পরিবর্তনই ইতিহাসের মূল সত্য

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ২৩:২৮

নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ার পাঁচ মাস পর বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উৃন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কণ্ঠে একরাশ আক্ষেপ ঝরে পড়তে দেখা যায়। তিনি একজন সংবেদনশীল মানুষ, পরিশীলিত রাজনীতিক এবং প্রগতিকামী ব্যক্তি। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামনে আসা নতুন বাংলাদেশকে ঘিরে যেমন আঠারো কোটি মানুষের স্বপ্ন—আকাক্সক্ষা ছিলো, তেমনি ছিলো মীর্জা ফখরুলেরও। আগের পচা—গলা—দুর্গন্ধযুক্ত ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন এক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিলো সকলের কাছে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সকলের প্রত্যাশারই অপমৃত্যু ঘটেছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সঙ্গত কারণেই মীর্জা ফখরুল আরও আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু তাও দেখা গেলো না কাক্সিক্ষত আকারে। তাই এই প্রবীণ মন্ত্রীর কণ্ঠে শুকনো পাতা ঝরার মতো একরাশ আক্ষেপ বেরিয়ে এলো। তিনি বললেন, ‘কিছুই বদলায়নি, ঘুষখোর আগের মতোই ঘুষ খাচ্ছে’। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এই হতাশা প্রকাশ করেন। সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো সত্যিকার অর্থেই এবার পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত আমাদের মধ্যে সেটি আমি দেখছি না।

 

প্রশাসনের পুরনো সংস্কৃতি বহাল রয়েছে। শুধু সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সমাজের প্রত্যেক মানুষের মন মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। অন্যথায় জুলাইয়ের আত্মত্যাগ কাক্সিক্ষত ফলাফল আনবে না।’ তিনি যথার্থভাবে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। এ কথাও সত্য— সকলের মাঝেই পরিবর্তনের ইতিবাচক ধারার সূচনা ঘটতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো, এতো আন্দোলন, এতো রক্তদান এতো প্রাণ বিসর্জন, এতো অঙ্গদান সত্বেও কেন কাক্সিক্ষত পরিবর্তন ঘটলো না ? সব কিছুই যদি আগের মতোই থাকে তাহলে কেন এতো বিশাল আত্মত্যাগ ? এখানে সবচাইতে জরুরি প্রশ্ন হলো, পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিলো। স্বৈরাচারী সরকারের পরিবর্তন না—কি এর সাথে যুক্ত ছিলো সমাজ বদলের আকাক্সক্ষা। এই দুইয়ের পরিষ্কার ধারণা ও আদর্শগত দৃঢ়তা ছাড়া সমাজে সুস্থ চর্চার যে স্বপ্ন দেখা হয় তা অর্জন করা কখনও সম্ভব নয়। ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে, স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, গণতন্ত্র ফিরে এসেছে; এসব সত্ত্বেও সেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সেই প্রশাসনিক সংস্কৃতি, সেই ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি চর্চা; এসবের কিছুরই বদল ঘটেনি। বদল ঘটেনি বলেই ঘুষখোর এখনও আগের মতোই ঘুষ খাওয়ার সাহস দেখাতে সক্ষম হচ্ছে। 

 


সমাজ বদলের প্রশ্নটি নিছক ব্যক্তিবিশেষের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করে না। এর পিছনে থাকতে হয় সুদীর্ঘ প্রয়াস, আদর্শিক দৃঢ়তা, সংকল্পবদ্ধ কর্মীবাহিনী, সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক অবস্থান এবং স্পষ্ট লক্ষ্য। আমাদের দেশে একাত্তরে পরিবর্তন এসেছে, নব্বইয়ে পরিবর্তন এসেছে, চব্বিশে পরিবর্তন এসেছে। সব পরিবর্তনের পিছনেই জনগণের আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিলো— প্রচলিত বৈষম্যময় শোষণমূলক সমাজ কাঠাামোর বদলে একটি গণমুখী কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বারবার সাধারণ মানুষের স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছে। বিজয়ের পর সাধারণ মানুষ যথারীতি ব্রাত্য অবস্থানে চলে যায় আর কুলীন আসন অলঙ্কৃত করে ‘পুরনো সব শকুন’। পরিবর্তন ও স্বপ্নভঙ্গের এই পৌনঃপুনিকতা কতোদিন ধরে চলতে থাকবে, এ এক মহাধাঁধা। এর কোনো উত্তর নেই। তবে কাঠামোগতভাবে দেখলে বলা যায়— যতোদিন পর্যন্ত পরিবর্তনের পিছনের আদর্শ এবং শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করা না যাবে ততোদিন এই পৌনঃপুনিকতা চলতেই থাকবে। তবে ইতিহাসের চরম সত্য হলো, ক্রমাগত পরিবর্তন। মীর্জা ফখরুলও তা জানেন। আর জানেন বলেই ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত পরিবর্তনের ইতিহাস’। এই ধ্রুবসত্য থেকেই আমরা বুঝতে পারি কোনো পরিবর্তনই একেবারে নিষ্ফল হয় না। প্রতিটি পরিবর্তনের পরই বৃহত্তর পরিসরে না হোক অল্প পরিসরে হলেও কিছু না কিছু অর্জন হয়। এই পথ ধরেই আমরা একসময় স্বপ্নের সমান বড়ো পরিবর্তনটাও করে ফেলতে পারবো। ধীমান এই রাজনীতিক হতাশার পাশাপাশি আলোর মতো উজ্জ্বল যে সম্ভাবনার কথা বলেছেন তা হলো— ‘আমি আশাবাদী এ কারণে যে— পরিবর্তনটা দেখছি একজনের মধ্যে— তিনি তারেক রহমান। তিনি চেষ্টা করছেন, নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন।’ মন্ত্রীর এই প্রগাঢ় বিশ^াসের সাথে সংহতি প্রকাশ করার মতো লোকের অভাব নেই দেশে। এই বিশ^াসে এখনও অনেকে আশা রাখেন, মীর্জা ফখরুল রেখেছেন, আমরাও রাখছি। আশাকে জিইয়ে রাখতে হয়। নতুবা নৈরাশ্যের ঘন অন্ধকার দশদিক গ্রাস করে। আমরা মীর্জা ফখরুলের চিহ্নিত আশার বাতিঘর তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের এগিয়ে চাওয়া দেখতে চাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার