প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪২
পর্ব-২৯
১৪ জুলাই ২০২৬ সাল। টরন্টোতে ভীষণ গরম পড়েছে। তাপমাত্রা ফিলস লাইক ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেমিফাইনাল ১ম ম্যাচ, ফ্রান্স vs স্পেন। টরন্টো সময় বেলা ৩ টা। স্থান - ডালাস ষ্টেডিয়াম, আরলিংটন। আজকের ম্যাচ হয়ে গেলে হারাধনের বাকি থাকবে ০৩। বিশারদদের পূর্বাভাসে ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে। এখন তাদের মধ্যে হচ্ছে সেমিফাইনাল। সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট দুই দলের মধ্যে একদল আউট হয়ে যাবে। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল খেলবে এমন ভবিষ্যত বাণী ছিল। তারা ঠিকই খেলছে। ইংল্যান্ড ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল লিস্ট পর্যন্ত। সম্ভাব্য সেমিফাইনালিস্ট পর্তুগালের বিদায় আগেই হয়ে গেছে। এখন দেখা যাক কী হয়।
ম্যাচ শুরু হয়েছে। দুই দলে যথেষ্ট গতি ও ছন্দ আছে। স্পেনের জার্সি নং ২৪, কুকুরেলা যথারীতি ব্যাকপাসে খেলছেন। কুকুরেলা ৯০% খেলা ব্যাকপাসে খেলে থাকেন। তাছাড়া লম্বা ঝাঁকড়া চুলের ভারে ও বাতাসের দোলায় খেলতে অন্তরায় সৃষ্টি করে। তবে কুকুরেলার একটি অসাধারণ গুণ আছে। তিনি গোল হওয়ার মুহূর্তে দুর্দান্ত সেভ করতে পারদর্শী।
ফ্রান্সের ১১ নং জার্সি , লম্বা পা, দৌড়ের সময় স্টেপিং সুন্দর। স্পেনের ১৯ নং তীব্র গতির ইয়ামাল দৌঁড়াচ্ছেন। মাথায় চিকন ব্যান্ড বা পট্টি বাধা। মনে হয় আজকে যে দল আগে গোল করতে পারবে তাদের জেতার সম্ভাবনা বেশি। ধাবমান ইয়ামালকে আটকাতে গিয়ে এবং বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে বক্সের ভিতরে ইয়ামালকে ফাউল করেন ফ্রান্স খেলোয়ার।
পেনাল্টি। ২২তম মিনিটে জোরালো পেনাল্টি শটে গোল করেন স্পেনের জার্সি নং ২১, মাইকেল ওয়ারজাবাল (Mikel Oyarzabal)। ফ্রান্স কিপার ঝাঁপ দিলেও নাগালের বাইরে দিয়ে বল জালে জড়িয়ে যায়। ১-০। দুদিকে তীব্র গতির খেলা চলছে। ফ্রান্স একটি গোল খেয়ে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেছে।
.png)
তারা জন-জরিপে ও খাতাপত্রে এগিয়ে। তাছাড়া আগের সবকটি ম্যাচে ভালো খেলেছে। ৩৬ তম মিনিটের সময় স্পেন আরেকটি সুযোগ মিস করে। ফ্রান্স কিপার বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সতীর্থকে বল পাঠাতে ব্যর্থ হলে এই সুযোগ তৈরি হয়েছিল। হাফ টাইম পযর্ন্ত ১-০। সেকেন্ড হাফে খেলা শুরু হলে একসময়ে স্পেন জেঁকে বসে ফ্রান্সের উপর। ফ্রান্স তখন নাস্তানাবুদ হচ্ছিল স্পেনের কাছে। ৫৮ তম মিনিটের সময়ে আবার কী থেকে কী হয়ে গেল। সতীর্থ স্পেন প্লেয়ারের বাড়ানো থ্রু থেকে ধাক্কাধাক্কি খেয়ে বল চলে আসে বক্সের ভিতরে দন্ডায়মান স্পেন স্ট্রাইকার ১২ নং জার্সি পেড্রো পরো (Pedro Porro) এর পায়ে। তিনি দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন। ফ্রান্স কিপার দৌঁড়ে আটকাতে এলেও কিছু করতে পারেননি। ২-০। ৬১ মিনিটের মাথায় স্পেনের লামিন ইয়ামালের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল। তবে ইয়ামালের শটটি দেখতে খুব সুন্দর ছিল। প্রচন্ড গতি স্পেনের খেলায়। মধ্যমাঠে হাল ধরেছেন, রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ।
রক্ষণভাগে গোলকিপার উনাই সিমন স্বয়ং। দুর্ভেদ্য স্পেন রক্ষণভাগ। এতদিন স্পেনের এই খেলা কোথায় ছিল! ফ্রান্স কাদের সঙ্গে এতদিন বাহাদুরি দেখাল! ৬৭ তম মিনিটের সময়ে স্পেন গোলপোস্টে এমবাপ্পের একটি দুর্দান্ত শটের বলে কুকুরেলা হিট করে গতি পরিবর্তন করে দেন। নাহলে গোল হয়ে যেত। ফ্রান্স যেন আর এঁটে উঠতে পারছে না। ৭৪ মিনিটের মাথায় স্পেন প্রথম গোলদাতা মাইকেল ওয়ারজাবালকে মাঠ থেকে তুলে নেন তাদের কোচ। অনুমান সঠিক হতে যাচ্ছে? ফ্রান্স কোচ বদলি খেলোয়ার নামিয়ে সামাল দিতে চাইছেন। ৮৮ মিনিটের মাথায় এমবাপ্পের ফ্রি কিক ব্যর্থ হয়। ৯০ তম মিনিটের সময়ে কুকুরেলা আরেকটা দুর্দান্ত সেভ করেন। একেবারে পোস্টের সামনে ফ্রান্সের সবচাইতে ধুরন্ধর (ইতিবাচক অর্থে) স্ট্রাইকার এমবাপ্পের মুখের গ্রাস কেঁড়ে নিয়ে। কুকুরেলা আগে বলে শট মেরে দেন। ৯০ + ৫ মিনিটের মাথায় স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন একেবারে সামনাসামনি শট দুরন্ত সেভ করেন। খেলা শেষ। স্পেন ২-০ গোলে আসরের টপ লিস্টে থাকা ফ্রান্সকে খুব সহজেই পরাজিত করে ফাইনালে উঠে গেল।
(1).jpg)
ইতিপূর্বে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এখন খেলবে তৃতীয় হওয়ার খেলায়। কী হয়েছিল ফ্রান্সের আজকের খেলায়? তাদের স্ট্রাটেজি কাজে লাগেনি কেন! তারা কিছুটা আন্ডার ইষ্টিমেট করেছিল স্পেনকে। তাদের খেলা এলোমেলো হয়ে যায়। বারবার রক্ষণভাগ ভেঙ্গে পড়ছিল। ইয়ামালকে আটকাতে বেশি ব্যস্ত ছিল। ফ্রান্স দলে এমবাপ্পে সহ যত ভালো খেলোয়ারই থাকুন না কেন তাদের দলে ভেল্কিবাজি দেখানোর মতো কোন খেলোয়ারেরই এলেম নেই। স্পেনের খেলা ছিল খুবই পরিকল্পিত। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কি আর্জেন্টিনা বিদায় নিবে! এটি এখন সিক্স মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চন। বিদায় ফ্রান্স। তাদের সাজানো বাগান হঠাৎ ভেঙ্গে গেল। ফ্রান্স দর্শক গ্যালারিতে ফ্রান্সের নীল রং জার্সি গায়ে পড়া দেখতে কালো রং দাঁত পড়া একটি অবুঝ কোলের শিশুকে হাপুস নয়নে কাঁদতে দেখে মনে কষ্ট পাই। একটি শিশুর হাসির বিনিময়ে এমবাপ্পেরা খেলা রক্ষা করতে পারলেন না।
ফ্ল্যাশব্যাক - কোন বিদেশি দলের খেলা বলতে আমরা প্রথম টিভিতে দেখি সম্ভবত ভারতীয় দলের খেলা। দেশ স্বাধীন হলে তারা ঢাকায় খেলতে আসেন। তারপর মনে হয় ইরাকের খেলা। ত্রিদেশীয় আয়োজন ছিল। আরেকটি বিদেশের দলের নাম মনে নেই। মালয়েশিয়ান ও ইন্দোনেশিয়ান টিমও এসেছিল। ইন্দোনেশিয়া টিম খুব সুনাম অর্জন করে। ইন্দোনেশিয়া টিমের খেলা সম্ভবত টিভিতে দেখি নাই।পরে সার্ক ফুটবলের খেলা একাধিকবার দেখেছি টিভিতে। একসময়ে মালয়েশিয়ার 'মারদেকা' কাপের খেলা এশিয়ায় নামকরা ছিল। তাদের স্বাধীনতা দিবস (৩১ আগষ্ট), উপলক্ষ্যে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হতো প্রতিবছর কুয়ালালামপুর মারদেকা ষ্টেডিয়ামে। মারদেকা অর্থ স্বাধীনতা। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল টিম মারদেকা কাপ টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নেয়। এই টিমে সুনামগঞ্জের ছোট নাজির ষ্টপার পজিশনে খেলা প্রশংসা অর্জন করেন।
আজকের মতো শেষ। আর মাত্র ৩ টি পর্ব বাকি রইল।
লেখক : আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক এবং উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর।
উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন