বাণিজ্যমেলা আয়োজনে জনমতকে গুরুত্ব দিন

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২৪

ষোলঘর স্টেডিয়ামে বাণিজ্যমেলা আয়োজনের খবর প্রচারিত হওয়ার পরই এর পক্ষে—বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রচার হয়। শুক্রবার বাণিজ্যমেলার অবকাঠামো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন জন নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। মাসাধিককালব্যাপী আয়োজিত মেলায় অতিরিক্ত শব্দযন্ত্রের ব্যবহার ও ভিড়ের কারণে ষোলঘর, মোহাম্মদপুরসহ পাশ^র্বর্তী এলাকার লোকজন শব্দদূষণসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন বলে অনেকে জানিয়েছেন। মেলাটি যদি নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে হয় তাহলে তখন শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা থাকার উল্লেখ করে অনেকে মেলার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মেলা আয়োজনকারীদের একটি পক্ষ সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে মেলা শুরু হবে না। উচ্চ শব্দ উৎপাদনের বিষয়েও সতর্ক থাকার প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিকাশের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে  প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বাণিজ্যমেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বলাবাহুল্য দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায়ই প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এ রকম বাণিজ্যমেলা আয়োজিত হয়। রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘ পরিসরে আয়োজিত হয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পণ্যের মেলা। এ ছাড়া এ সব মেলায় বিনোদনের নানা উপকরণ থাকে। তাই মেলার পরিসরটি কেবল পণ্য বেচা—কেনা নয় বরং নাগরিক সমাজের বিনোদনের উপলক্ষেও পরিণত হয়। বাণিজ্যমেলাকে ঘিরে প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। মেলায় আসলে সকলেই এক জায়গায় বাহারী পণ্যের সন্ধান পান, এই সুবিধার পাশাপাশি ব্যস্ত নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে রাখতেও এই ধরনের মেলা বেশ ভালো ভূমিকা রাখে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, বাণিজ্য ও বিনোদনের জন্য আয়োজিত মেলাটি যদি গণউপদ্রব তৈরির জন্য সহায়ক হয় তাহলে বিপত্তি। মেলার আয়োজন ঘিরে যাঁরা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন তাঁদের সকলের কথার মূল সুর এটিই। মেলা আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষকে জনমত ও নাগরিক উদ্বেগের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। ষোলঘর স্টেডিয়ামে যত বছর ধরে বাণিজ্যমেলা হচ্ছে ততো বছর ধরেই এলাকার লোকজন মেলার কারণে তাঁদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠার অভিযোগ করে আসছেন।

 


ষোলঘর স্টেডিয়ামটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। স্টেডিয়ামের সামনে সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারীদের সরকারি আবাসিক ভবন, পাশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঠের চতুঃপাশে^র্ বিস্তৃত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। এরকম একটি জায়গা দীর্ঘ মেয়াদী মেলা আয়োজনের জন্য উপযুক্ত কি—না তা ভেবে দেখা দরকার। মেলা হলেই সেখানে ভিড় হবে, শব্দ হবে; এগুলোকে আটকে রাখা কঠিন। তাই সবচাইতে কম নাগরিক সমস্যা হয় এমন স্থানেই মেলার আয়োজন করা বাঞ্ছনীয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই আব্দুজ জহুর সেতুর ওপাড়ের খোলা জায়গায় মেলা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ওখানে মেলা হলে তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুরসহ অন্যান্য উপজেলার লোকজনও সহজে মেলাস্থলে আসতে পারেন। এলাকাটিতে যেহেতু এখনও তেমন করে জনবসতি গড়ে উঠেনি তাই প্রস্তাবটি বিবেচনাযোগ্য। ষোলঘর স্টেডিয়ামে মেলা হলে মেলার সময় পুরো উকিলপাড়া, ষোলঘর, নবীনগর, মোহম্মদপুর ইত্যাদি এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। তখন এই সব রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেও সমস্যা। এছাড়া এ বছর যতটুকু জানা যায়, প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতে হয়তো ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। পরীক্ষার্থীদের অসুৃবিধা করে মেলা আয়োজন একেবারেই অনুচিত। আরেকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে, বিভিন্ন বাসা—বাড়িতে প্রচুর অসুস্থ বয়স্ক লোক আছেন। অতিরিক্ত শব্দ তাঁদের রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়। মানুষের স্বাভাবিক জীবনও ব্যাহত হয়।

 


আরেকটি বিষয়— মেলায় তথাকথিত লটারি নামক এক গণউৎপাত তৈরি হতে দেখা যায়। মেলায় প্রবেশের টিকেট দিয়ে এই লটারির আয়োজন করা হয়। এই লটারির জমজমাট প্রচার চলে। অনেকেই একাধিক টিকেট কিনে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য দান ধরেন। প্রবেশ—কুপন নিয়ে এই ধরনের লটারির আয়োজন কতোটা আইনসম্মত তা ভেবে দেখতে হবে। শহরে বাণিজ্য মেলা হোক, এটি সকলেই চান। মানুষ সব সময় ভিন্ন কিছুর স্বাদ পেতে চায়। বছরে একবার বাণিজ্যমেলা সকলের জন্য ভিন্ন মেজাজের একটি আবহ তৈরি করে। মানুষ ক্ষণিক অবসর কাটানোর জায়গা খোঁজে নেন এখানে। তাই মেলার আয়োজন নিয়ে কোনো আপত্তি কারও থাকার কথা নয়। তবে মেলাটি হতে হবে জনগণের বিনোদন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় কেনাকাটার জন্য।  মেলা যাতে গণভোগান্তি তৈরির জায়গায় পরিণত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার