যাযাবর পরিবারে...

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৭

পরভ্রমণ-শেষ পর্ব

'আমি এক যাযাবর...' ভুপেন হাজারিকার কালজয়ী এ গানটির জন‍্য প্রতিটি বাঙালি পরিভ্রমণকারীর মনে যাযাবর আকুলতা আছে। গোবির বিশাল মরুভূমি—যেখানে চারদিকে শুধু বালি, আকাশ আর নিরবতার রাজত্ব—সেই অসীম প্রান্তরের মাঝে এক যাযাবর পরিবারের গের (Ger)-এ প্রবেশের অভিজ্ঞতা আমার মঙ্গোলিয়া ভ্রমণের এক অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। 

 

গোবি মরুভূমি ও যাযাবর পরিবার : আধুনিকতার কোলাহল থেকে বহু দূরে, এই ছোট্ট গোলাকার তাঁবু ঘরটির ভেতরে যেন লুকিয়ে আছে শত বছরের এক জীবনধারা।


প্রথমবারের মতো স্বাদ নিলাম উটের দুধের। শুধু একটি পানীয় নয়, এটি ছিল গোবির কঠিন পরিবেশে টিকে থাকা যাযাবর মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির একটি অংশ। তাদের হাতে তৈরি খাবারের মধ্যে মঙ্গোলিয়ার বিখ্যাত Buuz—মাংস ভরা স্টিমড ডাম্পলিং—আমাকে মুগ্ধ করল। প্রতিটি কামড়ে যেন অনুভব করলাম এই দেশের ঐতিহ্য ও মানুষের সহজ-সরল জীবন।


পনির ভেবে যে খাবারটি হাতে নিয়েছিলাম, পরে জানলাম সেটি আসলে শক্ত ধরনের শুকনো দই। অপরিচিত স্বাদ হলেও নতুন কিছু জানার আনন্দে সেটিও উপভোগ করলাম। আর গরম গরম মঙ্গোলিয়ান দুধ চা—যার সঙ্গে মিশে ছিল পরিবারের আন্তরিকতা—সেই মুহূর্তটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছিল।


সবচেয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য ছিল পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকে ঘিরে। দূর দেশ থেকে আসা এক অতিথিকে পেয়ে তার চোখেমুখে যে আনন্দ আর কৌতূহল দেখেছিলাম, তা ছিল ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর উপহারগুলোর একটি।
গোবির বালিয়াড়ির মাঝে সেই যাযাবর পরিবারের উষ্ণ আতিথেয়তা আমাকে শিখিয়েছে—ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো স্থান নয়, বরং মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সেই ক্ষণিকের সম্পর্ক।

 

তুমেন এখ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : উলানবাটোরের ব্যস্ত শহরের এক কোণে, সন্ধ্যার আলো নামার আগেই পৌঁছে গেলাম Tumen Ekh Folk Song and Dance Ensemble-এ। "তুমেন এখ " একটি মঙ্গোলিয়ান শব্দ, যার অর্থ হলো "অসংখ্যের উৎস" বা "হাজারো কিছুর মূল উৎস"। মঙ্গোলিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে এই নামটি প্রতীকী অর্থ বহন করে—যেখানে একটি জাতির বহু প্রজন্মের গান, নৃত্য, সুর ও জীবনধারা এসে মিলিত হয়েছে এক মঞ্চে।


এটি অবস্থিত উলানবাটোর শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার কাছাকাছি, চেঙ্গিস খান স্কয়ার থেকে খুব বেশি দূরে নয়। শহরের আধুনিক ব্যস্ততার মাঝেই এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি যেন মঙ্গোলিয়ার হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ঠিকানা।


আজকের আবহাওয়া ছিল বেশ আরামদায়ক। অথচ গতকালই বৃষ্টি আর ঠান্ডার মধ্যে শহরটাকে অন্যরকম মনে হয়েছিল। মঙ্গোলিয়ার আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তনও যেন এখানকার প্রকৃতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক দলটি মঙ্গোলিয়ার লোকসংগীত, নৃত্য, কণ্ঠশিল্প এবং যাযাবর জীবনের ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে আসছে।


অনুষ্ঠান শুরু হতে তখনও প্রায় এক ঘণ্টা বাকি। তবু বাইরে দর্শকদের লম্বা লাইন। ২০ ডলার দিয়ে টিকিট কিনলাম। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের মধ্যে ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের সংখ্যাই বেশি। তাদের আগ্রহ দেখে বোঝা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখন শুধু কোনো দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসে না; তারা জানতে চায় সেই দেশের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারা।


বর্তমানে যারা মঙ্গোলিয়ায় ভ্রমণে আসেন, তাদের অনেকেই শুধু গোবি মরুভূমি, পাহাড় কিংবা বিশাল তৃণভূমি দেখতে আসেন না; তারা খুঁজে দেখেন এই দেশের মানুষের আত্মপরিচয়। একটি জাতি কীভাবে গান গায়, কীভাবে নাচে, কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে জীবনকে মিলিয়ে নেয়—সেটি বোঝার জন্য এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাদের ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।


আমি টিকিট কেটে কর্তৃপক্ষের একজনকে বললাম, আমি একজন লেখক। এই ভ্রমণ নিয়ে লিখব। সম্ভব হলে যেন সামনে বসার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেন। মঞ্চের কাছাকাছি বসার সুযোগ হলো।
একজন ভ্রমণ লেখকের জন্য এমন মুহূর্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দূর থেকে দেখা আর কাছ থেকে অনুভব করার মধ্যে পার্থক্য আছে। শিল্পীর চোখের অভিব্যক্তি, বাদ্যের কম্পন, নৃত্যের ছোট ছোট ভঙ্গি—এসব কাছ থেকে দেখলেই গল্প হয়ে ওঠে।


আমার সাথে  একজন বয়স্ক মঙ্গোলিয়ান ভদ্রলোক এর আলাপ হল  গেটের বাইরে অনুষ্ঠান শুরুর আগে। জানতে চাইলেন, আমি কোথা থেকে এসেছি। বললাম, বাংলাদেশ থেকে এসেছি, ভ্রমণ লিখি। তিনি হাসিমুখে বললেন, "বাংলাদেশ অনেক দূরের দেশ, কিন্তু সংস্কৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা সব জায়গাতেই একই।"আমি তাকে বললাম, মঙ্গোলিয়ার লোকসংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্যই এই অনুষ্ঠানে এসেছি। তিনি গর্বের সঙ্গে বললেন, "আমাদের গান, ঘোড়া আর প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক—এসবই আমাদের পরিচয়। নতুন প্রজন্ম যেন এগুলো ভুলে না যায়, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।"তার কথাগুলো আমার মনে দাগ কাটল। কারণ একজন সাধারণ দর্শকের মুখ থেকেও যেন উঠে এলো একটি জাতির সংস্কৃতি রক্ষার গভীর অনুভূতি।


এরপর অনুষ্ঠানের আগে দলের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলো। আমি পরিচয় দিলাম—আমি বাংলাদেশ থেকে আসা একজন লেখক, মঙ্গোলিয়ার সংস্কৃতি নিয়ে লিখছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বললেন। জানালেন, তাদের লক্ষ্য শুধু বিদেশি পর্যটকদের বিনোদন দেওয়া নয়; বরং মঙ্গোলিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মানুষের জীবনদর্শনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।সন্ধ্যা ছয়টায় আলো নিভে গেল। শুরু হলো মঙ্গোলিয়ার আত্মপরিচয়ের এক ঘণ্টার যাত্রা।


প্রথমেই মঞ্চে এলো Khoomei (Throat Singing)। মানুষের কণ্ঠ যে এত বিচিত্র হতে পারে, তা এই শিল্প না দেখলে বোঝা কঠিন। একজন শিল্পীর গলা থেকে যেন একই সঙ্গে বেরিয়ে আসে গভীর ও উচ্চ দুটি সুর। মনে হয়, দূরের পাহাড়, বাতাস আর বিস্তীর্ণ তৃণভূমির শব্দ মানুষের কণ্ঠে ফিরে এসেছে।


এরপর মঞ্চে উঠল Morin Khuur—মঙ্গোলিয়ার বিখ্যাত ঘোড়ার মাথার আকৃতির তারবাদ্য। ঘোড়া মঙ্গোলদের কাছে শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি তাদের ইতিহাস, স্বাধীনতা ও যাযাবর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বাদ্যের সুরে সেই সম্পর্কের আবেগ অনুভব করা যায়।


এরপর একে একে পরিবেশিত হলো ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য। শিল্পীদের পোশাক, শরীরের ভঙ্গি, হাতের নড়াচড়া এবং নাচের ছন্দের মধ্যে ফুটে উঠল মঙ্গোলিয়ার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনচিত্র। কোথাও উৎসবের আনন্দ, কোথাও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, আবার কোথাও যাযাবর জীবনের সরল সৌন্দর্য।


অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল Contortion performance। শিল্পীদের শরীরের অসাধারণ নমনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণ দেখে দর্শকরা বিস্মিত হয়ে পড়েন। এই শিল্পের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ অনুশীলন, ধৈর্য এবং কঠোর সাধনা।


এছাড়া ছিল ঐতিহ্যবাহী মুখোশ নৃত্য, যা দীর্ঘ সুরের গান এবং অন্যান্য লোকজ পরিবেশনা। প্রতিটি পরিবেশনার মধ্যে লুকিয়ে ছিল মঙ্গোলিয়ার ইতিহাস, বিশ্বাস, প্রকৃতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার গল্প।


Tumen Ekh-এর শিল্পীরা শুধু একটি অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন না; তারা যেন একটি জাতির স্মৃতি বহন করেন। তাদের গান, নাচ এবং বাদ্যের মাধ্যমে মঞ্চে উঠে আসে সেই পুরোনো মঙ্গোলিয়া—যেখানে মানুষ আকাশকে ছাদ আর প্রকৃতিকে আপনজন মনে করে।


অনুষ্ঠান শেষে আবার কথা হলো দলের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে। তারা জানতে চাইলেন, অনুষ্ঠানটি কেমন লেগেছে। আমি বললাম, এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি মঙ্গোলিয়ার আত্মার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ।
তারা হাসিমুখে ধন্যবাদ জানালেন এবং আমাকে ফটোসেশনের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। শিল্পীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সেই মুহূর্তটি হয়ে রইল এই সফরের বিশেষ স্মৃতি। মনে হচ্ছিল, কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও আমি যেন মঙ্গোলিয়ার সংস্কৃতির একটি ছোট অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলাম।


এই অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে বারবার মনে হচ্ছিল, আমাদের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলও তো লোকসাহিত্য, লোকসংগীত ও সংস্কৃতির এক উর্বর ভূমি। বাউল, ভাটিয়ালি, ধামাইল, মরমি গান, পালাগান—আমাদের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বিশাল ভাণ্ডার। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, আমরা সেই ঐতিহ্যকে বিশ্বমানের একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চে নিয়মিতভাবে তুলে ধরার মতো প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগ খুব বেশি গড়ে তুলতে পারিনি।


আমরা অনেক সময় লোকসাহিত্য নিয়ে আলোচনা করি, পুরস্কারের আয়োজন করি, কারও নামের আগে "গবেষক" শব্দটি যুক্ত করার প্রতিযোগিতায় থাকি। কিন্তু একটি শহরে এমন একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক আয়োজন, যেখানে প্রতিদিন বা নিয়মিতভাবে আমাদের লোকসংস্কৃতির গল্প দেশি-বিদেশি মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে—সেই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খুব কম ভাবি।


Tumen Ekh দেখে মনে হলো, একটি জাতির সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে শুধু গবেষণা নয়, দরকার জীবন্ত উপস্থাপন। দরকার এমন মঞ্চ, যেখানে মানুষ এসে নিজের ঐতিহ্যকে অনুভব করবে, আর বিশ্বের মানুষ এসে সেই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে।


ভ্রমণে আমি সবসময় মানুষের গল্প খুঁজি। একটি দেশের পাহাড়, মরুভূমি কিংবা শহরের পাশাপাশি জানতে চাই—সেই দেশের মানুষ নিজেদের কীভাবে প্রকাশ করে। আজকের এই এক ঘণ্টার অনুষ্ঠান ছিল মঙ্গোলিয়ার হৃদয়ের কাছে পৌঁছানোর তেমনই একটি পথ।


মঞ্চে দাঁড়ানো শিল্পীদের দেখে মনে হচ্ছিল, তারা শুধু গান গাইছেন না বা নাচছেন না; তারা বহন করছেন বহু প্রজন্মের স্মৃতি। যাযাবর পূর্বপুরুষদের জীবন, ঘোড়ার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, বিস্তীর্ণ তৃণভূমির একাকিত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের গল্প তারা তুলে ধরছেন শিল্পের মাধ্যমে।


(প্রথম অংশ)

 

থার্টিন সেঞ্চুরি কমপ্লেক্স, বিয়ে, আতিথেয়তা : উলানবাটোর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছিলাম মঙ্গোলিয়ার থার্টিন  সেঞ্চুরি কমপ্লেক্সে। সেই জায়গার রয়েছে এক ইতিহাস। যা আজ ক্লান্ত থাকায় লিখতে পারি নি। তবে দুইটা অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশাল এলাকা ঘুরে দেখার সময় হঠাৎ চোখে পড়ল একটি বড় গেরের ভেতর বিয়ের আয়োজন। মঙ্গোলিয়ার ঐতিহ্যবাহী এই গেরের মধ্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের নিয়ে চলছিল আনন্দের মুহূর্ত। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিল, একজন অচেনা বিদেশি পথিক হিসেবে আমাকে তারা আন্তরিকভাবে বিয়েতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। সময় স্বল্পতার কারণে থাকতে পারিনি, কিন্তু তাদের এই আন্তরিকতা ভ্রমণের অন্যতম স্মৃতি হয়ে থাকবে।

 


আরেকটি চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল স্থানীয় একটি পরিবারের  আতিথেয়তা। তারা আমাকে কিছু আপ্যায়ন করাবেই। সেটা নাকি এই এলাকায় যে কেউ আসলে সবাইকে নাকি তারা অতিথি সেবা দেয়। দুইটা খাবার খেলাম ঐতিহ্যবাহী। দইটা প্রথম খেলাম আজ। আগে গোবিতে খেয়েছিলাম উঠের দুধ। তারা আপ্যায়ন করাল তারাগ ও ইজগি। আমার গাইড দারুন আমাকে দুইটা খাবারের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন।

 


তারাগ (Tarag) হলো মঙ্গোলিয়ার ঐতিহ্যবাহী টক দই, যা সাধারণত গরু, ইয়াক বা অন্য গবাদিপশুর দুধ থেকে তৈরি করা হয়। যাযাবর জীবনে এটি শুধু খাবার নয়, বরং অতিথি আপ্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ফ্রিজ ছাড়া তারা কীভাবে এই দই ঠান্ডা ও সতেজ রাখছেন, সেটি আমার কাছে বিস্ময়ের বিষয় ছিল।

 


ইজগি (Eezgii) হলো মঙ্গোলিয়ার একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী শুকনো দুগ্ধজাত খাবার। দুধ জ্বাল দিয়ে তৈরি করা এই খাবারকে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। এর স্বাদ হালকা মিষ্টি ও দুধের ঘন স্বাদের মতো, যা যাযাবরদের দীর্ঘ যাত্রায় শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


ভ্রমণে বড় স্থাপনা ও ইতিহাসের চেয়েও অনেক সময় মানুষের ছোট ছোট ভালোবাসার মুহূর্তগুলো বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকে।
[সমাপ্ত]

উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার