’—এমন শব্দপ্রয়োগও কম জব্দ করার মতো নয়!


ক্রিয়া—প্রতিক্রিয়ার এই লেখা বা কথাগাথা কোনো সাংবাদিকতা নয়। তবে সাংবাদিকতার নির্যাস থেকে এর রসায়ন হতে পারে। প্রথম রসায়নটি হলো, সংসদ সদস্য মহোদয় তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেখানে ঘটনার সূত্রপাত, সেখানে গিয়ে ধরিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য ধন্যচিত্তে জানাই ধন্যবাদ।

 


ধরার ধারাপাত অজানা নয়। জানা আছে সেই একই পন্থা, একই পথ। ফুল দিয়ে ঠুকালেও কিন্তু হুমকির জিডিতে বলা হয়, ‘প্রাণে হত্যার চেষ্টা!’ ঠিক তেমনই, ঠিকাদার অনিয়ম করছে বললেই অভিযোগ উঠবে, চাঁদা দাবি! এই ভবিতব্যের পুনরাবৃত্তি চলতে চলতে বিরক্তির সীমা—পরিসীমা থাকে না। বিরক্তি বিহনে মোটাদাগ দিয়ে বলি, সংসদ সদস্যের মুখপাত্ররা ঠিকাদারকে ফোন করবেন কেন? সংসদ সদস্য স্বয়ং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ডেকে এনে বিশেষজ্ঞ দিয়ে কাজের মান পরীক্ষা করিয়ে প্রকাশ্যে ব্রিফ করলেই তো হতো!
তা যদি হতো, তাতে সাক্ষী থাকত আকাশভরা চাঁদ—তারা। এই চাঁদ—তারারাই কিন্তু জনগণ। জনগণমন বলে একটা কথা আছে। বেশ শক্ত ও পোক্ত। বিরাট বড় এক বাহনও বটে। এই বাহনে চড়ে, জনতা—জনার্দনকে সঙ্গে নিয়ে নির্ভয়ে—নির্বিঘ্নে পথ চলাই হচ্ছে সরলরেখা। সারল্যের পাহারায় তখন সব মত—পথ হয় একীভূত। আর সাধারণ মানুষ হয় অভিভূত!
লেখক : সাংবাদিক

উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার