প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০৫
একজন নাগরিকের জীবনে আয়কর রিটার্নের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং, ঋণ, সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়, বিনিয়োগ, বিদেশযাত্রা কিংবা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবায় কর-সংক্রান্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে আয়কর ব্যবস্থাও দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছে। ব্যক্তি করদাতাদের অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার বিস্তার তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্যেই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—
কর আইনজীবীর কাজ কি শুধু করদাতার রিটার্ন তৈরি করে অনলাইনে জমা দেওয়া? নাকি তিনি করদাতার আইনগত প্রতিনিধি, পরামর্শদাতা এবং কর-অধিকার রক্ষার পেশাজীবী?
প্রশ্নটি কেবল একটি পেশার মর্যাদার প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে করদাতার অধিকার, রাজস্ব প্রশাসনের কার্যকারিতা এবং দেশের কর-সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ।
রিটার্ন দাখিল সহজ হচ্ছে, কিন্তু করজটিলতা কি কমছে?
প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যক্তি করদাতাদের জন্য e-Return ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারিত করেছে। ২০২৫–২৬ করবর্ষে অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল; নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি এর বাইরে ছিল।
২০২৬–২৭ করবর্ষেও NBR e-Return-কে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে নতুন করবর্ষের e-Return চালু করা হয় এবং আগস্টে এ বিষয়ে নতুন FAQ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠতে পারে—
যদি একজন করদাতা নিজেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন, তাহলে কর আইনজীবীর প্রয়োজন কোথায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ‘রিটার্ন দাখিল’ এবং ‘কর-আইনি প্রতিনিধিত্ব’-এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে।
রিটার্ন হলো করদাতার আর্থিক তথ্যের একটি আইনগত ঘোষণা। কিন্তু সেই তথ্য কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ হবে, কোন আয় করযোগ্য, কোন ব্যয় গ্রহণযোগ্য, সম্পদের উৎস কীভাবে ব্যাখ্যা হবে, উৎসে কর্তিত কর কীভাবে সমন্বয় হবে, কোনো নোটিশের জবাব কীভাবে দিতে হবে কিংবা কর নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কী প্রতিকার রয়েছে—এসব প্রশ্ন কেবল একটি অনলাইন ফরম পূরণের মাধ্যমে শেষ হয় না।
অর্থাৎ—
ডিজিটাল রিটার্ন দাখিল একটি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া হতে পারে; কিন্তু কর-আইন মেনে চলা একটি পেশাগত ও আইনগত প্রক্রিয়া।
আইন নিজেই করদাতার প্রতিনিধিত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৭ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারার অধীনে কোনো করদাতা, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলে, আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্যধারায় অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হতে পারেন।
অর্থাৎ আইন প্রণেতা করদাতার সামনে এমন একটি বাস্তবতা স্বীকার করেছেন যে কর-সংক্রান্ত সব কার্যক্রমে প্রত্যেক করদাতার পক্ষে নিজে উপস্থিত হয়ে আইনগত বিষয় সামলানো সবসময় সহজ বা বাস্তবসম্মত নয়।
বর্তমান আইনি কাঠামোয় ‘authorized representative’-এর মধ্যে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী tax lawyer-ও অন্তর্ভুক্ত। NBR-এর প্রকাশিত আয়কর আইনের পাঠে tax lawyer-এর যোগ্যতার কাঠামোও উল্লেখ রয়েছে।
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়।
যে পেশাজীবী কেবল রিটার্নের তথ্য টাইপ করে জমা দেন, তিনি একটি সেবা দিচ্ছেন।
কিন্তু যিনি আইন অনুযায়ী করদাতার পক্ষে নির্দিষ্ট কার্যধারায় প্রতিনিধিত্ব করেন, তার ভূমিকা তার চেয়ে বিস্তৃত।
২০২৫ সালের সংশোধনী কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কর আইনজীবীর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ২০২৫ সালের সংশোধনীর আলোকে।
অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৭ সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধানে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক আয়কর কর্মকর্তার কর আইনজীবী হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে Board-এর certification-এর বিষয় যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নিবন্ধিত কর আইনজীবী সমিতির সদস্য হওয়ার শর্তও নির্ধারণ করা হয়।
এ পরিবর্তনের তাৎপর্য শুধু প্রশাসনিক নয়।
এটি একটি বার্তাও দেয়—
কর প্রতিনিধিত্ব একটি দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত পেশাগত ক্ষেত্র।
অর্থাৎ করদাতার হয়ে আয়কর কর্তৃপক্ষের সামনে দাঁড়ানো নিছক ফরম পূরণের কাজ হিসেবে দেখার সুযোগ ক্রমেই কমছে।
করদাতার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কোথায়?
বাংলাদেশের সাধারণ করদাতার একটি বড় অংশ আয়কর আইনকে জটিল মনে করেন। অনেকেই জানেন না—
কোন তথ্য কোথায় দিতে হবে;
কোন নথি সংরক্ষণ করতে হবে;
কোন আয় কীভাবে দেখাতে হবে;
ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও রিটার্নের মধ্যে সামঞ্জস্য কেন গুরুত্বপূর্ণ;
উৎসে কর কর্তনের তথ্য কীভাবে সমন্বয় করতে হবে;
কর্তৃপক্ষের নোটিশ এলে কীভাবে জবাব দিতে হবে;
অথবা কোনো আদেশে অসন্তুষ্ট হলে কী ধরনের আইনগত প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।
ফলে অনেক করদাতা রিটার্ন দাখিলের সময় একজন ব্যক্তির কাছে যান, কিন্তু সেই ব্যক্তি কখনো কখনো শুধু আগের বছরের তথ্য কপি করে নতুন বছরের রিটার্ন তৈরি করেন।
এখানেই ঝুঁকি।
এক বছরের ভুল তথ্য পরবর্তী কয়েক বছরের কর-ফাইলে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
আজকের একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ বিবরণী আগামী দিনের ব্যাখ্যার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।
আজকের ভুল শ্রেণিবিন্যাস ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত বিরোধের কারণ হতে পারে।
সুতরাং একজন পেশাদার কর আইনজীবীর কাজ হওয়া উচিত শুধু “এবারের রিটার্ন” দেখা নয়; বরং করদাতার দীর্ঘমেয়াদি tax compliance বিবেচনায় নেওয়া।
কর আইনজীবী কী করবেন?
একজন দায়িত্বশীল কর আইনজীবীর কাজকে কয়েকটি স্তরে দেখা যায়।
প্রথমত, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই।
করদাতার আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায়, বিনিয়োগ, ব্যাংক লেনদেন, উৎসে কর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আইনি বিশ্লেষণ।
সংগৃহীত তথ্য আয়কর আইন, বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন, SRO, নির্দেশনা ও প্রযোজ্য অন্যান্য বিধানের আলোকে বিশ্লেষণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, ঝুঁকি শনাক্তকরণ।
রিটার্নে কোনো অসঙ্গতি থাকলে করদাতাকে আগে থেকেই জানাতে হবে।
চতুর্থত, সঠিক উপস্থাপন।
আইনসম্মত তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে করদাতার প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঠিক প্রতিফলন ঘটে।
পঞ্চমত, কার্যধারায় প্রতিনিধিত্ব।
প্রয়োজনে করদাতার পক্ষে আয়কর কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট আপিল পর্যায়ে আইন অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
অর্থাৎ একজন কর আইনজীবীর কাজের সূত্রটি হতে পারে—
Information → Analysis → Compliance → Representation → Resolution
‘কম কর’ আর ‘সঠিক কর’—দুটির পার্থক্য বুঝতে হবে
করদাতাদের মধ্যে কখনো কখনো একটি ভুল ধারণা দেখা যায়—ভালো কর আইনজীবী মানেই যিনি কম কর দিতে পারবেন।
এই ধারণা বিপজ্জনক।
একজন পেশাদার কর আইনজীবীর লক্ষ্য হওয়া উচিত আইন ভঙ্গ করে কর কমানো নয়; বরং আইন অনুযায়ী করদাতার প্রকৃত কর-দায় নির্ধারণে সহায়তা করা।
আইনসম্মত tax planning এবং কর ফাঁকি এক বিষয় নয়।
আইন যে সুযোগ দিয়েছে, সেটি ব্যবহার করা এক বিষয়।
আর তথ্য গোপন করে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে কর এড়িয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
এই পার্থক্যটি করদাতাকেও বুঝতে হবে, কর পেশাজীবীকেও বুঝতে হবে।
কর আইনজীবী শুধু করদাতার প্রতিনিধি নন—কর-সংস্কৃতিরও অংশ
একজন দক্ষ কর আইনজীবী করদাতাকে শুধু একটি নোটিশের উত্তর দিতে সাহায্য করেন না।
তিনি করদাতাকে শেখাতে পারেন—
কেন সময়মতো রিটার্ন দিতে হবে;
কেন নথি সংরক্ষণ করতে হবে;
কেন আয় ও সম্পদের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন;
কেন ব্যাংক লেনদেন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি;
কেন উৎসে করের সনদ ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত;
এবং কেন কর-আইন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ একজন দক্ষ কর আইনজীবী এক অর্থে tax compliance educator হিসেবেও কাজ করেন।
এটি শুধু একজন করদাতার উপকার করে না; দীর্ঘমেয়াদে কর প্রশাসনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে কর আইনজীবীরও জবাবদিহি প্রয়োজন
শুধু করদাতার অধিকার নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না। কর আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব নিয়েও কথা বলতে হবে।
কর আইনজীবী যদি করদাতার ভুল তথ্য জেনেও তা ব্যবহার করেন, তাহলে সেটি পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন তৈরি করে।
করদাতাকে যদি অযথা ভয় দেখিয়ে অর্থ নেওয়া হয়, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়।
কোনো কাজ সম্ভব নয় জেনেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয়।
করদাতার গোপনীয় তথ্যের অপব্যবহার করা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—
কর আইনজীবীকে করদাতার স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, কিন্তু সেই স্বার্থ রক্ষা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে।
কারণ পেশাগত স্বাধীনতা এবং পেশাগত জবাবদিহি—দুটিই একই সঙ্গে প্রয়োজন।
ডিজিটাল যুগে কর আইনজীবীর ভূমিকা আরও বদলাবে
আগে রিটার্ন তৈরি করতে কাগজ-কলম, হিসাবের খাতা ও ফাইলের ওপর বেশি নির্ভরতা ছিল।
এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে।
NBR-এর e-Return, অনলাইন যোগাযোগ, ডিজিটাল পেমেন্ট, তথ্যের আন্তঃসংযোগ এবং স্বয়ংক্রিয় যাচাইয়ের ফলে কর প্রশাসন ক্রমেই data-driven হচ্ছে।
NBR-এর ওয়েবসাইটে ২০২৬–২৭ করবর্ষের আয়কর পরিপত্র, নির্দেশিকা এবং e-Return-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এর অর্থ হলো ভবিষ্যতের কর আইনজীবীকে শুধু আইন জানলেই হবে না।
তাকে প্রযুক্তিও জানতে হবে।
e-Return জানতে হবে।
ডিজিটাল নথি বুঝতে হবে।
করদাতার তথ্য বিশ্লেষণ করতে জানতে হবে।
আইন এবং data—দুটিকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে জানতে হবে।
তাহলে ভবিষ্যতের কর আইনজীবী কেমন?
ভবিষ্যতের দক্ষ কর আইনজীবী হবেন একই সঙ্গে—
আইনজীবী, কর-পরামর্শদাতা, বিশ্লেষক, compliance adviser এবং representative।
তিনি শুধু বলবেন না—
“আপনার রিটার্ন জমা হয়ে গেছে।”
তিনি বলবেন—
“আপনার তথ্য আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়েছে; কোথায় ঝুঁকি আছে, কোথায় নথি প্রয়োজন, কোন বিষয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং কীভাবে আইনসম্মতভাবে তা মোকাবিলা করা যায়—এসব আমরা দেখেছি।”
এই পরিবর্তনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কর ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ শুধু আরও বেশি রিটার্ন দাখিলের মধ্যে নয়।
ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আরও বেশি compliance, আরও ভালো taxpayer service এবং আরও শক্তিশালী professional representation-এর ওপর।
করদাতার অধিকার ও রাষ্ট্রের রাজস্ব—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ
কেউ যেন মনে না করেন করদাতার অধিকার রক্ষার অর্থ রাজস্ব আদায়ের বিরোধিতা।
বরং একটি সুস্থ করব্যবস্থায় দুটি বিষয় পাশাপাশি চলে—
রাষ্ট্রের ন্যায্য রাজস্ব আদায়ের অধিকার এবং করদাতার ন্যায্য আইনগত অধিকারের সুরক্ষা।
করদাতা যদি প্রকৃত কর দেন, রাষ্ট্র রাজস্ব পায়।
কিন্তু করদাতা যদি আইন না বুঝে অযথা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন, তাতে করদাতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি প্রশাসনিক সময় ও সম্পদেরও অপচয় হতে পারে।
সুতরাং দক্ষ কর আইনজীবী করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে আইনভিত্তিক যোগাযোগ ও সমাধানের পথ তৈরি করতে পারেন।
শেষ প্রশ্নটির উত্তর
তাহলে কর আইনজীবী কি শুধু রিটার্ন দাখিলের সহায়ক?
আইনগত কাঠামো দেখলে উত্তরটি এত সংকীর্ণ নয়।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৭ করদাতার অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্দিষ্ট কার্যধারায় উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে এবং tax lawyer-কে সেই প্রতিনিধিত্ব কাঠামোর মধ্যে রেখেছে। ২০২৫ সালের সংশোধনীগুলোও tax lawyer-এর যোগ্যতা, certification ও পেশাগত কাঠামোর বিষয়কে আরও নির্দিষ্ট করেছে।
তাই কর আইনজীবীর পরিচয়কে শুধু—
“রিটার্ন বানিয়ে দেন যিনি”
—এই একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ করা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
একজন প্রকৃত কর আইনজীবীর কাজ আরও বিস্তৃত—
করদাতাকে আইন বোঝানো,
করদাতার তথ্য বিশ্লেষণ করা,
আইনসম্মত compliance নিশ্চিত করতে সহায়তা করা,
ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা,
প্রয়োজনে প্রতিনিধিত্ব করা এবং
আইনের সীমার মধ্যে করদাতার ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা করা।
আজ যখন আয়কর ব্যবস্থা দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছে, তখন কর আইনজীবীর গুরুত্ব কমছে—এমনটি ভাবার চেয়ে বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত:
প্রযুক্তি যখন রিটার্ন দাখিল সহজ করে দিচ্ছে, তখন কর আইনজীবী কি তাঁর পেশাকে রিটার্ন দাখিলের বাইরে নিয়ে গিয়ে সত্যিকারের Tax Advisory ও Legal Representation-এর পর্যায়ে নিতে প্রস্তুত?
কারণ ভবিষ্যতে করদাতা হয়তো নিজেই রিটার্ন জমা দেবেন।
কিন্তু—
আইন বুঝতে, ঝুঁকি শনাক্ত করতে, অধিকার জানতে এবং জটিল কর-কার্যধারায় নিজের অবস্থান সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে একজন দক্ষ পেশাজীবীর প্রয়োজন থেকেই যাবে।
আর সেখানেই কর আইনজীবীর প্রকৃত পেশাগত মূল্য।
রিটার্ন দাখিল একজন করদাতার একটি কাজ শেষ করে;
কিন্তু একজন দক্ষ কর আইনজীবী করদাতার সঙ্গে আইন ও রাষ্ট্রের সম্পর্কটিকে সঠিক পথে পরিচালনায় সহায়তা করেন।
লেখক : কর আইনজীবী, অডিটর -কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬-২০২৭
সুনামগঞ্জ জেলা কর আইনজীবী সমিতি
সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন