অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর বার্তা

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৮

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য ওই এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী, বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য স্পিকারের নিকট পদত্যাগপত্র পেশ করেছেন। একই ঘটনার জেরে বিএনপি’র ঢাকা মহানগর উত্তর, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ছাত্র দলের ঢাকা মহানগর পশ্চিমের কমিটি বিলুপ্তসহ ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

কিশোর গ্যাং অপরাধ নির্মূলে দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।  মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখল অপচেষ্টার বিষয়টি সরকারকে প্রবল সমালোচনার সামনে ফেলে দিয়েছিলো। সরকার বিষয়টিকে উপেক্ষা না করে বরং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এরূপ অপকর্মের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা উপস্থাপন করলো। এর মধ্য দিয়ে সরকারি দলের পরিচয় দিয়ে যারা দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধকর্মে নিয়োজিত আছেন তারা সাবধান হবেন বলে আশা করা যায়। ক্ষমতাসীন দলের পদ—পদবিধারীদের বিভিন্ন অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকার অভ্যাস বহু পুরনো। সকল সরকারের আমলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। প্রচলিত রাজনীতির একটি মন্দ বৈশিষ্ট্য এটি। এর মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারের ভাবমূর্তি জনগণের সামনে ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অনেক সময় দলের উচ্চস্তরের কারও কারও মদদে এইসব ঘটনা ঘটে। যখন কোনো ঘটনার পিছনে ক্ষমতাসীন দলের উচ্চ পর্যায়ের কেউ জড়িত থাকেন তখন আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীও যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। আবার এই ধরনের ঘটনায় আইন—শৃঙ্খলা বাহিনীরও মদদ থাকে। রাড্ডার ঘটনায় স্থানীয় থানার নিষ্ক্রিয়তা দখলদারদের কয়েক ঘণ্টার দখলদারির অভিযানকে সহায়তা করেছে। সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সুনাম বিনষ্টকারী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিলো। সরকার ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে উপেক্ষা না করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, এটি স্বস্তির। 

 

 


একটি প্রবল গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য হাজারের উপরে মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, বহু মানুষ অঙ্গ হারিয়েছেন। এই বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার যে পরিবর্তন হলো তাকে অর্থবহ করে তোলতে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা আবশ্যক। সবকিছু যদি অতীত দিনের মতোই চলতে থাকে তাহলে জনগণ অবশ্যই প্রশ্ন করবে, তাহলে কেন স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ, রাজপথে অমিত সাহস প্রদর্শন, বিপুল আত্মত্যাগ করে এই পরিবর্তন আনা হলো ? জনগণের মধ্যে সঞ্চারিত এই প্রশ্নের উত্তর মিলানোর দায় শাসক দলের উপর বর্তায়। বলাবাহুল্য সারা দেশে এখন পূর্বেকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বহাল তবিয়তে চলমান থাকতে দেখা যায়। ক্ষেত্রবিশেষে তা বেড়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। বহু ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ হয় না।

 

অনেকে ভয়ে মুখ খুলেন না। অল্প যে কয়টি ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের বদৌলতে জনসমক্ষে প্রচারিত হয় তা দেখেই অবস্থা আঁচ করা যায়। এই অবনতিশীল অবস্থার লাগাম দ্রুত টেনে ধরতে না পারলে বিক্ষুব্ধ জনমত কেবল বাড়তেই থাকবে। এ বিষয়ে সরকার প্রধান যে অতিশয় সচেতন রয়েছেন উপরের ব্যবস্থা গ্রহণের বাস্তবতা এরই নিদর্শন। এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। বরং সর্বত্র এই ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।

 

 


ক্ষমতাসীন দল পাঁচ বছর সরকার পরিচালনার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। এর অর্থ হলো এই পাঁচ বছর জনগণ বিএনপি’র মাধ্যমে দেশে সুশাসন, শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও বিকাশ দেখতে চায়। রাজনৈতিক দলকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন নামক জনগণের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সত্যিকার গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় সাপেক্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজয়ী হতে এই জনগণের সন্তুষ্টি অর্জন একান্ত আবশ্যক। রাজনৈতিক দল জনগণের সেবা করার যে দীপ্ত প্রত্যয় নিয়ে রাজনীতি করেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর একটি পরীক্ষা হয়ে যায়। তখনই বুঝা যায় বিগত পাঁচটি বছরকে কে কীভাবে দেখেছেন। সুতরাং জনগণের আস্থা অর্জন ভিন্ন গণতান্ত্রিক দলের আর কোনো উপায় নেই। এই জায়গায় বর্তমান সরকারি দল কতটুকু সফলতা দেখাতে পারবে তাই এখন দেখার বিষয়। তবে প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যবস্থাদির বিবরণ থেকে প্রতিভাত হয় সরকার এ ব্যাপারে সচেতন আছেন। সচেতনতার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। এবং দেশের একটি কোণেও যাতে কোনো নিরীহ মানুষ অন্যায়ের শিকার না হন, অধিকার বঞ্চনার হতাশায় না ভোগেন, অনিরাপদ বোধ না করেন, সকল নাগরিক অধিকার পেতে পারেন; তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই সরকার ও সরকারি দলকে জনগণের মনোজগত জয় করতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার