জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সহনীয় রাখুন

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৯

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আট মাসের মাথায় এসে দ্বিতীয় দফা সকল ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে বর্ধিত মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। বিএনপি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন অর্থাৎ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের প্রতি লিটারের মূল্য ছিলো যথাক্রমে ১০০, ১১২, ১১৬ ও ১২০ টাকা। সোমবার দ্বিতীয় দফা মূল্য বাড়ানোর পর এই চার প্রকারের তেলের বর্ধিত মূল্য হয়েছে যথাক্রমে ১৩৫, ১৫৫, ১৬০ ও ১৬৫ টাকা। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি তথা পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প ছিলো না।

 

 

 

সরকারের পক্ষ থেকেও দাম বাড়ানোর জন্য এই কারণগুলোর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের দাম দ্বিগুণ বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে পুরোপুরি সমন্বয় হয়নি’। সরকারের দেয়া তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম না বাড়নোর ফলে গত মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ১১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। সরকারের পক্ষে ক্রমাগত এই লোকসান বহন করা সম্ভব নয় সত্য। তবে জ¦ালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাতে জনজীবনে দুঃসহ পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে কঠোর নজর রাখা সরকারের দায়িত্ব। আধুনিক সভ্যতার সবকিছুর পিছনে জ¦ালানি তেলের প্রত্যক্ষ প্রভাব জড়িত। বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে কল—কারখানা, সাধারণ ও পণ্য পরিবহন; সর্বত্র এই মূল্যবৃদ্দির প্রভাব পড়বে। সুতরাং সামনে আরেক দফা পণ্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পরিবহন পরিষেবার ভাড়া বাড়া  যে অবধারিত তা বলা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জ¦ালানি তেলের দাম ওঠা—নামা করা স্বাভাবিক হলেও আমাদের দেশে বাড়তি দাম হ্রাস পায় খুব কম। অন্তবর্তী সরকারের সময়ে অল্প পরিমাণে হলেও কয়েক দফা বিভিন্ন ধরনের জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ানো ও কমানোর ঘটনা ঘটেছে। দাম সমন্বয়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম পড়তির দিকে আসবে তখন দেশীয় বাজারেও দাম কমানো প্রত্যাশিত। আমরা আশা করি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসুক। যুদ্ধ যে মানবসভ্যতার কোনো উপকারে আসে না বরং অনাহুত যুদ্ধের ফলে অমূল্য জীবন ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়, সারা বিশে^র টালমাটাল বাস্তবতা প্রতিনিয়ত তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কিন্তু বৈশি^ক প্রভাব বলয় বাড়ানো ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় গুটিকয়েক শক্তিধর দেশ আজ সারা পৃথিবীর শান্তিকামী সাধারণ মানুষের উপর যুদ্ধের অভিশাপ চাপিয়ে দিয়ে বসে আছে। এই যুদ্ধোন্মত্ত বিশ^ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিকল্প জাগরণ তৈরি হওয়া আবশ্যক। 

 

 


জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা দিবে। সরকারকে অবিলম্বে বিভিন্ন পরিবহন খাতের সাথে বসে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনঃনির্ধারণের বিষয়টি সমাধান করতে হবে। অযৌক্তিক ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টিকে প্রতিহত করতে না পারলে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে। মনে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষের আয়—রোজগার বাড়েনি। বরং দেশের বেকারত্ব বেড়েছে। সরকারি কর্মচারিদের বেতন বাড়ার ধুয়া তুলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির একটি সুচতুর তৎপরতা লক্ষণীয় ছিলো। এখন এর সাথে জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সোনায় সোহাগা হয়ে এসেছে। অথচ সরকারি কর্মচারিরা দেশের জনসংখ্যার অতি সামান্য অংশ। মনে করা হয় কর্মচারিদের বেতন বোধ করি দ্বিগুণ বা তার চাইতে বেশি বেড়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। পুরনো কর্মচারিদের নতুন বেতনস্কেলে বেতন বাড়বে অতি সামান্য। এই সামান্য বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজার অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা যাতে এই দুই উপলক্ষ্যকে অজুহার হিসেবে ব্যবহার করে বাড়তি ফায়দা হাসিলের দিকে অগ্রসর না হতে পারে সেজন্য সরকারের আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। 

 

 


কৃষকদের সেচের কাজে ব্যবহৃত ডিজেলে ভর্তুকি রাখার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এতে দেশের কৃষি খাত সরাসরি বিপর্যস্ত হবে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না কৃষকরা। এখন যদি সেচের মূল্যবৃদ্ধিসহ অন্যান্য সকল উপকরনের দাম বাড়ে তাহলে কৃষি সেক্টর সমূহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। যার অনিবার্য ফলশ্রম্নতিতে আমাদের খাদ্য স্বয়ম্ভরতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও কৃষিজ—চক্র বিধ্বস্ত হওয়ার ঝঁুকিতে পড়বে। সুতরাং কৃষির সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেল যাতে কৃষকরা ভর্তুকিমূল্যে পেতে পারেন তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সরকারকে। সার, কীটনাশক, বীজ ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য না বাড়ার দিকেও সরকারের সচেতন তৎপরতা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার