টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবল ১৯৮২-২০২৬

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৮:০৩

পর্ব -৩১

১৮ জুলাই ২০২৬ সাল। এবারের আসরের শেষ খেলার আগের খেলা। ফ্রান্স vs ইংল্যান্ড। টরন্টো টাইম বিকেল ৫ টা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। এইসব ম্যাচে দর্শকের আকর্ষণ যেমন কম তেমনি টিমেরও আগ্রহ কম। ফাইনালে যেতে যেতে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স হেরেছে স্পেনের কাছে। আর ইংল্যান্ড পরাজিত হয়েছে আর্জেন্টিনার কাছে। আজকের ম্যাচ ভেন্যু - মিয়ামি স্টেডিয়াম। খেলা শুরু হয়েছে। গ্যালারিতে দর্শকের অভাব নেই। খেলায় মনোযোগ দিতে না দিতেই ৩ মিনিটের সময়ে গোল দিয়ে দিল ইংল্যান্ড। ফ্রান্স ডিফেন্ডারের পাস ঠিকমত না হওয়ায় বল পেয়ে যান ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার জার্সি নং ৪ ডেকলান রাইস ( Declan Rice )। তিনি লং রেঞ্জের অপূর্ব একটি শটে ফ্রান্স কিপারকে অনায়াসে পরাস্ত করে বল জালে প্রবেশ করান। ১-০। কোথায় ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা ছিল তারা শুরুতেই খেয়ে বসল এক গোল। ফ্রান্সের খেলায় সেই উত্তাপ নেই। ১৮ তম মিনিটের মাথায় ফ্রান্স দ্বিতীয় গোল হজম করল। বাড়ানো থ্রু থেকে উড়ে আসা বলে চমৎকার হেডে গোল করেন ইংল্যান্ডের জার্সি নং ২ ইজরি কনসা ( Ezri Konsa )। ২-০। ফ্রান্স এলোমেলো হয়ে গেছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত। ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলবে এই রকম ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। তারা ঠিকই খেলেছে। এখন যদি তৃতীয় স্থান পায় তাদের একটা সান্ত্বনা। ফ্রান্সের দুর্দান্ত শট রুখে দিচ্ছেন ইংল্যান্ড কিপার। ইংল্যান্ডের পাল্টা হামলা চলছে ফ্রান্স পোস্টে। ৩৭ তম মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোল। আজকে কি হলো ফ্রান্সের! শুরুটা হয়েছিল ইংল্যান্ড প্রান্তে। সেখানে ফ্রান্স অ্যাটাক ব্যর্থ হলে বল দূরপাল্লার শটে ক্লিয়ার করেন ইংলিশ ডিফেন্ডার। দুই তিনজন ইংলিশ প্লেয়ার বল নিয়ে ধাওয়া দেন ফ্রান্স পোস্টে। ফ্রান্সের পোস্ট প্রায় অরক্ষিত। দু তিনবার ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ইংল্যান্ড জার্সি নং ৭ বুকায়ো সাকা ( Bukayo Saka ) দুরন্ত শটে বল ফ্রান্সের জালে। ৩-০। খেলা চলতে থাকে। ৪৫ + ০১ মিনিটের মাথায় আবার ইংল্যান্ডের গোল। আবার জার্সি নং ৭ বুকায়ো সাকা। বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়েই ডি বক্সের সীমানা থেকে কোনাকুনি প্রচণ্ড শটে অসাধারণ গোল করেন সাকা। ৪ -০। একহালি। প্রথমার্ধেই ৪ গোল খেয়ে গেল ফ্রান্স। পুরো আসরে ফ্রান্সের পারফরমেন্সের সঙ্গে একেবারেই মানায় না। আজকের খেলায় যেমন ফ্রান্স তেমনি তাদের গোলকিপার। সবাই অমনোযোগী। ফাইনালে না খেলার ব্যাথা নিয়ে খেলছে তারা। হাফ টাইমের পরে খেলা শুরু। কোন পক্ষে আর কোন গোল না হলে লেখার মতো কিছু আর থাকবে না। আর ঠিক ৪৮ তম মিনিটের সময়ে এমবাপ্পের এক গোল পরিশোধ। একটা ঝলক দেখালেন তিনি। বাড়ানো থ্রুর বলে ছুটে গিয়ে দৃষ্টিনন্দন শটে বল ইংল্যান্ডের জালে। ৪ - ১। ফ্রান্স এবার আরো গোল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ৫৪ তম মিনিটের সময়ে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোল পরিশোধ। ফ্রান্সের ১২ নং জার্সি ব্রেডলি বারকোলা ( Bradley Barcola ) যে গোলটি করলেন তার কোন তুলনা নাই। বল নিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে দৌড়ে তরবারি ঝলসে উঠার মত যে শটটি করলেন তাতে ইংলিশ গোলকিপার চোখে অন্ধকার দেখেন। ৪ -২। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় আগে এত উত্তেজনা হয়নি। খেলা চূড়ান্ত ক্লাইমেক্সে উঠে যায় যখন এমবাপ্পে ফ্রান্সের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করলেন। জোটবদ্ধ আক্রমণ থেকে এমবাপ্পে বাঁ পায়ে প্রতিপক্ষ প্লেয়ারের পায়ের তল দিয়ে বক্সের ভিতরে থেকে দৃষ্টিনন্দন শটে গোল করেন। ৪-৩। ৪-০ থেকে ৪-৩। ভাবা যায় না। দু দল পাল্টা পাল্টি চূড়ান্ত আক্রমণে। গোলকিপাররা অসাধারণ সেভ করছেন। কখন কি হয় বলা যায় না। উত্তেজনার আগুনে পুড়তে পুড়তে ফ্রান্সের মারাত্মক ফাউলের কারণে ইংল্যান্ড পেনাল্টি পেয়ে যায়। ৮৭ তম মিনিটের সময় পেনাল্টি শট নেন দুই গোল করা ইংলিশ জার্সি নং ৭, বুকায়ো সাকা। গোল। কিপার ঝাঁপ দিলেন একপাশে। বল জালে গেল আরেক পাশ দিয়ে। বুকায়ো সাকা হ্যাটট্রিক করলেন। ৫-৩। আরো উত্তেজনা। ৯০+০৫ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের আরেক গোল। ফ্রান্সের জার্সি নং ৭ উসমান ডেম্বেলের ( Ousman Dembele ) বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে গোল। ৫-৪। খেলার পারদ উঠছে আর নামছে। ৯০+৭ মিনিটের সময় আবার ইংল্যান্ডের গোল। ইংলিশ জার্সি নং ১০ জুডে বেলিংহাম ( Jude Bellingham ) মধ্য মাঠ থেকে বল নিয়ে দৌড়ে ড্রিবলিং করতে করতে চোখ ধাঁধানো শটে গোল। ৬-৪। গোলের হিসাব রাখতে গিয়ে হিমশিম খাওয়া। শেষ পর্যন্ত খেলা শেষ হলো। নইলে আরো গোল হতো। ইংল্যান্ড দল গোলের খেলায় ৬-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে এবারের আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন করল। এক ম্যাচে মোট ১০ গোলের রেকর্ড। একটা চমৎকার ম্যাচ হয়েছে। এমবাপ্পে গোল্ডেন বুটের রেইসে মেসি থেকে অনেক এগিয়ে গেলেন।

ফ্ল্যাশব্যাক - এবারের আসরের একটি ম্যাচ বাকি আছে। ফাইনাল। আগের দিনে এই অবস্থায় সবার মন খুব খারাপ থাকতো। খেলার রেশ থাকতো অনেকদিন পর্যন্ত। কথায় কথায় খেলার প্রসঙ্গ উঠে আসতো। হয়তো এইসব বিবেচনা করে ফিফা ১৯৮২ আসরের পর চ্যাম্পিয়ন বনাম অবশিষ্ট একাদশ মধ্যে একটি ম্যাচের আয়োজন করেছিল। বিটিভি দেখিয়েছিল সেই ম্যাচটি। এই নিয়ম আবার চালু করলে ভালো হয়।

এখানেই শেষ। ফাইনাল ম্যাচ পর্ব বাকি রইল।


লেখক : আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক এবং উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর।

উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার