চার বছর ধরে অচল সিসি ক্যামেরা

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৩

৫ বছর আগে সুনামগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বসানো হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরা স্থাপনের পর অনেকটা কমে এসেছিল অপরাধ প্রবণতা। স্থাপনের বছর খানেক পর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ অভাবে অচল হয়ে পড়ে এসব ক্যামেরার অধিকাংশ, বর্তমানে সচল নেই একটিও। ফলে চুরি, ছিনতাই, মারামারি—রাহাজানিসহ নানা অপরাধের পর তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। অপরাধ প্রবণতা বাড়ায় উদ্বিগ্ন শহরবাসী।

 

ব্যক্তিগত সিসি ক্যামেরার পাহারাদারিত্বে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি রক্ষা পেলেও প্রথম শ্রেণীর পৌর শহরের সুরক্ষায় বর্তমানে নেই কোন সিসি ক্যামেরা।
মানুষের চলাচল আর যানবাহনে সরগরমে ব্যস্ত সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নিরাপত্তায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধী শনাক্তে ২০২১ সালে পুলিশের উদ্যোগে বসানো হয়েছিল দেড় শতাধিক সিসি ক্যামেরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বছর পার হতেই নষ্ট হতে থাকে ক্যামেরাগুলো। বর্তমানে অস্তিত্ব নেই অধিকাংশ ক্যামেরার, হাতে গোনা কয়েকটি থাকলেও অচল। কোনটিতে নেই সংযোগ, কোনোটি জরাজীর্ণ আবার কোন ক্যামেরার যন্ত্রাংশ খুলে ঝুলে আছে।
৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কাবুল মিয়া বলেন, ‘বাক্কা আগে শহরের অনেক জাগাত ক্যামেরা আছিল। কিচ্ছু ঘটলে পরে দেখা গেছে ক্যামেরাত। অনে একটাও নাই, সব নষ্ট। এই সুযোগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাসহ পাড়া মহল্লায় চুরি হচ্ছে।’

 


হারুনুর রশিদ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদর থানার সামনে একাধিক দোকানে চুরি হচ্ছে সম্প্রতি। এসব প্রতিষ্ঠান বা আশপাশের ভিডিও সংগ্রহ করে পুলিশ চুর সনাক্তের চেষ্টা করেছে। যদি সরকারিভাবে লাগানো থাকতো ক্যামেরা চুরি করার সাহসই পেত না।
শহরবাসীর অভিযোগ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা অচল থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। কোনো ঘটনা ঘটলে আশপাশের ব্যক্তিগত ক্যামেরার ফুটেজের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায়ই ব্যক্তিগত ক্যামেরা নেই। প্রয়োজন প্রশাসন, পুলিশ, পৌরসভার সমন্বিত ব্যবস্থা। 

 


আলফাত উদ্দিন স্কয়ারের ব্যবসায়ী তৈয়বুর রহমান, এই স্কয়ারের ফার্মেসী, মুদি দোকানসহ একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসি ক্যামেরা থাকলে অপরাধ প্রবণতা অনেক কমে আসে। কারণ ক্যামেরায় ধরা পড়ার ভয়ে অপরাধী অপরাধ করতে ভয় পায়। আমরা ব্যবসায়ীরা অনেকটা নিরাপদবোধ করি। 
শিক্ষক সালেহ আহমেদ বলেন, সিসি ক্যামেরা শুধু একটা ঘটনার ছবি ধারণ করে না। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারে। যেমনটা আমরা দেখেছি কালীবাড়ি জুয়েলারি দোকানে। সিসি ক্যামেরা থাকায় দোকান চুরি থেকে রক্ষা পেয়েছিল, চুরও ধরা পড়েছিল।

 


সচেতন নাগরিক কমিটির সহ সভাপতি খলিল রহমান বলেন, শহরে একসময় সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল, নিওন আলোর বাতি লাগানো ছিল। এসব কোথায় গেল? এসব যদি রক্ষা না করতে পারি শুধু প্রকল্প নিলে হবে না, রক্ষা করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন পৌরসভা ও পুলিশের সমন্বিত পরিকল্পিত উদ্যোগ।


পুলিশ বলছে, অপরাধ তদন্ত ও বিচারে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। কোনো ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তির চলাচল, ব্যবহৃত যানবাহন কিংবা ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি জানতে ক্যামেরার ফুটেজ সহায়তা করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

 


সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন সেখ বলেন, আমি সদর থানার যোগ দেয়ার পর থেকে উপজেলা মিটিং বা যেখানে সুযোগ পাচ্ছি সিসি ক্যামেরার কথা বলে আসছি, কিন্তু কোন কাজ হয় না। সিসি ক্যামেরা থাকলে শহর নিরাপদ থাকে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, চুরির ঘটনা ঘটলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়। আদালতেও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। অপরাধীরা দ্রুত অপরাধ স্বিকার করে। কিন্তু এই শহরে এই সুযোগ সুবিধা না থাকায় তদন্তে আমরা বেগ পাচ্ছি। কিছু জায়গায় ব্যক্তিগত ক্যামেরা বা সরকারি দপ্তরে থাকা ক্যামেরা ফুটেজ নিয়ে কাজ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে পেরেছি। কিন্তু এসব ফুটেজ সংগ্রহ করা কঠিন। তাই দ্রুত শহরে ও ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ক্যামেরা স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

 

 


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় শহরে পুলিশের উদ্যোগে ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় ও ৫ আগস্টে অনেক ক্যামেরা নষ্ট হয়েছে, নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নষ্ট ক্যামেরা প্রতিস্থাপন বা নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পুলিশের কাছে আলাদা কোনো বরাদ্দ থাকে না। ফলে প্রয়োজন থাকলেও নিজেদের অর্থায়নে দ্রুত ক্যামেরাগুলো সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের অন্যান্য সংস্থার কাছে আহবান থাকবে ক্যামেরা স্থাপনে উদ্যোগী হতে। এতে আমাদের উপকার হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার