গল্পের উৎস আড্ডা

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ২৩:৪৭

আকাশছোঁয়া জননন্দিত এক সব্যসাচী লেখক। সাহিত্যের প্রায় পুরোটাই তার দখলে। গল্প, উপন্যাস নাটক এবং সিনেমা সবখানেই উনার রাজত্ব। যা লিখছেন তাই পাঠকরা গোগ্রাসে গিলছে। টিন এইজ থেকে শুরু করে মধ্য বয়স্কা ভারিক্কী গৃহিণী সবাই আছে এই যা পাই সবই গিলে নেবার দলে। বাজারে মার মার কাটতি। প্রকাশকরা চাতক নয়নে চেয়ে থাকেন লেখকের এলোমেলো করে রাখা চুল সহ মাথার দিকে। যদি একবার তাকিয়ে শুধু বলেন, হঁ্যা পেয়ে যাবেন পান্ডুলিপি প্রায় শেষ করে এনেছি। সাথে সাথে প্রকাশকের যোগ ক্যামেস্টরী শুরু। মানে বই বেরুবার সাথে সাথে কত লাভ হবে তা চোখ মুজে বলে দিতে পারেন। সঙ্গে উপর দিকে ইশারা করে চট করে বলে নেয়া। মওলা তোমার ঘরে কি দৌলতের কোন কমতি আছে? সময়মত একটু দয়া করে যেও মওলা। 

 


লেখকের আজকাল আবার অন্য বিষয়ে বেশি মনোযোগ চলছে। নতুন নতুন বিষয় আসয় নিয়ে আজকাল পেরেশান বেশি। যে অতীতের উপর দাঁড়িয়ে এতো দূর এলেন আজকাল সেই সময় ফ্রেমের কাঁচ নাকি ঝাপসা লাগছে চোখে। দোটানায় পড়ে আছেন। ভাবছেন এই মুহুর্তে কি করা। রসায়নে অভিজ্ঞ বটে। তবে এইখানে অনেক রসায়ন সূত্র বেশ জটিল মনে হচ্ছে। ভাবছেন ৩০ বছরের জীবন চিত্রসাঁটা এতো প্রিয় মনোরম ছবিখানা সাথে নিয়ে চলবেন না পুরো ফ্রেমটি আগাগোড়া বদলে দিবেন। এতকাল পূর্বের ঐতিহ্যবাহী তুলো কাঠের মেহগনি রঙের ফ্রেমখানা আপাতত: এক পাশে রেখে চকচকে নতুন আনকোড়া স্টেইনলেস স্টিলের ফ্রেইম দিয়ে  আরেকটি জীবনছবি বাঁধিয়ে নিবেন কিনা তা নিয়েই আজকাল বেশি বেশি ভাবনায় পড়ে আছেন বিখ্যাত সেই লেখক। দু’হাতে সমানে লিখে যাচ্ছেন। কল কল করে ে¯্রাতস্বিনি

 


নদীর স্বচ্ছ জলের ন্যায় লেখা আসছেই আসছে। যা লিখছেন সবই চলছে। এমনি এক বাদল দিনে আকাশ ভেঙে আসা বৃষ্টির ঝর ঝর শব্দের মোহনীয় শব্দে বিভোর থাকা লেখকের মনে আসল পুরানো একটি গল্পের কথা। অজান্তে হেসে উঠলেন বেশ শব্দ করে। যা বারান্দার জানালা গলিয়ে চলে গেলো বসার ঘরে। লেকিন নামের স্ত্রী চমকে উঠলেন— ও বেলায় এমনতর হাসি? কেনো ? প্রশ্ন রাখলেন নিজের কাছে। আজকাল অনেক প্রশ্নের ভীড় আপন মনের ভাঁজে ভাঁজে। 

 


প্রিন্সেস ডায়নার বিখ্যাত উক্তি টি আজ বার বার নিজ মনে টুক টুক করে কড়া নেড়ে যায়। * চার্লসের পরিবারে আজকাল অনেক ভীড়*। তেমনি নিজেরও মাঝে মাঝে মনে হয়। আপন আঙ্গিনায় কি অনাহুতদের ভীড় বেড়েই চলেছে। তা কি ঠেকানো যাবে? না ঠেকানো গেলো না। উত্তরের  পর্বতমালার দেওয়ালে যে শব্দের গাঁথুনির পত্তন হলো তার শেষ পরিসমাপ্তি হলো দক্ষিন সাগরের একটি কোরাল পাথরের সাগর বেষ্টিত তক্ষশীলায় তৈরী এক কামরার কুটিরে। 

 


হাসি চলছেই তা আপন মনে। হাসছেন আর ভাবছেন
ইর্ষার রূপ যে কতই কদাকার আর বিশ্রী তা আজ
আর অভিধান খুঁজে বের করতে হয় না। নিজেই দেখেলেন নিজ চোখে, তা বুদ্ধির ফাঁদ পেতে তুলে আনলেন তথাকথিত বিরাট ও সর্বজন পূজনীয় এক লেখকের ভিতরে ক্লেদাক্ত সরূপ মাখা চিত্র। 
লেখা লিখির শুরুর দিকে ঘটা করে একদিন গেলেন আরেক বিখ্যাত লেখকের নিকট। বড্ড শক্ত লেখক। কট কট করে যেমন সব সত্য অকপটে বলে যান লিখেন ও তেমনি।  তখনকার সময়ে বিখ্যাত এক কবিকে বলে দিলেন তিনি নাকি পারস্য সাহিত্যের ভালো চর্চা করছেন। তেমনি আরো অনেককে গঙ্গার পাড়ের ধোপিদের মত বঙ্গ সাহিত্যের নানা চৌকাঠে আছড়ে দিলেন যথা সময়ে।  সমীহ করা জনপ্রিয়তা। মোটা ফ্রেমের গোল আকারের চশমা দিয়ে দেখা অনেক অসঙ্গতি অকপটে সাহসি উচ্চারনে বলেই চলছেন। 

একটি বিষয়ে মিল আছে দুজনার অনেকটা। সম্ভবত 
আদ্যাক্ষর টাইপের কিছু। গুটি গুটি পায়ে দু চারটে লেখা বগলদাবা করে উপস্থিত হলেন সম্মানীত গুরুজন সম শিক্ষকের কাছে। সব কিছু শুনে গুরু বলে দিলেন * মানিক পড়ো। তাহলেই লেখালিখিতে হাত আসবে, সাথে নামদাম। শিষ্যসম লেখক তা শুনলেন কিছুদিন তার চর্চা ও করলেন যথানিয়মে। আবার গেলেন গুরুজনের সান্নিধ্যে। জবাব এলো আগেরই মতো। বেশি বেশি করে মানিক পড়ো। বাসায় ফেরত আসতে আসতে মাথায় খেলে গেলো একটি  পরিকল্পনা। পরদিন গুরুর উপদেশ চরিত্র মানিক মানে  গল্পকার মানিক  বন্দ্যাপাধ্যায়ের পুরানো একটি লেখা লিখে নিয়ে গেলেন গুরুর কাছে। দুদিন পর আবার  যখন গুরুর পাশে গেলেন সেই দিনও লেখক শুনলেন সেই অতি পুরাতন ও সদাচালু বিখ্যাত সেই উপদেশ* মানিক পড়ো*। 
ব্যাস লেখক আর কখনোই, কুচ পরোয়া নাই টাইপের নানা বিতর্কিত প্রবন্ধ লেখনেআলা লেখকের কাছে আর যান নি। কেননা বাংলাদেশের লেখালিখির জগতে আলোড়ন তুলে আনা অসামান্য জনপ্রিয় লেখক বুঝে বা ধরে নিলেন* মানিক পড়ো উপদেশ টি ভাল লেখার কামনায় নয়। তার উৎপত্তি হলো সেই সময়কার জনপ্রিয় লেখকের বাংলা ভারত জুড়ে ভীষণ জনপ্রিয়তায় ইর্ষাকাতর হয়েই এই অসামান্য (?) উপদেশ। আড্ডায় শোনা গেলো সেই বিখ্যাত *মানিক পড়ো থিওরী নাকি আজো বিরতিহীন ভাবে চলছে। উপদেশটা হলো ভাল লেখক হতে গেলে *মানিক পড়ো।

উপসম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার